খিঁচুনি (Seizures)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

খিঁচুনি [এপিলেপটিক সিজার(epileptic seizure)] বলতে ক্ষণস্থায়ীভাবে মস্তিষ্কের নিউরনের মাত্রাতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক ক্রিয়াকে বোঝানো হয়। এই সমস্যার ফলস্বরূপ একজন ব্যক্তির শরীরে তীব্র নড়াচড়া  হতে পারে [(টনিক ক্লোনিক সিজার)( tonic-clonic seizure)], বা ক্ষণিকের জন্য তার জ্ঞান চলে যেতে পারে [অ্যাবসেন্স সিজার (absence seizure)]।

খিঁচুনির কারণে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, শরীরের অস্বাভাবিক নড়াচড়া [টনিক( tonic) বা ক্লোনিক (clonic)] এবং কিছু মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির কাঁপুনি না হলেও শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোনো উদ্রেককারী বিষয় ছাড়া বারবার এ ধরনের সমস্যা হলে তাকে মৃগীরোগ বলে। তবে মৃগীরোগ নেই এমন ব্যক্তিদেরও খিঁচুনি হতে পারে।

 

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:        

  • মৃগীরোগ (Epilepsy)
  • অতিরিক্ত মদ্যপান (Alcohol abuse)
  • মাইগ্রেইন (Migraine)
  • বিকলাঙ্গতা (Developmental disability)
  • স্ট্রোক (Stroke)
  • সেরেব্রাল পালসি (Cerebral palsy)
  • মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া (Alcohol withdrawal)
ব্রেইন ক্যান্সার (Brain cancer) মেনিনজাইটিস (Meningitis)
স্ট্রোক (Stroke) মৃগী রোগ (Epilepsy)
হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia) অটিজম (Autism)
প্রিম্যাচিউর রাপচার অফ অ্যাম্নিওটিক মেমব্রেন (Premature rupture of amniotic membrane) শিঙ্গেলস (হার্পিস জস্টার) (Shingles (herpes zoster))
সেরিব্রাল পালসি (Cerebral palsy) হেমিপ্লেজিয়া (Hemiplegia)
কনভারশন ডিজঅর্ডার (Conversion disorder) ক্রিপ্টোকোক্কোসিস (Cryptococcosis)
কনডাক্ট ডিজঅর্ডার (Conduct disorder) সিস্টিসারকোসিস (Cysticercosis)
ডেভলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি (Developmental disability) প্রাইমারী ইনসমনিয়া (Primary insomnia)
এসেনশিয়াল ট্রেমর (Essential tremor) সাবঅ্যারাকনয়েড হেমরয়েজ (Subarachnoid hemorrhage)
ম্যাগনেসিয়াম ডেফিসিয়েন্সি (Magnesium deficiency) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension)
হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি (Hepatic encephalopathy) মেনিনজিওমা (Meningioma)
মোয়ামোয়া ডিজিজ (Moyamoya disease) হাইড্রোসেফালাস (Hydrocephalus)
ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral hemorrhage) ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ (Intracranial hemorrhage)
হাইপোক্যালসেমিয়া (Hypocalcemia) হাইপোনেট্রেমিয়া (Hyponatremia)
সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage) কঞ্জেনিটাল ম্যালফরমেশন সিন্ড্রোম (Congenital malformation syndrome)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-

  • শরীরে গ্লুকোজ খুব কম বা বেশি থাকা।
  • স্ট্রোক।
  • অক্সিজেনের কম মাত্রা [যেমন- তীব্র অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্‌ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (obstructive pulmonary disease) বা এমন কোনো রোগ যা পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন গ্রহণ করতে বাধা দেয়।
  • সেন্ট্রাল নারভাস সিস্টেমের ইনফেকশন, যেমন- মেনিনজাইটিস( meningitis) বা এনসেফালাইটিস (encephalitis)]।
  • উচ্চ মাত্রার জ্বর।
  • মাদকাসক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি ঔষধ গ্রহণ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতি:  কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মানুষের  মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর: খিঁচুনি হওয়া দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এই ধরনের ঔষধ গ্রহণ কখন বন্ধ করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। বিষয়টি ঔষধৈর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অন্তঃপ্রতিক্রিয়া এবং মূল্যের উপর নির্ভরশীল। তাই বিষয়টি সম্পর্কে সাধারণ চিকিৎসক বা নিউরোলোজিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

উত্তর: বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আক্রান্ত ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল। প্রাইমারি জেনারালাইজড এপিলেপ্সি সিনড্রমস্‌ (generalized epilepsy syndromes) এবং ফেবরাইল সিজারের (febrile seizures) ক্ষেত্রে চিকিৎসা করা হলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তবে সেকেন্ডারি জেনারালাইজড এপিলেপ্সি সিনড্রমের চিকিৎসা করা কঠিন হতে পারে। যদিও অত্যাধুনিক ঔষধ, কেটোজেনিক ডায়েট (ketogenic diet) এবং এপিলেপ্সির সার্জারির মাধ্যমে খিঁচুনির মাত্রা ও আচরণের উপর এর প্রভাব কমানো সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করে খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব-

  • প্রতি রাতে পর্যাপ্ত সময় ধরে ঘুমানো (ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা)।
  • মানসিক চাপ কমানো ও শরীর শিথিল করার পদ্ধতি শেখা।
  • মাদবদ্রব্য পরিহার করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণ।
  • তীব্র ও ঝলকানি দেওয়া আলো, বা চোখের উপর চাপ সৃষ্টি করে এমন আলো  এড়িয়ে চলা।
  • ভিডিও গেমস্‌ না খেলা।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।