প্রাইমারী ইনসমনিয়া (Primary insomnia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

প্রাইমারী ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা একটি সাধারণ সমস্যা। সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে জানা গেছে, সারা পৃথিবীতে ১০ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। এটি ইডিওপ্যাথিক ইনসোমনিয়া নামেও পরিচিত।

চিকিৎসাশাস্ত্রে অনিদ্রা মানে কম সময় ঘুমানো নয়, বরং অনিদ্রা মানে হলো ঘুমিয়ে তৃপ্তি না পাওয়া, ক্লান্তি দূর না হওয়া, দেহ-মনে সতেজ ভাব না আসা ইত্যাদি এসব কারণে দিনের বেলাতেও ব্যক্তি ক্লান্তবোধ, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যায় ভোগে।  

কারণ

প্রাইমারী ইনসোমনিয়া কোন রোগের লক্ষণ বা রোগের প্বার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে হয় না। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি রোগ। এই সমস্যাটি কমপক্ষে একমাস স্থায়ী হয়। দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের সমস্যা থাকা, কাজের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া প্রভৃতি কারণে এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কারণগুলো সমাধানের পরেও ইনসোমনিয়ার সমস্যা থেকে যায়। কিছু অভ্যাস যেমন- দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকা, ঘুম না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা, তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া প্রভৃতি কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলঃ

  • বয়স্কদের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।
  • পোস্ট মেনোপজাল এবং প্রি মেনোপজাল মহিলাদের ক্ষেত্রে।
  • ডিভোর্সী ও বিধবাদের ক্ষেত্রে।
  • মেজাজ জনিত সমস্যা।
  • ধূমপান।
  • ক্যাফেইন গ্রহণ।
  • মদ্যপান।
  • রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের ব্যবহার। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অবস্ট্রাক্টিভসেন্ট্রাল অথবা কমপ্লেক্স স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হিসেবে যদি ইনসোমনিয়া দেখা যায়, তবে এর কারণে ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। এটি কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে নাতবে যে রোগের কারণে ইনসোমনিয়া হয় সেই রোগটি ব্যক্তির জন্য বিপদজনক হতে পারে।  

উত্তরঃ স্লিপ রেস্ট্রিকশন হলো নন-মেডিকেল বিহেভিয়েরাল থেরাপি, যা ইনসোমনিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এই থেরাপিতে ব্যক্তিকে ঘুমানোর জন্য খুব কম সময় দেওয়া হয়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সকালে ঘুম ভাঙ্গার পরেও দীর্ঘক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকে। এই অতিরিক্ত ঘুমের কারণে সারকেডিয়ান রিদম ব্যাহত হয়, এর ফলে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয়। স্লিপ লগের মাধ্যমে ব্যক্তি রাতে কতক্ষণ ঘুমাচ্ছে, সকালে কখন ঘুম থেকে উঠছে সব কিছু রেকর্ড করা হয়, তারপর ধীরে ধীরে ঘুমানোর সময় কমানো হয়। এতে করে ব্যক্তির এই সমস্যা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।  

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ (সবুজ)

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: মো: ওয়াজিউল আলম চৌধুরী

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)

প্রফেসর ডা: এম.এস.আই. মল্লিক

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)