হেলেঞ্চা শাক এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

হেলেঞ্চা শাক

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold)

হেলেঞ্চা শাকে বিদ্যমান ভিটামিন সি কান্সারের ঝুঁকি কমায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি কমাতে সাহায্য করে। স্কার্ভি ও চোখের ছানি কাটাতে ভিটামিন সি বিশেষ কার্যকারী। হেলেঞ্চা শাকে এক বাটি সালাদে ৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। 

ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন (Macular degeneration)

ভিটামিন এ একটি উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখ, ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হেলেঞ্চা শাকে  এক বাটি সালাদ গ্রহণ করলে প্রতিদিনের ভিটামিন এ এর চাহিদার ৪২ ভাগ পূরণ করে থাকে। হেলেঞ্চা শাকে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান থাকার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও রয়েছে যা বয়স্কদের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (macular degeneration) কমাতে সাহায্য করেএতে লুটেইন (lutein) ও জিয়া-জানথিয়ান (zeaxanthin) নামক দুই ধরণের ক্যারটিনয়েড রয়েছে যা এই রোগ কমাতে সাহায্য করে।  

ছানি (Cataract)

ভিটামিন এ একটি উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখ, ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হেলেঞ্চা শাকে  এক বাটি সালাদ গ্রহণ করলে প্রতিদিনের ভিটামিন এ এর চাহিদার ৪২ ভাগ পূরণ করে থাকে। হেলেঞ্চা শাকে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান থাকার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও রয়েছে যা বয়স্কদের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (macular degeneration) কমাতে সাহায্য করেএতে লুটেইন (lutein) ও জিয়া-জানথিয়ান (zeaxanthin) নামক দুই ধরণের ক্যারটিনয়েড রয়েছে যা এই রোগ কমাতে সাহায্য করে।  

অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস (Acute bronchitis)

হেলেঞ্চা শাকে অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ব্রঙ্কাইটিস, সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি ও ফ্লু থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।   

সাধারণ সর্দি-কাশি (Common cold) হেলেঞ্চা শাকে অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ব্রঙ্কাইটিস, সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি ও ফ্লু থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।   
ফ্লু (Flu) হেলেঞ্চা শাকে অ্যান্টি-ভাইরাল উপাদান রয়েছে যা ব্রঙ্কাইটিস, সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশি ও ফ্লু থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।   
বদহজম (Indigestion)

হেলেঞ্চা শাকে ক্লোরোফিল থাকে যা হজমক্রিয়ায় উপকারী এনজাইমগুলোকে সহায়তা করে। এই এনজাইমগুলো খাদ্য থেকে শরীরে পুষ্টি সরবারহ করতে সাহায্য করে। হেলেঞ্চা শাকে সঠিক পুষ্টিগুণ পেতে হলে এটা অবশ্যই কাঁচা খেতে হবে কারণ রান্না করলে এই উপকারী এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায়।  

অস্টিওপরোসিস/অস্থি ক্ষয় (Osteoporosis)

এই শাকে বিদ্যমান ভিটামিন এ, সি ও কে, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি রয়েছে যা হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে। হাড়কে ভঙ্গুর হওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে ক্যালসিয়াম সাহায্য করে। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়। এর প্রতিকার স্বরূপ হেলেঞ্চা শাক খাওয়া যেতে পারে। 

এ্যাকজিমা (Eczema)

রক্তে বা ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের কারণে ব্রণ হতে পারে। হেলেঞ্চা শাকে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে যা পরিপাকতন্ত্রের নালী থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে। এটা রক্ত পরিশোধনকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে

হেলেঞ্চা শাকে শরীর ঠাণ্ডাকারী উপাদান রয়েছে যা এ্যাকজিমা আক্রান্ত স্থানে লাগালে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। এটা এ্যাকজিমা আক্রান্ত স্থানে সৃষ্ট চুলকনি ও জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে। এ্যাকজিমা বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দূর করতে সালাদ বা সুপের মধ্যে হেলেঞ্চা শাক মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। 

হেলেঞ্চা শাকে ব্রণ দূরকারী উপাদান রয়েছে। ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে এই শাক খাওয়া উচিৎ।

চুল পড়া (Alopecia)

হেলেঞ্চা শাকে বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে যা মাথার ত্বক ও চুলের উন্নতি সাধন করে। প্রতিদিন সঠিক পরিমানে  হেলেঞ্চা শাক গ্রহণ করলে রক্ত পরিষ্কার থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। হেলেঞ্চা শাকে  উপাদানগুলো খুশকি দূর করে মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এই শাকে প্রচুর পরিমানে সালফার ও জিংক রয়েছে যা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন দূর করে এবং চুলের পুনরাবিদ্ধিতে সাহায্য করে। হেলেঞ্চা শাকে মাথার ত্বকে ও চুলে লাগালে এটা কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এর রস পান করলে চুল লম্বা হয়। এছাড়াও হেলেঞ্চা শাক হরমোনের ভারসম্য রক্ষা করে ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।  

ডায়াবেটিস (Diabetes)

কম পরিমাণে ফ্যাট, সোডিয়াম, কোলেস্টেরল যুক্ত হেলেঞ্চা শাক ডায়াবেটিস কমাতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করেঅগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং ইনসুলিনের সঠিক উৎপাদনে হেলেঞ্চা শাক গ্রহণ করা যেতে পারে। স্থূলতাকেই ডায়াবেটিস হবার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেক্ষেত্রে এই শাক ওজন কমাতে সাহায্য করে। হেলেঞ্চা শাকের কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেড রয়েছে যা রক্তে প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের পরিমাণ কমিয়ে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সর্বোত্তম সুফল লাভের জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ৩ থেকে ৪ ভাগ হেলেঞ্চা শাক রাখতে হবে। 

পিত্তথলির পাথর (Gallstone)

হেলেঞ্চা শাকের স্যুপ বা রস পান করলে পিত্তথলির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং এটা পিত্তথলিতে পাথর হওয়া থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। যে বিষাক্ত উপাদানগুলো পিত্তথলির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে হেলেঞ্চা শাকে বিদ্যমান পানি সেসব ক্ষতিকারক উপাদানগুলোকে পিত্তথলি থেকে দূর করে দিতে সাহায্য করে। পিত্তথলিতে পাথরগুলো যখন আকারে ছোট থাকে তখন  হেলেঞ্চা শাকের স্যুপ বা রস পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ডাক্তাররা। এতে ভালো ফলাফল পাওয়া যায় কিন্তু পিত্তথলিতে পাথরগুলো যখন আকারে বড় হতে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই অপারেশন করাতে হবে। 

হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)

হেলেঞ্চা শাকের  আয়োডিন থায়রয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।  থায়রয়েড ও অন্যান্য হরমোনের ভারসম্য বৃদ্ধিতেও হেলেঞ্চা শাক বেশ কার্যকরী। গলগণ্ড ও হাইপোথায়রয়েডিজম (hypothyroidism) রোগ কমাতেও এটা গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। 

রক্তস্বল্পতা (Anemia)

হেলেঞ্চা শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকার কারণে এটা অ্যানেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। হিমোগ্লোবিনের বিশ্লেষণে আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হেলেঞ্চা শাকের  ফোলিক এসিড অস্থি মজ্জায় লোহিত রক্তকণিকার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও হেলেঞ্চা শাক প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা শরীরকে আয়রন শোষণে সাহায্য করে। 

স্ট্রোক (Stroke)

৬৬২ জন বয়স্ক মানুষদের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে তাদের স্ট্রোক কম হয়। সেক্ষেত্রে হেলেঞ্চা শাক  গ্রহণ করা বেশ কার্যকারী কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট রয়েছে যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।  

অ্যাজমা (Asthma)

পেডিয়াট্রিক অ্যাজমা আক্রান্ত শিশুরা প্রতিদিন হেলেঞ্চা শাক গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পেতে পারে।

ক্যান্সার

প্রতিদিন হেলেঞ্চা শাক খাওয়ার ফলে, ধূমপানের কারণে সৃষ্ট ক্যান্সার উপাদানগুলো মল ত্যাগের মাধ্যমে বের করে দিতে সাহায্য করে।হেলেঞ্চা শাকে বিদ্যমান মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান এবং  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত হয়ে শ্বেত রক্ত কনিকায় ডি-এন-এ ভেঙে যাবার ঝুঁকি কমায়।থানকুনি পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্লোরোফিল রয়েছে যেগুলো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। 

রাতকানা

ভিটামিন এ একটি উপকারী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। এটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখ, ত্বক, দাঁত ও হাড়ের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হেলেঞ্চা শাকে  এক বাটি সালাদ গ্রহণ করলে প্রতিদিনের ভিটামিন এ এর চাহিদার ৪২ ভাগ পূরণ করে থাকে। হেলেঞ্চা শাকে ক্যান্সার বিরোধী উপাদান থাকার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও রয়েছে যা বয়স্কদের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (macular degeneration) কমাতে সাহায্য করেএতে লুটেইন (lutein) ও জিয়া-জানথিয়ান (zeaxanthin) নামক দুই ধরণের ক্যারটিনয়েড রয়েছে যা এই রোগ কমাতে সাহায্য করে।  

কোলন ক্যান্সার

গবেষণায় দেখা যায়, হেলেঞ্চা শাকে  অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতা রয়েছে যা শরীরকে ক্যান্ডিডা ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।  

ওজন কমায়

ওজন কমাতে হেলেঞ্চা শাকে  রস গ্রহণ করা যেতে পারে কারণ এর ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম থাকে।

হৃদরোগ

হেলেঞ্চা শাকে  প্রচুর পরিমানে লুটেইন রয়েছে যা করনারী আর্টারি ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। গবেষণায় দেখা যায়, লুটেইন প্রধানত ধমনীর সুরক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে। এটা ধমনীতে  ক্ষতিকারক প্লাক জমতে বাধা প্রদান করে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরণের হৃদপিণ্ডের রোগ থকে সুরক্ষা প্রদান করে।

ডায়রিয়া

হেলেঞ্চা শাকে প্রচুর পরিমানে পানি রয়েছে যা মূত্রবর্ধক ঔষধ হিসেবে কাজ করে।  সেক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীরা এই শাক গ্রহণ করলে এই অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। ডায়রিয়া সাধারণত বদহজম, ব্যাকটেরিয়াল আক্রমন অথবা পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে গেলে হয়ে থাকে। হেলেঞ্চা শাক এক্ষেত্রে একটি পরিষ্কারক উপাদান হিসেবে কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে। গ্যাস, পেট ফাঁপা দেওয়া, পেটে খিঁচুনি হাওয়া ইত্যাদি হজমজনিত সমস্যার সমাধান হিসেবেও হেলেঞ্চা শাক  বেশ কার্যকারীএই শাক গ্রহণ করার পরেও যদি ডায়রিয়া না কমে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

প্রদাহপ্রতিরোধী

হেলেঞ্চা শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা অ্যান্টি- ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে এবং সাধারণ ঠাণ্ডা, কাশি, ফ্লু ইত্যাদি কমাতে সাহায্য করে। 

যৌনকাঙ্খা

হেলেঞ্চা শাক যৌন উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য উপকারী উপাদান যেমন জিঙ্ক ও আয়রন রয়েছে।  

লম্ফোসাইটস

গবেষণায় দেখা গেছে, হেলেঞ্চা শাক  গ্রহণ করলে লিম্ফোসাইট বা শ্বেত রক্ত কণিকায় ডি-এন-এ নষ্ট হতে বাধা দেয়।  

হেং- ওভার

অতিরিক্ত মদ্যপান করার ফলে মাতাল অবস্থা (hangover) দেখা দিলে হেলেঞ্চা শাকের  রস খাওয়া যেতে পারে। মাতাল অবস্থা দূর করতে এটা বেশ কার্যকারী।

পরিষ্কারক ক্ষমতা

বহুবছর ধরেই হেলেঞ্চা শাকে  এর মধ্যকার পরিষ্কারক উপাদানের জন্য সুপরিচিত। এটা এক ধরণের মূত্রবর্ধক ঔষধ হিসেবে কাজ করে এবং মূত্র ত্যাগের মাধ্যমে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

নিউরোট্রান্সমিটার

কম পরিমাণে ফোলেটযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে এবং অতিরিক্ত মদ্যপান করলে শরীরে ফোলেটের মাত্রা কমে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, শরীরে ফোলেটের মাত্রা কম থাকলে বিষণ্ণতাজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফোলেট কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্র্রান্সমিটারের সাথে মিলিত হয়ে সেরোটেনিন (serotonin) নামক নিউরোক্যামিকেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘসময় ধরে যারা বিষণ্ণতাজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তারা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন থানকুনি পাতা গ্রহণ করলে ভালো ফলাফল পেতে পারেন। 

মানসিক কর্মদক্ষতা

মানসিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ফোলেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জরিপে দেখা যায়, ৫০ থেকে ৭০ বয়সের পুরুষরা প্রতিদিন ৮০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট গ্রহন করলে তাদের মানসিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কথার অস্পষ্টতা দূর হয়। হেলেঞ্চা শাক গ্রহণ করলে যেকোন মানসিক সমস্যা দূর করা সম্ভব কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট রয়েছে।  

হেমোরয়েড

হেলেঞ্চা শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ফোলিক এসিড ও ভিটামিন বি৬ লোহিত রক্ত কনিকা গঠনে সাহায্য করে। ভিটামিন সি শাক-সবজি থেকে শরীরে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। শাক-সবজিতে বিদ্যমান বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

যার জন্য অপকারি কারণ
ক্রনিক আলসার (Chronic ulcer)

পাকস্থলী বা অন্ত্রের আলসারের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদেরকে হেলেঞ্চা শাক  এড়িয়ে চলতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে

শিশুদের জন্য, বিশেষ করে যাদের বয়স ৪ বছরের কম তাদের জন্য হেলেঞ্চা শাক  ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা খুব একটা নিরাপদ নয়। 

গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধদানকারী মা

গর্ভাবস্থায় হেলেঞ্চা শাক  গ্রহণ করা নিরাপদ নয়। এটা গ্রহণ করলে মাসিক হতে পারে যা পরবর্তীতে গর্ভপাত এর কারণ হিসেবে পরিণত হতে পারে। এছাড়াও যেসব মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের হেলেঞ্চা শাক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কিডনী ডিজিজ

যারা কিডনী ডিজিজে ভুগছেন তাদের হেলেঞ্চা শাক  গ্রহণ করা উচিৎ নয়। 

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ২.৫ কাপ

ক্যালরি: ৪১ কিলোক্যালরি

  • সুগার: ০.২ গ্রাম
  • শর্করা: ১.২৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০.১ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৪৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ: ৩১৯১ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)
  • প্রোটিন: ২.৩ গ্রাম
  • পানি: ৯৫.১১ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ০.৫ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০২৭ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.০২৪ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০০৩ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০০৮ গ্রাম
  • হেক্সাডেসিনয়িক: ০.০০২ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.০০৬ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৩৫ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.০১২ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.০২৩ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০৯ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.১২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ০.২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ০.৩১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.১২৯ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- ই: ১ মিলিগ্রাম
  • টোকোফেরলস: ১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- কে: ২৫০ মাইক্রোগ্রাম
  • কোলিন: ৯ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৯ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন- এ,আর-এ-ই (RAE): ১৬০ মাইক্রোগ্রাম
  • লুটিন + জিয়েজ্যানথিন: ৫৭৬৭ মাইক্রোগ্রাম
  • বেটা-ক্যারোটিন: ১৯১৪ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ৪১ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ৩৩০ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১২০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৬০ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ২১ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ০.২ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ০.১১ মিলিগ্রাম
  • সেলেনিয়াম (Se): ০.৯ মাইক্রোগ্রাম
  • তামা (Cu): ০.০৭৭ মিলিগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ০.২৪৪ মিলিগ্রাম
  • মিথিয়োনিন: ০.০২ গ্রাম
  • আইসোলিউসিন: ০.০৯৩ গ্রাম
  • লিউসিন: ০.১৬৬ গ্রাম
  • লাইসিন: ০.১৩৪ গ্রাম
  • ফিনাইলএলানিন: ০.১১৪ গ্রাম
  • থ্রিয়োনিন: ০.১৩৩ গ্রাম
  • ট্রিপটোফেন: ০.০৩ গ্রাম
  • ভেলিন: ০.১৩৭ গ্রাম
  • হিস্টিডিন: ০.০৪ গ্রাম
  • আরজিনিন: ০.১৫ গ্রাম
  • গ্লাইসিন: ০.১১২ গ্রাম
  • এলানিন: ০.১৩৭ গ্রাম
  • সিরিন: ০.০৬ গ্রাম
  • সিস্টিন: ০.০০৭ গ্রাম
  • এসপারটিক এসিড: ০.১৮৭ গ্রাম
  • গ্লুটামিক এসিড: ০.১৯ গ্রাম
  • টাইরোসিন: ০.০৬৩ গ্রাম
  • প্রোলিন: ০.০৯৬ গ্রাম
  • অ্যাশ: ১.২ গ্রাম