কোরাইজা (Coryza)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

সাধারণ ঠান্ডা-সর্দির লক্ষণ বোঝাতে কোরাইজা শব্দটি ব্যবহার করা হয়। নাসারন্ধ্রে মিউকাসের স্তরে প্রদাহের সৃষ্টি হলে তাকে কোরাইজা বলে। এই প্রদাহের ফলে নাক বন্ধ হয়ে যায় ও ঘ্রাণশক্তি কমে যায়। শুধু অ্যালার্জি বা ইনফেকশনের জন্য হয় না, বরং ঠান্ডা বাতাস, মশলাযুক্ত খাবার ও ঘাড়ের পেশিতে কোনো দুর্বল পেশির কারণেও কোরাইজা হতে পারে। সাধারণ ভাষায় এটিকে বলা হয় নাক দিয়ে পানি ঝরা (Drippy nose, Sniffles, Nasal Discharge, Nasal Catarrh, Discharge From Nose, Snuffles, Nose Run, and Dripping Nose)। আবার নিয়মিত ঘুমের ঔষধ ব্যবহারের পর হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দিলেও কোরাইজা হতে পারে। হামের লক্ষণগুলোকে একত্রে ‘Four Cs’ দ্বারা প্রকাশ করা হয় এবং এই চারটি লক্ষণের একটি হল কোরাইজা। অন্য তিনটি লক্ষণ হল কাশি/কফ, কঞ্জাংটিভাইটিস ও কপলিক স্পটস।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-

অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস (Acute sinusitis) অ্যাজমা (Asthma)
সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold) কনজাঙ্কটিভাইটিস (Conjunctivitis)
ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (Chronic obstructive pulmonary disease, COPD) থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia)
কান পাকা/কানের প্রদাহ (Otitis media) ফ্লু (Flu)
আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত এ্যালার্জি (Seasonal allergies) ল্যারিঞ্জাইটিস/বাকযন্ত্রের প্রদাহ (Laryngitis)
ফ্যারিঞ্জাইটিস (Pharyngitis) গুড়াকৃমি রোগ (Pinworm infection)
অ্যাকিউট অটাইটিস মিডিয়া (Acute otitis media) ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস (Bronchiectasis)
প্রিম্যাচিউর রাপচার অফ অ্যাম্নিওটিক মেমব্রেন (Premature rupture of amniotic membrane) শিঙ্গেলস (হার্পিস জস্টার) (Shingles (herpes zoster))
ক্রনিক সাইনোসাইটিস (Chronic sinusitis) ব্যাকটেরিয়া জনিত কনঞ্জাংটিভাইটিস (Conjunctivitis due to bacteria)
ভাইরাসজনিত কনজাঙ্কটিভাইটিস (Conjunctivitis due to virus) ক্রুপ (Croup)
এমপায়েমা (Empyema) ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ (Interstitial lung disease)
ইরাইথেমা মাল্টিফর্মি (Erythema multiforme) অ্যাবসেস অফ নোজ / নাকের ফোঁড়া (Abscess of nose)
অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস (Acute bronchitis) অ্যানিমিয়া অফ ক্রনিক ডিজিজ (Anemia of chronic disease)
পিটুইটারী অ্যাডেনোমা (Pituitary adenoma) নিউমোনিয়া (Pneumonia)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যেসকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে কোরাইজা হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই তাদের কোরাইজা বেশি হয়ে থাকে। এই বয়সে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে বলে খুব সহজেই ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আবার শিশুদের হাঁচি-কাশির পর হাত ধোয়া বা মুখ ঢাকার প্রবণতা কম থাকে বলে ঠান্ডা-সর্দি হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেহে বিভিন্ন ভাইরাস প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাই দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে ঠান্ডা-সর্দিসহ কোরাইজা হতে পারে।
  • শরৎ ও শীতকালে এ সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। আবার গরমকালের তুলনায় বর্ষাকালে কোরাইজা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ ঠান্ডা-সর্দি হলো শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশের ইনফেকশন যা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। তবে ব্যকটেরিয়াল ইনফেকশনের জন্যও এটি হতে পারে।

উত্তরঃ অনেকেই ঠান্ডা-সর্দি ও শ্বাসযন্ত্রের ইনফেকশনকে এক মনে করে থাকেন, যদিও এ দুটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট। এজন্য শিশুর জ্বর হয় এবং খাওয়া-দাওয়া ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। এটি ছোঁয়াছে হয়ে থাকে। 

হেলথ টিপস্‌

ঠান্ডা-সর্দি হলে নিম্নলিখিত নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে-

  • প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল জাতীয় খাবার যেমন ফলের রস বা হালকা গরম লেবুপানি খেতে হবে। এতে জ্বর বা ঠান্ডার সময় পানিশূন্যতা দেখা দেয় না। একই সাথে পানিশূন্যতা প্রতিরোধের জন্য অ্যালকোহল, ক্যাফেইন ও ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ঘরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে হবে। শীতের সময় ঘর যাতে গরম থাকে সে ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহার করতে হবে।
  • লবণ পানি দিয়ে গলায় গড়গড়ি করতে হবে। এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১/৪ বা ১/২ চা চামচ লবণ দিয়ে গড়গড়ি করুন।