পায়েলোনেফ্রাইটিস (Pyelonephritis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রোগটি কিডনির ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন নামেও পরিচিত।

ব্যাকটেরিয়া মূত্রাশয় ও মূত্রনালী পার করে কিডনকে সংক্রমিত করলে এই সংক্রমণকে পায়েলোনেফ্রাইটিস বলে। এই রোগ অ্যাকিউট ও ক্রনিক- উভয় প্রকারের হতে পারে। পায়েলোনেফ্রাইটিস লক্ষণ হিসেবে শরীরের পার্শ্বীয় ব্যথা, ঠান্ডা বোধ করা, দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র, দ্রুত ও ঘনঘন মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা এবং অস্বস্তিভাবের  মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

ইউরিনালাইসিসের মাধ্যমে পায়েলোনেফ্রাইটিস নির্ণয় করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূত্রে বিদ্যমান শ্বেত রক্তকণিকা এবং ব্যাকটেরিয়া পরিমাপ করা হয়। পায়েলোনেফ্রাইটিসের ফলে রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার প্রবাহও বৃদ্ধি পায়। অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।

অ্যাকিউট পায়েলোনেফ্রাইটিস সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের বেশি হয়ে থাকে। তবে যে কোনো বয়স ও লিঙ্গের ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হতে পারে। রোগটি হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে। সিস্টেমিক ইনফেকশনের কারণে পায়েলোনেফ্রাইটিস আরও জটিল রূপ ধারণ করতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে এই রোগ ক্রনিক রূপ ধারণ করে কয়েক মাস বা বছরব্যাপী স্থায়ী হতে পারে, এবং এর ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা  থাকে।

কারণ

সাধারণত যে ধরনের ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালীর সাধারণ ইনফেকশন সৃষ্টি করে সেগুলি দ্বারাই পাইলোনেফ্রেইটাস হয়ে থাকে। মলে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এই রোগ বেশি হয়ে থাকে, যেমন- ই কোলি (E. coli) বা ক্লেবসিয়েলা (klebsiella)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ও পরিবেশে বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়াও পায়েলোনেফ্রাইটিস সৃষ্টি করতে পারে।  

যে সব শারীরিক সমস্যার কারণে মূত্র প্রবাহের পরিমাণ কমে যায়, সেগুলির কারণে পায়েলোনেফ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। মূত্র প্রবাহের মাত্রা কমে গেলে বা মূত্র প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃক্কনালীতে পৌঁছাতে পারে। সাধারণত নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য মূত্র প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হতে পারে-

  • বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারট্রফি( Benign prostatic hypertrophy)।
  • পেট ও পেলভিসে সৃষ্ট পিণ্ড (যেমন- ক্যান্সার থেকে সৃষ্টি)।
  • মূত্রথলি, মূত্রনালী বা কিডনির পাথর।

ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পাওয়ার স্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে কিডনির পাথর পায়েলোনেফ্রাইটিস হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।ডায়বেটিস বা ইমিউন সিস্টেম (প্রতিরোধ ব্যবস্থা) ক্ষতিগ্রস্থকারী যে কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি পাইলোনেফ্রেইটাসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-

  • প্রজননতন্ত্র, কিডনি, মূত্রথলি ও মূত্রনালীর জন্মগত সমস্যা।
  • এইডস
  • সিস্টোসেল
  • ডায়াবেটিস(Diabetes)
  • বয়স বৃদ্ধি
  • প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া
  • লিঙ্গ(নারী)
  • কিডনির পাথর
  • স্পাইনাল কর্ডে আঘাত
  • ইউরিনারি ক্যাথেটার (Urinary catheter)
  • মূত্রনালীর সার্জারি
  • ইউটেরাইন প্রোল্যাপ্স (Uterine prolapse)

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ কম।

জাত: কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সঠিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপি গ্রহণ করলে সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের অবস্থা এবং আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়ার উপর ভিত্তি করে অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপির সময়কাল ৭ দিন থেকে ২ সপ্তাহ হতে পারে। রোগটি শিশুদের কিডনির কর্টেক্সকে (cortex)আক্রান্ত করলে তা থেকে সম্পূর্ণ রূপে সেরে উঠতে শিশুদের ৬ মাসের মতো সময় লাগতে পারে। 

উত্তরঃ পায়েলোনেফ্রাইটিস হলে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে  হবে। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করলে ইনফেকশন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আবও তীব্র রূপ  ধারণ করতে পারে। এ কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির  অত্যন্ত অসুস্থ বোধ হতে পারে। সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা হলে ইনফেকশন সেরে যাবে। 

উত্তরঃ সিস্টিটাস বলতে মূত্রথলির ইনফেকশন বলে। অপরদিকে কিডনির ইনফেকশনকে পায়েলোনেফ্রাইটিস বলে। দুটি অসুখের ক্ষেত্রেই মূত্রত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া ও মূত্রে রক্ত নির্গত হয়। তবে পায়েলোনেফ্রাইটিস হলে শরীরের পিছন দিকে বেশি ব্যথা হয়ে থাকে। 

হেলথ টিপস্‌

  • বেশি পরিমাণে পানি পান করা(প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস)
  • মূত্রত্যাগের ইচ্ছা হলে মূত্র চেপে না রাখা।
  • মূত্রথলি সম্পূর্ণ রূপে খালি করে মূত্র ত্যাগ করা।
  • নিরাপদ যৌনসম্পর্ক বজায় রাখা (কনডম ব্যবহার)।
  • যৌনমিলনের পরপরই মূত্র ত্যাগ করা।
  • স্নান করার সময় যৌনাঙ্গ ও যৌনাঙ্গের আশেপাশের স্থান পরিষ্কার করা।
  • সুতির অন্তর্বাস পরা।
  • যৌনাঙ্গের সামনে থেকে পিছন দিকে পরিষ্কার করা। (মহিলাদের ক্ষেত্রে)
  • ভিজা কাপড় পড়ে বেশিক্ষণ বসে না থাকা। (মহিলাদের ক্ষেত্রে)
  • যোনিতে ডিওডেরান্ট বা পারফিউম ব্যবহার না করা।
  • খৎনা করলে পুরুষদের মূত্রনালীর ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ পারভেজ ইফতেখার আহমেদ

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ রফিকুল আলম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

প্রফেসর ডা: এশিয়া খানম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)