নাক দিয়ে রক্ত পড়া (Nosebleed)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

লক্ষণটি রক্তপূর্ণ নাক, এপিসট্যাক্সিস (Epistaxis) ও নাক থেকে রক্তক্ষরণ হিসেবেও পরিচিত।

এপিসট্যাক্সিস বলতে নাক থেকে রক্তক্ষরণ হওয়াকে বোঝায়। এই সমস্যা হলে রক্ত সাধারণত নাসারন্ধ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে। এপিসট্যাক্সিস দুই ধরনের হতে পারে: অ্যান্টেরিয়র (anterior)[এটি বেশি হয়ে থাকে] এবং পোস্টেরিয়র (posterior)[এটি কম হয়ে থাকে, তবে এর জন্য চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন]। এপিসট্যাক্সিস তীব্র রূপ ধারণ করলে রক্ত ন্যাসোল্যাকরিমাল ডাক্ট (nasolacrimal duct) দিয়ে এসে চোখ থেকে বের হতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক ও জমাট বাঁধা রক্ত প্রবাহিত হয়ে পাকস্থলীতে চলে গিয়ে বমির (বা বমির ভাব) উদ্রেক করতে পারে। তবে খুব কম ক্ষেত্রে সমস্যাটি প্রাণঘাতী হয়ে থাকে।

নাকে বহুসংখ্যক রক্তনালী রয়েছে। এর ফলে মুখমণ্ডলে আঘাত লাগলে নাক থেকে রক্তপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই রক্তপাত কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্তও হতে পারে। নাকের ঝিল্লি (membrane) শুকিয়ে গেলে, ফেটে গেলে বা সেখানে শক্ত আবরণ সৃষ্টি হলে স্বাভাবিক ভাবেই নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে। সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়ায় বা শীতকালে ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হিটার দ্বারা বাতাস শুষ্ক ও গরম হলে এই সমস্যা বেশি হয়। রক্ত জমাট বাঁধা দূর করার জন্য ওয়ারফেরিন, অ্যাসপিরিন অথবা ইনফ্লামেশনরোধী ঔষধ গ্রহণ করলে নাক থেকে রক্ত নির্গত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ইনফেকশন, ট্রমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, নন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাদক সেবন ও বংশগত কিছু রক্তের সমস্যাও নাক থেকে রক্ত পড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

  • রক্ত পাতলাকারী ঔষধ সেবন, যেমন- হেপারিন|
    • সর্দি-জ্বর|
    • সাইনুনাইটস (Sinusitis)|
    • শুষ্ক আবহাওয়া|
    • উচ্চ রক্তচাপ|
    • অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Allergic rhinitis)|
    • নাকে আঘাত লাগা|

 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

 

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।  হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সাধারণত শিশুদের এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। নাকের ভিতরকার আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে এটি প্রশমিত করা যায়। ঘরের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে এবং ময়েশ্চারাইজার বা পিচ্ছিলকারী পদার্থ (ভ্যাসলিনের মতো পেট্রোলিয়াম দ্রব্য নয়) ব্যবহার করে  নাকের ভিতরকার আর্দ্রতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। এছাড়া নিয়মিত নাকের স্যালাইন স্প্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা প্রতিরোধ করা যেতে পারে-

  • নাক না খোঁটা।
  • সাবধানে নাক ঝাড়া।
  • ধূমপান না করা।
  • শীতকালে ঘরের পরিবেশ শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা।
  • নাকের স্প্রে ব্যবহার (চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া) করে নাকের ভিতরের অংশ আর্দ্র রাখা।
  • ঘুমানোর পূর্বে নাকের ভিতরে নাকের জেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করা।
  • মুখে আঘাত লাগা প্রতিহত করার জন্য গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট ও ঘাড়ের সুরক্ষাপ্রদানকারী বস্তু ব্যবহার করা। এছাড়া যেসব খেলায় শারীরিক সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলি খেলার সময় মাথার সুরক্ষা দেয় এমন সরঞ্জাম ব্যবহার করা।
  • কর্মক্ষেত্রে এমন সরঞ্জাম ব্যবহার করা, যা নাকে বিরক্তি সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পদার্থ থেকে সুরক্ষা দেয়।