কানের ব্যথা (Ear pain)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

চিকিৎসাবিজ্ঞানে কানে ব্যথা ওট্যালজিয়া (Otalgia) নামে পরিচিত। সাধারণত ওট্যালজিয়া বলতে কানের বাইরের অংশে যে ব্যথা হয় তাকে বুঝানো হয়। কানের অভ্যন্তরে বা ভেতরের অংশে যে ব্যথা হয় তাকে প্রাইমারি ওট্যালজিয়া (Primary otalgia) বলে। শুধুমাত্র কানের অভ্যন্তরে কোনো ত্রুটি বা রোগ দেখা দিলেই কানে ব্যথা হয় না। বরং অন্যান্য যে কোনো সমস্যা যেমনঃ দাঁত ব্যথা, সাইনাসের সমস্যা, টন্সিলের প্রদাহ ও ব্যথা, নাক ও গলবিলে ইনফেকশন, গলা বা থ্রোট ক্যান্সার এবং মাইগ্রেনের পূর্বাবস্থায় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-   

অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস (Acute sinusitis) সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold)
দাঁতের ক্ষয় রোগ (Dental caries) মাড়ির রোগ (Gum disease)
মাম্পস (Mumps) গলার ইনফেকশন (Strep throat)
আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত এ্যালার্জি (Seasonal allergies) ল্যারিঞ্জাইটিস/বাকযন্ত্রের প্রদাহ (Laryngitis)
ফ্যারিঞ্জাইটিস (Pharyngitis) অ্যাকিউট অটাইটিস মিডিয়া (Acute otitis media)
প্রেসবাইএকিউসিস (Presbyacusis) অটাইটিস এক্সটারনা (Otitis externa (swimmer's ear))
পেরিটনসিলার অ্যাবসেস (Peritonsillar abscess) ফ্রেডরিক অ্যাটাক্সিয়া (Friedreich's ataxia)
ক্রনিক সাইনোসাইটিস (Chronic sinusitis) কোলেস্টিয়াটোমা (Cholesteatoma)
কন্ডাক্টিভ হেয়ারিং লস (Conductive hearing loss) ব্যাকটেরিয়া জনিত কনঞ্জাংটিভাইটিস (Conjunctivitis due to bacteria)
ইনজুরি টু দি ফেস (Injury to the face) ইয়ার ড্রাম ড্যামেজ (Ear drum damage)
ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ (Interstitial lung disease) ইউস্টেশিয়ান টিউব ডিজফাংশন (Eustachian tube dysfunction (ear disorder))
কানে বাহ্যিক বস্তু (Foreign body in the ear) ল্যাবিরিন্থাইটিস (Labyrinthitis)
অ্যাবসেস অফ নোজ / নাকের ফোঁড়া (Abscess of nose) অ্যাবসেস অফ দি ফ্যারিংস / গলবিলের ফোঁড়া (Abscess of the pharynx)
মেনিয়ার ডিজিজ (Meniere disease) মোনোনিউরাইটিস (Mononeuritis)
লিম্ফোগ্রেনুলোমা ভেনেরিয়াম (Lymphogranuloma venereum) ম্যাস্টোয়ডাইটিস (Mastoiditis)
ওরাল মিউকোসাল লেশন (Oral mucosal lesion) অটোস্ক্লেরোসিস (Otosclerosis)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে কানে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • দেহের অন্য কোনো অঙ্গের গঠনগত সমস্যা থাকলে।
  • যেসব শিশু ডে-কেয়ার বা চাইল্ড কেয়ারে থাকে তাদের ক্ষেত্রে।
  • ভাইবোনের কানের ইনফেকশন থাকলে।
  • ঘরের ভেতরে ধূমপান করলে।
  • বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সুপাইন বোতলের (Supine bottles) ব্যবহার।
  • পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
  • যে সকল সমস্যার কারণে করোনারি আর্টারি ডিজিজ দেখা দেয়।
  • ডায়াবেটিস থাকলে।
  • তামাক ও অ্যালকোহলের ব্যবহার।
  • ক্রমাগত শ্রবণশক্তি কমে গেলে এবং
  • সাঁতারুদের ক্ষেত্রে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের ক্ষেত্রে মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একগুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সাধারণত চোয়ালের মাংসপেশীতে ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথার কারণে কানে ব্যথা হয়ে থাকে। এ অবস্থায় মুখের একপাশের সাহায্যে ক্রমাগত খাবার চিবিয়ে খেলে ব্যথা আরো বাড়তে পারে। তাই কানে ব্যথা হলে নরম খাবার খেতে হবে। ব্যথার স্থানে বরফ দিতে হবে ও প্রয়োজনে ব্যথা কমানোর ঔষধ খেতে হবে।

উত্তরঃ ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে কানের পর্দার পেছনে তরল জমতে শুরু করে, যার ফলে কানে ব্যথা হয় ও একই সাথে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দেখা দেয়। এই ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

কানের ব্যথা প্রতিরোধে করণীয়ঃ

  • শিশুদের আশেপাশে ধূমপান করা উচিত নয়। কেননা সিগারেটের ধোঁয়া শিশুদের ক্ষতি করে ও এর কারণে কানে ইনফেকশন দেখা দেয়।
  • ব্যথা হলে বাইরের কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচানো যাবে না। এতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গোসল বা সাঁতারের পর কানের পানি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
  • যেসকল বস্তুর সংস্পর্শে অ্যালার্জি হতে পারে তা এড়িয়ে চলতে হবে।