মল দেখতে অস্বাভাবিক লাগা (Changes in stool appearance)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের প্রভাবে মলের রঙে পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে এটি তেমন কোনো ক্ষতি করে না। বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণে কলের রঙ স্বাভাবিক বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে। যকৃতে হিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়, যা পরবর্তীতে অন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্রে উপস্থিত খাদ্যবস্তু যদি স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করে তবে বিলিরুবিনে জৈব-রাসায়নিক পরিবর্তনের সাহায্যে হালকা থেকে গাঢ় বাদামী বর্ণের মল তৈরী হয়। অন্ত্রে খাদ্যবস্তু সরবরাহের গতি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে মলের রঙ সবুজ বর্ণ ধারণ করে। মলের রঙ পরিবর্তন হওয়া খুব সাধারণ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং সামায়িক সময়ের জন্য স্থায়ী হলে এটি তেমন কোনো ক্ষতি করে না। তবে, ছোট-খাটো বা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা ও নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণের কারণেও মলের রঙ পরিবর্তন হতে পারে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

অন্ত্রের কার্যকারিতা অস্বাভাবিক হয়ে  পড়লে মলের বাহ্যিকতায় পরিবর্তন আসতে পারে। যেসকল কারণে অন্ত্রের কার্যকারিতা পরিবর্তনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • মহিলাদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • পরিবারের অন্য কারো একই সমস্যা থাকলে এ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • বিভিন্ন মানসিক সমস্যা যেমনঃ উদ্বেগ, বিষন্নতা বা শৈশবে যৌন হয়রানির শিকার হলে এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার যেসব মহিলা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন তাদের এ লক্ষণ বেশি দেখা দেয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, মহিলাদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একগুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, হিস্পানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একগুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সাধারণত আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের প্রভাবে মলের আকার ও রঙের মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয়। তবে কয়েক মাস ধরে এ সমস্যা দেখা দিলে এর সঠিক কারণ জানার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

উত্তরঃ মলের আকারগত পরিবর্তন অন্ত্রের ক্যান্সারের লক্ষণ নির্দেশ করতে পারে। তাই এক্ষেত্রে রোগ নির্ণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্ট করাতে হবে। 

হেলথ টিপস্‌

দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্যাভাসে বিভিন্ন পরিবর্তনের সাহায্যে খুব সহজে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমনঃ

  • আঁশযুক্ত খাবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। তবে আঁশযুক্ত খাবারের প্রভাবে পেটে গ্যাস ও খিঁচুনি হতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ একটু একটু করে বাড়াতে হবে। বিভিন্ন ধরণের আঁশযুক্ত খাবার হলোঃ শস্যজাতীয় খাবার, মটরশুটি, বিভিন্ন রকম শাকসবজি ও ফলমূল।
  • ফুড অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। যেমনঃ চকোলেট, মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার, বিভিন্ন রকম ফল, ব্রকলি, মটরশুটি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, দুধ ও  দুগ্ধজাতীয় খাবার, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমনঃ কফি বা সোডা ও অ্যালকোহল।
  • নিয়মিত সিঠিক সময়ে খাবার খেতে হবে। ডায়রিয়া হলে কিছুক্ষণ পর পর অল্প পরিমানে খেতে হবে। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। তবে অ্যালকোহল ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম ও অনুশীলন করতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনের সাহায্যে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমানো যায়।