কাঁচা কলা এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

কাঁচা কলা

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি কাঁচা কলা রাখলে ফাইবারের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হয়ে থাকে। ফাইবার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ, ডায়াবেটিস, বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার যেমন কোলন ক্যান্সার ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এছাড়াও ফাইবার অন্ত্রনালীর কার্যাবলী স্বাভাবিক রেখে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।  

অস্টিওপরোসিস/অস্থি ক্ষয় (Osteoporosis)

হাড়, দাঁত, নখ মাংসপেশি মজবুত করতে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে।  ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে যা হাড়কে ভেঙ্গে যাওয়া বা ফ্রাকচার থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম করে অস্টেরিওপোরোসিস রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। ক্যাভেটিস, পেরিওডোন্টাল ডিজিজ ইত্যাদি দাঁতের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কাঁচা কলা রাখলে খুব সহজেই শরীরে ক্যালসিয়াম সরবারহ করা যাবে।  

মাড়ির রোগ (Gum disease)

কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। একটি কলায় ২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করলে শরীর বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে মুক্ত থাকে। এছাড়াও মাড়ি, দাঁত ত্বককে দুর্বলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

রক্তস্বল্পতা (Anemia)

কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা খাদ্য থেকে শরীরে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। ফলে লোহিত রক্ত কনিকা উৎপাদন শরীরে অক্সিজেন সরবারহ সঠিক প্রক্রিয়ায় সংগঠিত হয়ে থাকে।

রাতকানা রোগ

কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে বেটা-ক্যারোটিন রয়েছে যা ভিটামিন উৎপাদন করতে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে চোখের সুরক্ষা প্রদান করতে ভিটামিন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন এর অভাব থাকলে রাতকানা, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, চোখে ইনফেকশন ইত্যাদি রোগ হতে পারে।  

চর্মরোগ

কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে বেটা-ক্যারোটিন রয়েছে যা ভিটামিন উৎপাদন করতে সাহায্য করে। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে চোখের সুরক্ষা প্রদান করতে ভিটামিন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন এর অভাব থাকলে রাতকানা, চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া, চোখে ইনফেকশন ইত্যাদি রোগ হতে পারে।  

ক্ষত

কাঁচা কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। একটি কলায় ২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করলে শরীর বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে মুক্ত থাকে। এছাড়াও মাড়ি, দাঁত ত্বককে দুর্বলতা থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

যার জন্য অপকারি কারণ
অ্যালার্জি (Allergy)

যাদের পাকা কলাতে অ্যালার্জি রয়েছে কাঁচা কলাতেও তাদের অ্যালার্জি হতে পারে। এই কলা গ্রহণ করলে আমবাত বেড়ে যেতে পারে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা যেমন বমি বমি ভাব, বমি, এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। কলা জাতীয় ফল গ্রহণের ফলেওরাল অ্যালার্জি সিন্ড্রোমহতে পারে। এর ফলে কলা জাতীয় ফল গ্রহণের ঘণ্টা খানিকের মধ্যেই মুখ গলাতে চুলকনি এর সাথে সাথে ফুলে উঠতে পারে।

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১ পিস

ক্যালরি: ৮৩ কিলোক্যালরি

  • সুগার: ১৫ গ্রাম
  • শর্করা: ৩১.৮৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০.৩৭ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ১৮.৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ: ১১২৭ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)
  • প্রোটিন: ১.৩ গ্রাম
  • পানি: ৬৫.২৮ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ২.৩ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.১৪৩ গ্রাম
  • ডেকানয়িক এসিড: ০.০০১ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.০৯৬ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০০৫ গ্রাম
  • টেট্রাডেকানয়িক এসিড: ০.০০২ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৩২ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.০২১ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৬৯ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.০৪৩ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.০২৫ গ্রাম
  • ডোডেক্যানয়িক এসিড: ০.০০২ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০৫২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.০৫৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ০.৬৮৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ০.২৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.২৯৯ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- ই: ০.১৪ মিলিগ্রাম
  • টোকোফেরলস: ০.১৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- কে: ০.৭ মাইক্রোগ্রাম
  • কোলিন: ১৩.৫ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ২২ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন- এ,আর-এ-ই (RAE): ৫৬ মাইক্রোগ্রাম
  • লুটিন + জিয়েজ্যানথিন: ৩০ মাইক্রোগ্রাম
  • বেটা-ক্যারোটিন: ৪৫৭ মাইক্রোগ্রাম
  • আলফা-ক্যারোটিন: ৪৩৮ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ৪ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ৪৯৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ৩ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৩৪ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ৩৭ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ০.৬ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ০.১৪ মিলিগ্রাম
  • সেলেনিয়াম (Se): ১.৫ মাইক্রোগ্রাম
  • তামা (Cu): ০.০৮১ মিলিগ্রাম
  • মিথিয়োনিন: ০.০১৭ গ্রাম
  • আইসোলিউসিন: ০.০৩৬ গ্রাম
  • লিউসিন: ০.০৫৯ গ্রাম
  • লাইসিন: ০.০৬ গ্রাম
  • ফিনাইলএলানিন: ০.০৪৪ গ্রাম
  • থ্রিয়োনিন: ০.০৩৪ গ্রাম
  • ট্রিপটোফেন: ০.০১৫ গ্রাম
  • ভেলিন: ০.০৪৬ গ্রাম
  • হিস্টিডিন: ০.০৬৪ গ্রাম
  • আরজিনিন: ০.১০৮ গ্রাম
  • গ্লাইসিন: ০.০৪৫ গ্রাম
  • এলানিন: ০.০৫১ গ্রাম
  • সিরিন: ০.০৪১ গ্রাম
  • সিস্টিন: ০.০২ গ্রাম
  • এসপারটিক এসিড: ০.১০৮ গ্রাম
  • গ্লুটামিক এসিড: ০.১১৬ গ্রাম
  • টাইরোসিন: ০.০৩২ গ্রাম
  • প্রোলিন: ০.০৫ গ্রাম
  • অ্যাশ: ০.০৪৬ গ্রাম