আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত এ্যালার্জি (Seasonal allergies)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এটি হে ফিভার (Hay Fever), সিজোনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (Seasonal Allergic Rhinitis), পোলেনোসিস (Pollenosis) নামেও পরিচিত।

হে ফিভার বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কারণে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা যায় যেমন- অনবরত হাঁচি, হাঁচির সাথে নাক দিয়ে তরল পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাকের আগা, চোখ ও মুখ লাল হওয়া এবং মুখমণ্ডলে ফোলা ভাব, নাকের ভেতর শির শির করা, মাথা ব্যথা ও ভারবোধ এবং চোখ চুলকানো। কোনো কোনো সময় হালকা কাশি হতে পারে, তবে তা হে ফিভার ভাইরাসের সংক্রমণে হয় না। এটি বিভিন্ন অ্যালার্জেন যেমন ফুলের রেণু, ধূলা-ময়লা বা পোষা জীব-জন্তুর পশম বা লোমের কারণে হয়ে থাকে।

হে ফিভারের কারণে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। কিন্তু এসব নিয়ে চিন্তিত না হয়ে কিভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, তা জানতে হবে এবং প্রয়োগ করতে হবে।

কারণ

সেনসিটাইজেশন (Sensitization) হলো এমন একটি পদ্ধতি যার ফলে দেহের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) ক্ষতিকর নয় এমন বায়ুবাহিত পদার্থকে ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত করে এবং তা প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দেহ আবার এ ধরনের পদার্থের সংস্পর্শে এলে ইমিউন সিস্টেম তা প্রতিরোধের জন্য হিস্টামিনের মত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ রক্তে নিসৃত করে। এই রাসায়নিক পদার্থ দেহে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যার ফলে হে ফিভারের উপসর্গ দেখা দেয়।

নিম্নলিখিত আবহাওয়াজনিত পরিবর্তনের কারনে হে ফিভার হতে পারেঃ

  • বসন্ত কালে, গাছের পরাগ রেণুর কারণে।
  • বসন্তের শেষে ও গ্রীষ্মকালে ঘাসের পরাগ রেণুর কারণে।
  • গরম আবহাওয়ার সময়ে ছত্রাকের স্পোরের কারনে।

কিছু কিছু উপাদান যেমন ধূলা-ময়লা, তেলাপোকা, পোষা পশু-পাখি যেমন বিড়াল, কুকুর ও পাখির পশম প্রভৃতি সব সময়ই হে ফিভার হওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

cetirizine dihydrochloride desloratadine
desloratadine + pseudoephedrine fexofenadine hydrochloride
levocetirizine dihydrochloride loratadine
loratadine + pseudoephedrine hydrochloride montelukast sodium
pheniramine maleate chlorpheniramine maleate
hydrocortisone sodium succinate

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

ইমিউনো থেরাপি (Immunotherapy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্ললিখিত বিষয়ের কারনে হে ফিভার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • যদি কারো অ্যাজমা বা অন্য কোনো ধরনের অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তবে তার হে ফিভার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • পরিবারে অন্য কারো অ্যালার্জি বা অ্যাজমা থাকলে ঐ পরিবারের অন্যদের তা হতে পারে।
  • কোনো ধরনের পশুর সংস্পর্শে বেশি থাকলে হে ফিভার হতে পারে। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি সিবাসিয়াস সিস্টে ইনফেকশনের কোনো লক্ষণ থাকে তাহলে এটি কেটে এর ভিতরের তরল পদার্থ বের করা উচিৎ। সিবাসিয়াস সিস্টে যদি ব্যাথা না থাকে, এটি থেকে যদি কিছু নিঃসরিত না হয় এবং এটি দেখতে খারাপ না লাগলে কাটার প্রয়োজন হয় না।

উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে নিজে কিছু করা উচিৎ নয়।  ত্বকের যে স্থানে সিবাসিয়াস সিস্ট সৃষ্টি হয়, সেই স্থানটিসহ পরিপূর্ণভাবে সিবাসিয়াস সিস্ট কেটে ফেলা প্রয়োজন। বাড়িতে আপনি নিজে এটি কাটতে গেলে রক্তপাত, ক্ষত, ইনফেকশনসহ অন্যান্য সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি খাকে। সিবাসিয়াস সিস্ট অপসারণের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

উত্তরঃ এটি প্রতিরোধ করার কোনো উপায় নেই। সিবাসিয়াস সিস্ট একবার হলে নিজে থেকে দূরীভূতও হয় না। সিবাসিয়াস সিস্ট কেটে বাদ দেওয়াই এটি থেকে নিরাময় লাভের একমাত্র উপায়।

উত্তরঃ ঈস্ট বা ছত্রাকজনিত অ্যালার্জি হলো সাধারণ অ্যালার্জির একটি প্রকারভেদ। এর কারণে সাইনাস ও ফুসফুসের রোগের জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

উত্তরঃ অ্যালার্জির কোনো প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। তবে অ্যালার্জি শটস গ্রহণের মাধ্যমে এর উপসর্গ বা লক্ষণের তীব্রতা কমানো সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

যদিও রোগটি হে ফিভার নামে পরিচিত, তবে এটি হে বা খড়ের কারনে হয় না। যে সব কারনে অ্যালার্জি হয় সে সব পদার্থ সম্পূর্নভাবে এড়ানো সম্ভব নয়। তবে, কিছু পন্থা অবলম্বন করে এসব পদার্থ থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

  • যে সময় (Season) পরাগরেণু বেশি সৃষ্টি হয় সে সময় জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হবে।
  • এই সময়ে বাহিরে কাপড় ধোয়া ও শুকানো যাবে না, কারণ এতে করে কাপড়ে রেণু লেগে যেতে পারে।
  • বাসা-বাড়ি ও গাড়িতে এয়ার-কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।
  • ভেন্টিলেটর দিয়ে যেন ধূলা-বালি ঘরে না ঢুকে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • বাহিরে ধূলা-বালির মধ্যে কাজ করা এড়িয়ে চলতে হবে। সেটা সম্ভব না হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
  • বিছানার চাদর ও কম্বল গরম পানি দিয়ে ধুতে হবে।
  • তোশক, বালিশ অ্যালার্জি-প্রুফ কভার দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।
  • যে সব স্থান দিয়ে তেলাপোকা ঘরে ঢুকতে পারে সে সব স্থান বন্ধ করে দিতে হবে।
  • প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে হবে।
  • টিনের পাত্রে খাবার রাখতে হবে।
  • যতটা সম্ভব বাসা-বাড়িতে পশু-পাখিকে দূরে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
  • শোবার ঘরে পশু-পাখি ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)