মাথা ধরা (Dizziness)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

লক্ষণটি মাথা ঝিমঝিম করা, পড়ে যাওয়ার অনুভূতি হওয়া, মাথা হালকা অনুভূত হওয়া ও  ভারসাম্য হারানো ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

মাথা ঘোরা বলতে দুর্বল অনুভব করা, মাথা হালকা অনুভব করা ও শরীর টলমল করার মতো সমস্যাকে বোঝায়। এই সমস্যার কারণে চারপাশের সবকিছু ঘুরছে বা সরে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই এই সমস্যায় ভুগে থাকে। মাথা ঘোরা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হলে তা স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। তবে এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। মাথা ঘোরার কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লক্ষণের উপর নির্ভর করে কার্যকরভাবে এর চিকিৎসা করা সম্ভব।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-

ভিটামিন ‘বি’ এর অভাব জনিত রোগ (Vitamin B deficiency) পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ (Gastrointestinal hemorrhage)
রক্তস্বল্পতা (Anemia) অ্যাঞ্জাইনা (Angina)
ক্রনিক রিউম্যাটিক ফিভার/ক্রনিক বাতজ্বর (Chronic rheumatic fever) হার্ট ব্লক (Heart block)
মাইগ্রেইন (Migraine) ডায়াবেটিক ইনসিপিডাস (Diabetes insipidus)
স্ট্রোক (Stroke) হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia)
আতঙ্কগ্রস্ততা (Panic attack) ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ (Ischemic heart disease)
পারকিনসন্স ডিজিজ (Parkinson disease) লৌহের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা (Iron deficiency anemia)
প্রেসবাইএকিউসিস (Presbyacusis) অ্যারিদমিয়া (Arrhythmia)
পেরিফেরাল নার্ভ ডিজঅর্ডার (Peripheral nerve disorder) সিউডোটিউমার সেরেব্রি (Pseudotumor cerebri)
পলিসাইথেমিয়া ভেরা (Polycythemia vera) প্রাইমারী থ্রম্বোসাইথেমিয়া (Primary thrombocythemia)
সেরিব্রাল এডিমা (Cerebral edema) কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং (Carbon monoxide poisoning)
এন্ডোকার্ডাইটিস (Endocarditis) ইসোফ্যাজিয়াল ভ্যারিসেস (Esophageal varices)
পালমোনারী ইওসিনোফিলিয়া (Pulmonary eosinophilia) হিট স্ট্রোক (Heat stroke)
কন্ডাক্টিভ হেয়ারিং লস (Conductive hearing loss) ক্রনিক ইনফ্লামেটরী ডিমায়েলিনেটিং পলিনিউরোপ্যাথি (সি-আই-ডি-পি) (Chronic inflammatory demyelinating polyneuropathy (CIDP))
অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic hypotension) কনকাশন (Concussion)
পয়জনিং ডিউ টু গ্যাস (Poisoning due to gas) এপিডুরাল হেমারেজ (Epidural hemorrhage)
এসেনশিয়াল ট্রেমর (Essential tremor) ইউস্টেশিয়ান টিউব ডিজফাংশন (Eustachian tube dysfunction (ear disorder))
সাবঅ্যারাকনয়েড হেমরয়েজ (Subarachnoid hemorrhage) ল্যাবিরিন্থাইটিস (Labyrinthitis)
সিন্ড্রোম অফ ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট সিক্রেশন অফ এ-ডি-এইচ (Syndrome of inappropriate secretion of ADH (SAIDH)) গ্রেভস ডিজিজ (Graves disease)
গুলেন বারে সিন্ড্রোম (Guillain Barre syndrome) লাং কনটিউশন (Lung contusion)
ম্যাগনেসিয়াম ডেফিসিয়েন্সি (Magnesium deficiency) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension)
মেনিয়ার ডিজিজ (Meniere disease) হায়াটাল হার্ণিয়া (Hiatal hernia)
মেনিনজিওমা (Meningioma) হাইডেটিডিফর্ম মোল (Hydatidiform mole)
অ্যাড্রেনাল ক্যান্সার (Adrenal cancer) ম্যাস্টোয়ডাইটিস (Mastoiditis)
মাইট্রাল ভাল্ভ ডিজিজ (Mitral valve disease) মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple sclerosis)
মায়েস্থেনিয়া গ্রেভিস (Myasthenia gravis) মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)
হাইপারক্যালসেমিয়া (Hypercalcemia) ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral hemorrhage)
ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ (Intracranial hemorrhage) হাইপারএমেসিস গ্রেভিডেরাম (Hyperemesis gravidarum)
সাইনাস ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Sinus bradycardia) সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডার (Somatization disorder)
স্পাইনোসেরিবেলার অ্যাটাক্সিয়া (Spinocerebellar ataxia) হাইপারকেলেমিয়া (Hyperkalemia)
বিনাইন প্যারোক্সিজমাল পজিশনাল ভার্টিগো (বি-পি-পি-ভি) (Benign paroxysmal positional vertigo (BPPV)) হাইপোনেট্রেমিয়া (Hyponatremia)
অটোস্ক্লেরোসিস (Otosclerosis) অ্যানিমিয়া অফ ক্রনিক ডিজিজ (Anemia of chronic disease)
সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage) প্যারোক্সিসমাল সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া (Paroxysmal supraventricular tachycardia)
ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া (Trigeminal neuralgia) ভাস্কুলাইটিস (Vasculitis)
অ্যাটেলেকটেসিস (Atelectasis) অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন (Atrial fibrillation)
অ্যাকিউট স্ট্রেস রিঅ্যাকশন/ডিজঅর্ডার (Acute stress reaction/disorder) পেলভিক ফিস্টুলা (Pelvic fistula)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

  • বয়স: ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়স্ক ব্যক্তিরা সেই সব রোগে বেশি  আক্রান্ত হয় যেসব রোগের কারণে মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা দেয় । এই বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে এমন কিছু ঔষধ গ্রহণ করে থাকে যেগুলির কারণেও অনেক ক্ষেত্রে মাথা ঘোরার সমস্যা হতে পারে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণ: উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী রোগ, স্নায়বিক উত্তেজনা রোধকারী ঔষধ ও সিডেটিভ গ্রহণ করলে মাথা ঘোরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পূর্বে মাথা ঘোরার সমস্যা থাকা: পূর্বে আপনার মাথা ঘোরার সমস্যা হয়ে থাকলে ভবিষ্যতেও  আপনার এই সমস্যা হতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। 

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ মাথাঘোরা স্থায়ী হলে তা মধ্যকর্ণের ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে।।

হেলথ টিপস্‌

মাথা ঘোরানোর সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করুন।

  • মাথা ঘোরানোর জন্য শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে আপনি পড়ে গিয়ে আঘাত পেতে পারেন, তাই এ সময় আপনাকে সাবধান হতে হবে।
  • মাথা ঘোরালে হঠাৎ করে স্থান পরিবর্তন করবেন না।
  • ঘরের মেঝেতে এমন কোনো বস্তু রাখবেন না, যাতে বাধা পেয়ে পড়ে গেলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যেমন- ইলেকট্রিক কর্ড। এছাড়া বাথরুমে পিচ্ছিল ম্যাট ব্যবহার করবেন না।
  • মাথা ঘোরানোর সাথে সাথে বসে বা শুয়ে পড়ুন।
  • ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান।
  • আপনার প্রায়ই মাথা ঘোরানোর সমস্যা হলে গাড়ি চালনা এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সিঁড়িতে এবং রাতে বিছানা থেকে উঠে আপনি যে স্থানে হাঁটাচলা করেন সেই স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুন।
  • শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনে হাঁটার সময় লাঠি ব্যবহার করুন।
  • ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও তামাক গ্রহণ করা পরিহার করুন। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব দ্রব্য গ্রহণের ফলে আপনার মাথা ঘোরানোর সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।