কলার থোড় এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

কলার থোড়

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
পিত্তথলির পাথর (Gallstone)

যাদের পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে এমন রোগীদের জন্য কলার থোড় বিশেষ উপকারী বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। যারা এই রোগে ভুগছেন তাদের সপ্তাহে একদিন কলার থোড় খাওয়া উচিৎ।  

ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)

কলার থোড়ে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তবে সেক্ষেত্রে কলার থোড়ের রস না ছেঁকে পান করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। 

ডায়াবেটিস (Diabetes)

কলার থোড় ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য একটি আদর্শ খাবার। কলার থোড়ের রস না ছেঁকে পান করলে এটা রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। 

ওজন কমাতে সাহায্য করে

কলার থোড়ে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এক কাপ কলার থোড় গ্রহণ করলে অনেকক্ষণ অন্যান্য কোন খাবার খাওয়ার ক্ষুধা অনুভূত হয় না। ওজন কমানোর জন্য এই খাবার গ্রহণ করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।   

হাইপার এসিডিটি

কলার থোড়ের রস পান করলে এটা হাইপার-এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে। ভালো ফলাফলের জন্য খালি পেটে এটা পান করা উচিৎ।

ইউ টি আই (UTI) বা মুত্রনালীর ক্ষত

কলার থোড়ের রস পান করলে মূত্রনালির ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। কলার থোড় পরিষ্কার ও রান্না করাটা অনেক ঝামেলার ব্যাপার। এজন্য অনেকেই এই খাবারটি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু কলার থোড় কেটে পরিষ্কার করার পরে ঘোলের (buttermilk) মধ্যে ভিজিয়ে ফ্রিজে রেখে দিলে অনেকদিন খাওয়া যায়। প্রতিদিন যতটুকু কলার থোড় দরকার ততটুকু নামিয়ে রস বানিয়ে পান করা অনেক সুবিধাজনক। কিছুদিন পরে যদি ঘোলের (buttermilk) স্বাদ বেশি টক হয়ে যায় তখন শুধুমাত্র ঘোল (buttermilk) পাল্টে দিলেই হবে। এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে খুব অল্প সময়ে আমরা প্রায় প্রতিদিনই কলার থোড়ের রস বানিয়ে পান করতে পারবো।

কলার থোড়ের রসের সাথে লবণ, হালকা মরিচ, ভাঁজা জিরার গুঁড়া, দই এবং পরিমাণ মত পানি মিশিয়ে শরবত বানিয়ে পান করা যেতে পারে। এভাবে শরবত বানিয়ে একবার পান করলে স্বাদেও মজাদার হয় এবং এটা মূত্রনালির ইনফেকশন কমাতে বেশ কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।    

যার জন্য অপকারি কারণ
অ্যালার্জি (Allergy)

যাদের পাকা কলাতে অ্যালার্জি রয়েছে কলা সম্পর্কিত যেকোন খাবারে তাদের অ্যালার্জি হতে পারে। এটা গ্রহণ করলে আমবাত বেড়ে যেতে পারে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন বমি বমি ভাব, বমি, এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। কলা জাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে ওরাল অ্যালার্জি সিন্ড্রোম হতে পারে। এর ফলে কলা জাতীয় যেকোন খাবার গ্রহণের ঘণ্টা খানিকের মধ্যেই মুখ ও গলাতে চুলকনি এর সাথে সাথে ফুলে উঠতে পারে।

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১ পিস

ক্যালরি: ৪২ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ৩১.৮৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০.৩৭ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৭ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন: ০.৫ গ্রাম
  • সুগার: ১৫ গ্রাম
  • ভিটামিন এ: ১১২৭ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ২.৩ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.০১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ০.২ মিলিগ্রাম
  • কোলিন: ১৩.৫ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ২২ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ০.২৬ মিলিগ্রাম
  • ক্যারোটিনয়েডস: ৪৩৮ মাইক্রোগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ১০ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ১.১ মিলিগ্রাম
  • অ্যাশ: ০.৬ গ্রাম
  • জলীয় অংশ: ৮৮.৩ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.১৪৩ গ্রাম
  • ডেকানয়িক এসিড: ০.০০১ গ্রাম
  • ডোকোসিনয়িক এসিড: ০.০০২ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.০৯৬ গ্রাম
  • অক্টানয়িক এসিড: ০.০০৫ গ্রাম
  • টেট্রাডেকানয়িক এসিড: ০.০০২ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৩২ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০২১ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.০৪৩ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.০২৫ গ্রাম