মাথা ব্যথা(Headache)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

প্রায় সবারই মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এটি হলো একটি যন্ত্রনাদায়ক অবস্থা। দুশ্চিন্তার কারণেই সাধারণত মাথাব্যথা হয়ে থাকে। অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া না করলে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা মদ্যপান করলে এই সমস্যাটি দেখা যায়।

মাথাব্যথা হওয়া সাধারণত চিন্তার বিষয় নয়। তবে এটি অনেক গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে। এই সমস্যা  হঠাৎ ও তীব্র হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-   

অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস (Acute bronchitis) অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস (Acute sinusitis)
ভিটামিন ‘বি’ এর অভাব জনিত রোগ (Vitamin B deficiency) দুশ্চিন্তা/উদ্বেগ (Anxiety)
ব্লেফারোস্পাজম (Blepharospasm) ব্রেইন ক্যান্সার (Brain cancer)
বার্ন/পোড়া (Burn) সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold)
মেনিনজাইটিস (Meningitis) মাইগ্রেইন (Migraine)
মাংসপেশীর খিঁচুনি বা টান (Muscle spasm) হিমোফিলিয়া (Hemophilia)
নাকের পলিপ (Nasal polyp) সিফিলিস (Syphilis)
উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure) স্ট্রোক (Stroke)
গলার ইনফেকশন (Strep throat) মৃগী রোগ (Epilepsy)
ফ্লু (Flu) আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত এ্যালার্জি (Seasonal allergies)
ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স/ দুগ্ধজাত খাবারের প্রতি অসহিষ্ণুতা (Lactose intolerance) আতঙ্কগ্রস্ততা (Panic attack)
গ্যাস্ট্রাইটিস (Gastritis) গ্যাস্ট্রোডিওডেনাল আলসার (Gastroduodenal ulcer)
ফুসফুসের অ্যাবসেস/পুঁজ (Abscess of the lung) গর্ভকালীন সমস্যা (Problem during pregnancy)
পেরিটনসিলার অ্যাবসেস (Peritonsillar abscess) ব্রুইস (Bruise)
সিউডোটিউমার সেরেব্রি (Pseudotumor cerebri) পলিসাইথেমিয়া ভেরা (Polycythemia vera)
সেরিব্রাল এডিমা (Cerebral edema) কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং (Carbon monoxide poisoning)
ব্র্যাকিয়াল নিউরাইটিস (Brachial neuritis) ক্রনিক সাইনোসাইটিস (Chronic sinusitis)
রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম (Restless leg syndrome) র‍্যাবডোমায়োলাইসিস (Rhabdomyolysis)
হেমিপ্লেজিয়া (Hemiplegia) রকি মাউন্টেইন স্পটেড ফিভার (Rocky Mountain spotted fever)
ক্রেনিয়াল নার্ভ পালসি (Cranial nerve palsy) ইলিয়াস (Ileus)
নিউরোসিস (Neurosis) কনকাশন (Concussion)
ইনজুরি টু দি ফেস (Injury to the face) সিস্টিসারকোসিস (Cysticercosis)
পয়জনিং ডিউ টু গ্যাস (Poisoning due to gas) ইনজুরি টু দি স্পাইনাল কর্ড (Injury to the spinal cord)
ইরিডোসাইক্লাইটিস (Iridocyclitis) প্রাইমারী ইনসমনিয়া (Primary insomnia)
এপেন্ডাইমোমা (Ependymoma) এসেনশিয়াল ট্রেমর (Essential tremor)
সাবঅ্যারাকনয়েড হেমরয়েজ (Subarachnoid hemorrhage) ল্যাবিরিন্থাইটিস (Labyrinthitis)
সিন্ড্রোম অফ ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট সিক্রেশন অফ এ-ডি-এইচ (Syndrome of inappropriate secretion of ADH (SAIDH)) লাং কনটিউশন (Lung contusion)
অ্যাবসেস অফ নোজ / নাকের ফোঁড়া (Abscess of nose) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension)
অ্যাবসেস অফ দি ফ্যারিংস / গলবিলের ফোঁড়া (Abscess of the pharynx) মেনিয়ার ডিজিজ (Meniere disease)
মেনিনজিওমা (Meningioma) সারকোয়ডোসিস (Sarcoidosis)
মোনোনিউরাইটিস (Mononeuritis) স্ক্লেরাইটিস (Scleritis)
মোয়ামোয়া ডিজিজ (Moyamoya disease) মায়োসাইটিস (Myositis)
নারকোলেপসি (Narcolepsy) ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)
নন-ইনফেকশস গ্যাস্ট্রোয়েন্টেরাইটিস (Noninfectious gastroenteritis) ম্যাস্টোয়ডাইটিস (Mastoiditis)
মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple sclerosis) মাস্কুলার ডিসট্রফি (Muscular dystrophy)
মায়েস্থেনিয়া গ্রেভিস (Myasthenia gravis) মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)
হাইড্রোসেফালাস (Hydrocephalus) নিউরালজিয়া (Neuralgia)
ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral hemorrhage) ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ (Intracranial hemorrhage)
হাইপারএমেসিস গ্রেভিডেরাম (Hyperemesis gravidarum) লাইম ডিজিজ (Lyme disease)
অপটিক নিউরাইটিস (Optic neuritis) স্পাইনোসেরিবেলার অ্যাটাক্সিয়া (Spinocerebellar ataxia)
স্প্রেইন অর স্ট্রেইন (Sprain or strain) বিনাইন প্যারোক্সিজমাল পজিশনাল ভার্টিগো (বি-পি-পি-ভি) (Benign paroxysmal positional vertigo (BPPV))
হাইপোনেট্রেমিয়া (Hyponatremia) সাবকঞ্জাংটিভাল হেমারেজ (Subconjunctival hemorrhage)
সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage) সেরিঙ্গোমায়েলিয়া (Syringomyelia)
পিঙ্গুয়েকুলা (Pinguecula) পিটুইটারী অ্যাডেনোমা (Pituitary adenoma)
টরটিকোলিস (Torticollis) টরেট সিন্ড্রোম (Tourette syndrome)
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal neuralgia) ভাস্কুলাইটিস (Vasculitis)
অ্যাটেলেকটেসিস (Atelectasis) ভারনিকে করসেকফ সিন্ড্রোম (Wernicke Korsakoff syndrome)
ফ্র্যাকচার অফ দি স্কাল (Fracture of the skull) অ্যাকিউট স্ট্রেস রিঅ্যাকশন/ডিজঅর্ডার (Acute stress reaction/disorder)
হরমোন ডিজঅর্ডার (Hormone disorder) ক্রনিক পেইন ডিজঅর্ডার (Chronic pain disorder)
ইনজুরি টু দি ট্রাঙ্ক (Injury to the trunk) ফ্র্যাকচার অফ দি ফ্যাসিয়াল বোনস (Fracture of the facial bones)
নিউরোফাইব্রোমেটোসিস (Neurofibromatosis)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এ লক্ষণের জন্য ঝুকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলোঃ

  • পুরুষদের ক্লাস্টার হেডেক বেশি হয়ে থাকে। ক্লাস্টার হেডেক (Cluster Headache) হলো মাথার কোনো নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা হওয়া।
  • ধূমপান করা।
  • মদ্যপান করা।
  • পরিবারের কোনো সদস্যের এই সমস্যা থাকা।
  • হরমোনগত পরিবর্তন।
  • দুশ্চিন্তার কারণে মহিলাদের মাথা ব্যথা বেশি হয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ মাথা ব্যথা হলে খুবই অস্বস্তি ও যন্ত্রনাবোধ হয়। মাথা ব্যথার সাথে চোখে হঠাৎ করে ঝাঁকুনি হতে পারে আবার চোখে হঠাৎ কাঁপুনি হওয়ার কারণেও এটি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

উত্তরঃ  মুখমন্ডলের হাড়ের ভিতরে কতগুলো ফাঁপা জায়গা আছে তাকে সাইনাস বলে। এই ফাঁপা জায়গার মাধ্যমে শ্লেষ্মা নিসৃত হয়। কোন কারণে যদি সাইনাসগুলির মধ্যে ঘা বা প্রদাহ হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে। সাইনোসাইটিস হলে মিউকাস নিঃসরনের ক্ষমতা কমে যায়, সাইনাসের উপর চাপ পড়ে এবং তার ফলে মাথা ব্যথা হয়। মাথাব্যথা সাধারণত অ্যালার্জি ও ঠান্ডার কারণে হয়ে থাকে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে এই লক্ষণ প্রতিরোধ করা সম্ভবঃ

  • অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকা বা কাজ করার ফলে ঘাড় যেন শক্ত না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কম্পিউটার ও টেলিভিশনের স্ক্রিন থেকে দূরে বসে কাজ করতে হবে।
  • নিয়মমত খাওয়া-দাওয়া, হাঁটাচলা, ঘুমানো ও অনুশীলন করতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।