সিফিলিস (Syphilis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রোগটি লুইস এবং লিউটিক ডিজিজ নামেও পরিচিত।

সিফিলিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন, যা সাধারণত যৌন সংসর্গের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ, মলদ্বার ও মুখে ব্যথাহীন ক্ষতসহ এই রোগের সূত্রপাত হয়। এই ক্ষতের সাথে ত্বক বা মিউকাস মেমব্রেনের সংস্পর্শের মাধ্যমে সিফিলিস এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পরে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ইনফেকশন সৃষ্টির পর সিফিলিসের ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে অনেক বছর নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে পরবর্তীতে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই পর্যায়ে ইনজেকশন ও পেনিসিলিনের মাধ্যমে সিফিলিস প্রতিকার করা সম্ভব। চিকিৎসা করা না হলে সিফিলিস হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, এমনকি প্রাণনাশীও হয়ে উঠতে পারে।

সিফিলিসের কারণে যৌনাঙ্গে সৃষ্ট ক্ষত এইচ-আই-ভি (H-human I- immune deficiency V-virus) সংক্রমনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

কারণ

ট্রেপোনেমা প্যালিডাম নামক ব্যাকটেরিয়া সিফিলিসের মূল কারণ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনসংসর্গের সময় তার শরীর থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। ব্যাকটেরিয়াগুলি ত্বকের কাটা স্থান, ছিলে যাওয়া স্থান বা মিউকাস মেমব্রেন দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। সিফিলিস প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সংক্রামক অবস্থায় থাকে। অনেক সময় শুরুর দিকে সুপ্তাবস্থায় থাকার সময়েও রোগটি সংক্রামক অবস্থায় থাকতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতের সাথে সরাসরি সংস্পর্শের (যেমন চুম্বন) মাধ্যমেও সিফিলিস ছড়াতে পারে। এছাড়া সিফিলিসে আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে গর্ভাবস্থায় বা জন্মদানের সময় শিশুরাও এই রোগে (জন্মগত সিফিলিস) আক্রান্ত হতে পারে।

আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত টয়লেট, বাথট্যাব, পোশাক, খাবার পাত্র ও সুইমিংপুল ব্যবহারের মাধ্যমেও সিফিলিস ছড়াতে পারে।                            

সিফিলিস নিরাময় করা হলে পরবর্তীতে আর দেখা দেয় না, তবে সিফিলিসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের ক্ষতের সাথে সংস্পর্শের কারণে আপনি পুনরায় এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

azithromycin ceftriaxone
doxycycline erythromycin
benzathine penicillin

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (Polymerase chain reaction, PCR)
ডাইরেক্ট ফ্লুরেসেন্ট এন্টিবডি টেস্ট (Direct Fluorescent Antibody Test)
ভি-ডি-আর-এল কোয়ালিটেটিভ/কোয়ান্টিটেটিভ (VDRL qualitative/quantitative)
সি-এস-এফ এম/ই (CSF M/E)
ই-আই-এ ফর আই-জি-জি (EIA for IgG)
ই-আই-এ ফর আই-জি-এম (EIA for IgM)
আর-পি-আর (RPR)
টি-পি-পি-এ (TPPA)
টি-পি-এইচ-এ (TPHA)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি সিফিলিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে:

  • অনিরাপদ যৌনমিলন।
  • একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন।
  • পুরুষদের সমকামিতা।
  • এইচ-আই-ভি আক্রান্ত হওয়া।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যনিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে সমকামী পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। মনে রাখা উচিৎ যে, অনেকে একই সাথে সিফিলিসে ও এইচ-আই-ভিতে  আক্রান্ত হতে পারেন। তাই টেস্ট করে দুটি রোগ সম্পর্কেই নিশ্চিত হওয়া উচিৎ।

উত্তর: হ্যাঁ, এ ধরনের সিফিলিস জন্মগত সিফিলিস (কনজেনিটাল সিফিলিস) নামে পরিচিত।

হেলথ টিপস্‌

 

সিফিলিস প্রতিরোধ করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • যৌন সংসর্গ পরিহার করা বা একগামী হওয়া: সিফিলিস প্রতিরোধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল যৌন সংসর্গ এড়িয়ে চলা। দ্বিতীয় উপায় হল সিফিলিসে আক্রান্ত নয় এমন একজন সঙ্গীর সাথে যৌনসম্পর্ক রাখা।
  • ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার: সিফিলিসজনিত ক্ষত যদি কনডম ঢেকে রাখতে পারে তাহলে কনডম ব্যবহারের মাধ্যমেও সিফিলিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • মদ্যপান ত্যাগ: অতিরিক্ত মদ্যপান করলে মদ্যপ অবস্থায় বুদ্ধিলোপের সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে অনেকে এই মুহূর্তে অনিরাপদ যৌনসংসর্গে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
  • গর্ভবতী নারীদের পরীক্ষা করা: নবজাতকদের সিফিলিস থেকে সুরক্ষিত করার জন্য গর্ভবতী নারীদের সিফিলিস আছে কিনা তা নির্ণয় করা উচিৎ।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: মো: আসিফুজ্জামান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

প্রফেসর এম.এন হুদা

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

প্রফেসর এম ইউ কবির চৌধুরী

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

এসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)