বমি (Vomiting)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

লক্ষণটি পেটে খাবার না রাখতে পারা এবং এমেসিস (Emesis) হিসেবেও পরিচিত।

মুখের মধ্য দিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে নাকের মধ্য দিয়ে পাকস্থলীতে অবস্থিত বস্তু দ্রুত নির্গত হওয়াকে বমি করা বোঝায়। বমি বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হিসেবে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি গ্যাসট্রাইটিস বা বিষক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবেও হয়ে থাকে। এছাড়া ব্রেন টিউমার, খুলির ভিতরকার চাপ বৃদ্ধি এবং আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের সংস্পর্শের কারণেও বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বমি বমি ভাব হওয়াকে নওসিয়া বলা হয়। বমি হওয়ার পূর্বে অনেক ক্ষেত্রে এমন অনুভূতি হতে পারে। তবে এমন অনুভূতি হওয়ার পর সব সময় বমি হয় না। নওসিয়া ও বমি কমনোর জন্য অনেক সময় অ্যান্টিএমেটিক ঔষধ (Antiemetics) প্রয়োজন হয়। বমি হওয়ার সমস্যা তীব্র রূপ ধারণ করলে এবং এজন্য পানিশূন্যতা দেখা দিলে শিরায় স্যলাইন নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-        

শ্বেতরক্ত কণিকা সম্পর্কিত রোগ (White blood cell disease) ভিটামিন ‘বি’ এর অভাব জনিত রোগ (Vitamin B deficiency)
ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস (Chronic pancreatitis) পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ (Gastrointestinal hemorrhage)
অ্যাপেন্ডিসাইটিস (Appendicitis) ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)
ম্যালেরিয়া (Malaria) মেনিনজাইটিস (Meningitis)
মাইগ্রেইন (Migraine) ডায়াবেটিক কিটোএ্যাসিডোসিস (Diabetic ketoacidosis)
ডায়পার র‍্যাশ/ফুসকুড়ি (Diaper rash) বিষক্রিয়াজনিত হেপাটাইটিস (Hepatitis due to a toxin)
গলার ইনফেকশন (Strep throat) পাকস্থলীর ক্যান্সার (Stomach cancer)
কান পাকা/কানের প্রদাহ (Otitis media) ফ্লু (Flu)
খাবারে অ্যালার্জি (Food allergy) ডিম্বাশয়ের সিস্ট (Ovarian cyst)
পিত্তথলির পাথর (Gallstone) কিডনিতে পাথর (Kidney stone)
বদহজম (Indigestion) কিডনি ফেইলিয়র (Kidney failure)
গ্যাস্ট্রাইটিস (Gastritis) অন্ত্রের রোগ (Intestinal disease)
গ্যাস্ট্রোডিওডেনাল আলসার (Gastroduodenal ulcer) পেল্ভিক ইনফ্লামেটোরি ডিজিজ (Pelvic inflammatory disease (PID))
গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ/ বুকজ্বালা (Gastroesophageal reflux disease) পেরিটোনাইটিস (Peritonitis)
ফুসফুসের অ্যাবসেস/পুঁজ (Abscess of the lung) বিনাইন কিডনি সিস্ট (Benign kidney cyst)
সিলিয়াক ডিজিজ (Celiac disease) সেরিব্রাল এডিমা (Cerebral edema)
পাইলোরিক স্টেনোসিস (Pyloric stenosis) ট্রাইকোমোনাস ইনফেকশন (Trichomonas infection)
গলব্লাডার ক্যান্সার (Gallbladder cancer) হিট স্ট্রোক (Heat stroke)
অ্যাসেন্ডিং কোলাঞ্জাইটিস (Ascending cholangitis) হাইপোথার্মিয়া (Hypothermia)
ফরেন বডি ইন দি থ্রোট (Foreign body in the throat) ইনটেস্টাইনাল ম্যালঅ্যাবজর্পশন (Intestinal malabsorption)
র‍্যাবডোমায়োলাইসিস (Rhabdomyolysis) হারপেনজিনা (Herpangina)
ক্রন ডিজিজ (Crohn disease) ইলিয়াস (Ileus)
কনকাশন (Concussion) ক্রুপ (Croup)
সিস্টিসারকোসিস (Cysticercosis) ডিজলোকেশন অফ দি ফুট (Dislocation of the foot)
ফ্লুইড ওভারলোড (Fluid overload) ইশকেমিয়া অফ দি বাওয়েল (Ischemia of the bowel)
ইরাইথেমা মাল্টিফর্মি (Erythema multiforme) পায়েলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis)
সাবঅ্যারাকনয়েড হেমরয়েজ (Subarachnoid hemorrhage) ল্যাবিরিন্থাইটিস (Labyrinthitis)
গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস (Gastroparesis) ম্যাগনেসিয়াম ডেফিসিয়েন্সি (Magnesium deficiency)
অ্যাবসেস অফ নোজ / নাকের ফোঁড়া (Abscess of nose) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension)
হায়াটাল হার্ণিয়া (Hiatal hernia) অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস (Acute bronchitis)
হার্শপ্রাং ডিজিজ (Hirschsprung disease) মিউকোসাইটিস (Mucositis)
হাইডেটিডিফর্ম মোল (Hydatidiform mole) ফরেন বডি ইন দি গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্ট (Foreign body in the gastrointestinal tract)
নন-ইনফেকশস গ্যাস্ট্রোয়েন্টেরাইটিস (Noninfectious gastroenteritis) হাইড্রোসেফালাস (Hydrocephalus)
ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral hemorrhage) ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ (Intracranial hemorrhage)
ইন্টাসাসসেপশন (Intussusception) অ্যালকোহল ইনটক্সিকেশন (Alcohol intoxication)
হাইপারএমেসিস গ্রেভিডেরাম (Hyperemesis gravidarum) হাইপারকেলেমিয়া (Hyperkalemia)
হাইপারনেট্রেমিয়া (Hypernatremia) বিনাইন প্যারোক্সিজমাল পজিশনাল ভার্টিগো (বি-পি-পি-ভি) (Benign paroxysmal positional vertigo (BPPV))
হাইপোনেট্রেমিয়া (Hyponatremia) ইন্টেস্টাইনাল অবস্ট্রাকশন (Intestinal obstruction)
অ্যানিমিয়া অফ ক্রনিক ডিজিজ (Anemia of chronic disease) সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage)
নিউমোকোনিওসিস (Pneumoconiosis) ফ্র্যাকচার অফ দি স্কাল (Fracture of the skull)
ব্যাসেট ডিজিজ (Behcet disease) নিউমোনিয়া (Pneumonia)
কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং (Carbon monoxide poisoning) কোলিডোকোলিথায়াসিস (Choledocholithiasis)
ডাইভারটিকুলাইটিস (Diverticulitis)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবি, ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও রোগের জন্য বমি হয়ে থাকে। হজম করতে অসুবিধা হয় এমন খাদ্য (যেমন- বেশি পরিমাণ মিষ্টি) এবং ঠিক মতো সিদ্ধ না হওয়া মাছ-মাংস খেলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতি:  শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিকদের ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অধিক মাত্রায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। সমস্যাগুলি নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

উত্তরঃ  বমির সময় চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালী ফেটে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

হেলথ টিপস্‌

বমি হওয়া প্রতিরোধ করতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করুন-

  • হজম করতে অসুবিধা হয় এমন খাদ্য গ্রহণ না করা।
  • যদি গরম খাবারের গন্ধ আপনার কাছে অস্বস্তিকর লাগে তাহলে ঠান্ডা খাবার খান।
  • দিনে ৩ বেলা বেশি পরিমাণে না খেয়ে অল্প অল্প করে ৬ বার খাদ্য গ্রহণ করুন।
  • খাওয়ার পর মাথার অবস্থান পায়ের উপরে রেখে বিশ্রাম নিন।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ গ্লাস পানি পান করুন।
  • খাদ্য গ্রহণের সময় পানি যতোটা সম্ভব কম গ্রহণ করুন।