মসুর ডাল এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

মসুর ডাল

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)

মসুরের ডালে অধিক পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। দ্রবণীয় ফাইবার এক ধরণের থকথকে/আঠালো পদার্থ যা অন্ত্রনালীর ভিতর থেকে পিত্তরস (কোলেস্টেরল ধারণকারী) বের করে দিতে সাহায্য করে অপরদিকে গবেষণায় দেখা যায়, অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (irritable bowel syndrome) এবং ডাইভারটিকোলাইটিস (diverticulosis) ইত্যাদি হজমজনিত সমস্যা থেকে এই ফাইবার সুরক্ষা প্রদান করে

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable bowel syndrome)

মসুরের ডালে অধিক পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। দ্রবণীয় ফাইবার এক ধরণের থকথকে/আঠালো পদার্থ যা অন্ত্রনালীর ভিতর থেকে পিত্তরস (কোলেস্টেরল ধারণকারী) বের করে দিতে সাহায্য করে অপরদিকে গবেষণায় দেখা যায়, অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (irritable bowel syndrome) এবং ডাইভারটিকোলাইটিস (diverticulosis) ইত্যাদি হজমজনিত সমস্যা থেকে এই ফাইবার সুরক্ষা প্রদান করে

বদহজম (Indigestion)

মসুরের ডালে অধিক পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে। দ্রবণীয় ফাইবার এক ধরণের থকথকে/আঠালো পদার্থ যা অন্ত্রনালীর ভিতর থেকে পিত্তরস (কোলেস্টেরল ধারণকারী) বের করে দিতে সাহায্য করে অপরদিকে গবেষণায় দেখা যায়, অদ্রবণীয় ফাইবার মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (irritable bowel syndrome) এবং ডাইভারটিকোলাইটিস (diverticulosis) ইত্যাদি হজমজনিত সমস্যা থেকে এই ফাইবার সুরক্ষা প্রদান করে

ডায়াবেটিস (Diabetes)

পরিপাকতন্ত্র ও হৃদপিণ্ডের সুরক্ষার জন্য দ্রবণীয় ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, হাইপোগ্লাইসেমিয়া অথবা ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিরা মসুর ডাল গ্রহণ করলে রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক থাকবে এবং সঞ্চিত শক্তি ধীরে ধীরে ক্ষয় হবে। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের উপরে গবেষণা চালিয়ে এই মতামত প্রকাশ করেন গবেষকরা।

হৃদরোগ,কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ফাইবারসমৃদ্ধ মসুর ডাল গ্রহণ করলে করোনারী হৃদরোগের (coronary heart disease) ঝুঁকি ৮২ শতাংশ কম থাকে।

আর্কাইভ অফ ইন্টারনাল মেডিসিন (Archives of Internal Medicine) এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ফাইবার সমৃদ্ধ মসুরের ডাল গ্রহণ করলে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। দশ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ২১ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করলে করোনারী হৃদরোগ (coronary heart disease) হবার সম্ভাবনা ১২ ভাগ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৫ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করলে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ (cardiovascular disease) এর সম্ভাবনা ১১ ভাগ কমে

মসুর ডালে ফাইবার ছাড়াও হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী অনেক উপাদান রয়েছে এসব উপাদানের মধ্যে ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি অন্যতম হোমোসেস্টেইন (এক ধরণের অ্যামাইনো এসিড) এর মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে ফোলেট বা ভিটামিন বি-৬ সাহায্য করে শরীরে ভিটামিন বি-৬ এর অভাব থাকলে রক্তে হোমোসেস্টেইন (এক ধরণের অ্যামাইনো এসিড) এর মাত্রা বেড়ে যায় যা ধমনী প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং পরবর্তীতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। 

মসুর ডালে বিদ্যমান ম্যাগনেসিয়াম কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ (cardiovascular disease) এর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যাগনেসিয়াম প্রাকৃতিক ভাবেই ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (calcium channel blocker) হিসেবে পরিচিত। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকলে শ্বাস প্রশ্বাসের সময় স্বস্তি অনুভুত হয় এবং রক্তে অক্সিজেন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সরবারহে স্বাভাবিক থাকেগবেষণায় দেখা যায়, ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি কমায়। ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে ফ্রি র‍্যাডিকেল এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হৃদপিণ্ডকে সুরক্ষা প্রদান করে।

  

শরীরে শক্তি সরবারহ করে

যে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেডগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হয় সেগুলো সরবারহ করতে এবং শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে মসুরের ডালে বিদ্যমান আয়রন সাহায্য করে। বিশেষ করে মাসিক চলাকালীন সময়ে নারীদের শরীরে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। এই সময় মসুরের ডাল গ্রহন করলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয়। আয়রনের অন্যতম উৎস লাল মাংস বা রেড মিট (red meat) এর মতো মসুরের ডালেও প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এতে ফ্যাট ও ক্যালরির মাত্রা কম। হিমোগ্লোবিনের একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে আয়রন পরিচিত। হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে শরীরের অন্যান্য কোষে অক্সিজেন সরবারহ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটা শরীরে শক্তি সরবারহ ও বিপাক ক্রিয়ায় সহায়তা করে। গর্ভবতী অথবা যারা সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন সেসব নারীদের জন্য আয়রন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আয়রন শিশু ও কিশোরদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। 

যার জন্য অপকারি কারণ
অ্যালার্জি (Allergy)

মসুর ডালকে শিম বা বাদাম জাতীয় খাবারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়ে থাকে। সুতরাং যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে তাদের এই ডাল এড়িয়ে চলা উচিৎ।  

 

পেট ফাঁপা

১০০ গ্রাম মসুর ডালে ৪ গ্রাম ফাইবার রয়েছে। মসুরের ডালে বিদ্যমান অধিক পরিমাণে ফাইবার ক্ষুদ্রান্তে হজম হয় না এবং এটা বৃহদন্ত্রে পৌঁছে গ্যাসে পরিণত হয়। এর ফলে, পেট ফাঁপা (flatulence) রোগ হতে পারে। মসুরি ডালে হেমাগ্লুটিনিনস (hemagglutinins), অলিগোস্যাকারাইডস (oligosaccharides), ট্রিপসিন ইত্যাদি নামক অপুষ্টিকর উপাদান থাকে। অলিগোস্যাকারাইডস (oligosaccharides) হলো প্রিবায়োটিক বা হজম করা যায় না এমন উপাদান যা শরীরে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, পেট ফাঁপা, খিঁচুনি এবং অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। 

পেট কামড়ানো

মসুর ডালে প্রচুর পরিমাণে লাইসিন (lysine) নামক উপকারী অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। কিন্তু মসুর ডাল অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে এই এসিডের কারণে পিত্তথলিতে পাথর, এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে কিডনির অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, প্রতিদিন ১৫ থেকে ৪০ গ্রাম মসুরের ডাল গ্রহণের ফলে পেটে খিঁচুনি এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে। 

কিডনী ডিজিজ

হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ (Harvard School of Public Health) অনুসারে এক কাপ মসুরের ডালে ১৮ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। মানবদেহে প্রতিদিন ৮ গ্রাম প্রোটিন এর প্রয়োজন হয়। অধিক পরিমাণে মসুরের ডাল গ্রহণের ফলে কিডনির বিভিন্ন সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।  

হাইপারকেলেমিয়া

পটাসিয়াম হৃদপিণ্ড, স্নায়ু এবং মাংসপেশীর কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। কিন্তু মসুর ডালে বিদ্যমান পটাসিয়াম অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে হাইপার্কেলেমিয়া (hyperkalemia) হতে পারে। এই রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ খুব একটা পরিলক্ষিত হয় না। তারপরেও অবসাদ, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, বমি, অসাড়তা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১.৫ কাপ

ক্যালরি: ৩৫২ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ৬৩.৩৫ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১.০৬ গ্রাম
  • ভিটামিন এ: ৩৯ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)
  • প্রোটিন: ২৪.৬৩ গ্রাম
  • পানি: ৮.২৬ গ্রাম
  • সুগার: ২.০৩ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৪.৫ মিলিগ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ১০.৭ গ্রাম
  • ফ্রুক্টোজ: ০.২৭ গ্রাম
  • মল্টোজ: ০.৩ গ্রাম
  • স্টার্চ: ৪৯.৯ গ্রাম
  • সুক্রোজ: ১.৪৭ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.১৫৪ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.১৩৬ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০১৫ গ্রাম
  • টেট্রাডেকানয়িক এসিড: ০.০০৩ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.১৯৩ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.৫২৬ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.৪১৪ গ্রাম
  • ইকোসিনয়িক এসিড: ০.০০৬ গ্রাম
  • হেক্সাডেসিনয়িক: ০.০০৩ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.১৮৪ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.১১২ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.৮৭৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.২১১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ২.৬০৫ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.৫৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- ই: ০.৪৯ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৪৭৯ মাইক্রোগ্রাম
  • বেটা-ক্যারোটিন: ২৩ মাইক্রোগ্রাম
  • কোলিন: ৯৬.৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ২.১৪ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- এ,আর-এ-ই (RAE): ২ মাইক্রোগ্রাম
  • টোকোফেরলস: ৪.৭২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- কে: ৫ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ৬ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ৬৭৭ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ৩৫ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ২৮১ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ৪৭ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ৬.৫১ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ৩.২৭ মিলিগ্রাম
  • তামা (Cu): ০.৭৫৪ মিলিগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ১.৩৯৩ মিলিগ্রাম
  • মিথিয়োনিন: ০.২১ গ্রাম
  • আইসোলিউসিন: ১.০৬৫ গ্রাম
  • লিউসিন: ১.৭৮৬ গ্রাম
  • লাইসিন: ১.৭২ গ্রাম
  • ফিনাইলএলানিন: ১.২১৫ গ্রাম
  • থ্রিয়োনিন: ০.৮৮২ গ্রাম
  • ট্রিপটোফেন: ০.২২১ গ্রাম
  • ভেলিন: ১.২২৩ গ্রাম
  • হিস্টিডিন: ০.৬৯৩ গ্রাম
  • আরজিনিন: ১.৯০৩ গ্রাম
  • গ্লাইসিন: ১.০০২ গ্রাম
  • এলানিন: ১.০২৯ গ্রাম
  • সিরিন: ১.১৩৬ গ্রাম
  • সিস্টিন: ০.৩২২ গ্রাম
  • এসপারটিক এসিড: ২.৭২৫ গ্রাম
  • গ্লুটামিক এসিড: ৩.৮১৯ গ্রাম
  • টাইরোসিন: ০.৬৫৮ গ্রাম
  • প্রোলিন: ১.০২৯ গ্রাম
  • অ্যাশ: ২.৭১ গ্রাম