প্রেসবায়োপিয়া (Presbyopia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

বয়স বেড়ে গেলে চোখে কাছের কোন বস্তু দেখতে অসুবিধা হওয়াকে প্রেসবাইয়োপিয়া বলে। বয়স যখন কম থাকে তখন চোখের লেন্স অনেক মসৃণ এবং নমনীয় থাকে। লেন্স খুব সহজেই এর আকার পরিবর্তন করে কাছের এবং দূরের বস্তুকে ফোকাস করতে পারে।

৪০ বছর বয়সের পর লেন্স অনমনীয় বা দৃঢ় হতে থাকে। এ অবস্থায় লেন্স আগের মত আকৃতি পরিবর্তন করে কাছের বস্তু ফোকাস করতে পারে না যার কারণে কাছাকাছি দূরত্বের কোন লেখা পড়তে অসুবিধা হয়, একে প্রেসবাইয়োপিয়া বলে।

প্রেসবাইয়োপিয়া যে কারও হতে পারে, পাশাপাশি যদি কারো মাইওপিয়া (ক্ষীণদৃষ্টিসম্পন্ন), হাইপারোপিয়া (দূরদৃষ্টিসম্পন্ন) অথবা অ্যাস্টিগম্যাটিজম (বিষমদৃষ্টি) এর সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে এই সমস্যা একত্রিত হয়ে আরো জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। যাদের মাইওপিয়া আছে তাদের প্রেসবাইয়োপিয়ার কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।


কারণ

অল্প বয়স্ক অবস্থায় লেন্স নমনীয় এবং অপেক্ষাকৃত স্থিতিস্থাপক থাকে। লেন্সের চারপাশে একটি ছোট গোলাকৃতির মাংসপেশী থাকে যার সাহায্যে এটা এর দৈর্ঘ্য এবং আকার পরিবর্তন করতে পারে। চোখের চারাপাশ ঘিরে যে মাংসপেশী থাকে তা সহজেই লেন্সকে এর আকৃতি পরিবর্তনে সাহায্য করে কাছের এবং দূরের বস্তুকে দেখতে সহায়তা করে।

বয়সের সাথে সাথে লেন্স এবং এর আশেপাশের মাংসপেশীর তন্তুগুলোর (ফাইবারস্‌) নমনীয়তা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। এর ফলে লেন্সগুলো আকার পরিবর্তন এবং কাছের বস্তুকে ফোকাস করতে পারে না। লেন্স যখন শক্ত হতে থাকে তখন চোখ রেটিনাতে সরাসরি আলো ফোকাস করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

  •   বয়সঃ ৪০ বছর বয়সের পর প্রায় সবাই এ রোগে আক্রান্ত হন।
  •   অন্যান্য মেডিকেল কন্ডিশনঃ ক্ষীণদৃষ্টি অথবা কিছু নির্দিষ্ট ব্যাধি যেমন- ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস অথবা কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রিম্যাচুর প্রেসবাইয়োপিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, ৪০ এর কম বয়সী মানুষদের প্রেসবাইয়োপিয়া বলে গণ্য করা হয়।
  •   ঔষধঃ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ডাইইউরেটিক সহ নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ প্রিম্যাচুর প্রেসবাইয়োপিয়ার লক্ষণের জন্য দায়ী।  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

  • লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।
  • জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ এই রোগ বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। কেউ কেউ এটাকে ক্ষীণদৃষ্টি বলে কিন্তু এর অর্থ হল কাছের কোন বস্তু ফোকাস করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।    

উত্তরঃ এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব নয়। কিন্তু চিকিৎসার সাহায্যে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান করা যায়। এর চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে চশমা, কন্ট্যাক্ট লেন্স অথবা দৃষ্টি শক্তি ঠিক করার অপারেশন।

উত্তরঃ আপনার বয়স যদি ৪০ এর মাঝামাঝি হয় এবং বই পড়তে সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনার এই সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের অনেক সময় মনে হয় তাদের হাত অনেক ছোট অথবা কোন কিছু পড়ার সময় সেটাকে খুব কাছে নিয়ে পড়তে হয়। যাদের প্রেসবাইয়োপিয়া আছে তাদের চোখ থেকে বস্তুটি যত দূরে যেতে থাকে তত পরিষ্কার দেখায়।     

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  •   আপনার দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করুনঃ চোখে কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।
  •   আপনি কোন রোগে আক্রান্ত হলে তা ক্রনিক পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে তা নিয়ন্ত্রণ করুনঃ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মত সমস্যা থাকলে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।  
  •   সূর্যরশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করুনঃ আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি (UV) থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য সানগ্লাস ব্যবহার করুন, বিশেষ করে যদি অনেকক্ষণ ধরে রোদে থাকতে হয়। যদি UV সংবেদনশীলতা থাকে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।  
  •   চোখকে আঘাতের হাত থেকে রক্ষা করুনঃ খেলাধূলা, রঙ করা, বাগান পরিষ্কার করা এবং বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে কাজ করার সময় চোখে সুরক্ষা গগলস্‌ ব্যবহার করুন।
  •   স্বাস্থ্যকর খাবার খানঃ প্রচুর পরিমাণ ফলমূল, সবুজ শাকসবজি খেতে হবে। এই খাবারগুলো উচ্চ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- ভিটামিন ‘এ’ এবং বেটা ক্যারোটিন। এগুলো দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
  •   চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক চশমা ব্যবহার করুনঃ সঠিক চশমা ব্যবহারের মাধ্যমে চোখের সমস্যা অনেকাংশে দূর করা যায়। নিয়মিত চেক-আপ এর মাধ্যমে আপনি সঠিক চশমা ব্যবহার করছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে।  

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ তারিক রেজা আলী

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, ডিও, এমএস(চক্ষু) ফেলো (রেটিনা-ভিট্রিয়াস)

ডাঃশাহ-নুর হাসান

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

Fcps,Frcs

প্রফেসর ডাঃ শরফুদ্দিন আহমেদ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

প্রফেসর ডা:নজরুল ইসলাম

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

প্রফেসর ডা: দীন মো: নূরুল হক

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

ডাঃ ফেরদৌস আক্তার জলি

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

প্রফেসর ডাঃ দীপক কুমার নাগ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

প্রফেসর ডাঃ দিপক নাগ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

MBBS, FCPS(OPTH), MSc(Epid,UK), MSc(CEH,UK), FRF(India)