পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (Polycystic ovarian syndrome, PCOS)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

সন্তান ধারণে সক্ষম মহিলাদের হরমোন নিঃসরণকারী গ্রন্থিতে (endocrine system) কোনো সমস্যা  দেখা দিলে পি-সি-ও-এস (PCOS) বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত মহিলাদের ডিম্বাশয় অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে যায় এবং প্রত্যেক ডিম্বাশয়ে অল্প পরিমাণে ফলিকলস (এক প্রকারের তরল জাতীয় পদার্থের সংমিশ্রণ) থাকে, যা আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে পরীক্ষা করে নির্ণয় করা যায়।

পি-সি-ও-এস আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যে অনিয়মিত বা দীর্ঘায়িত মাসিক, শরীরে ব্রণ, অতিরিক্ত চুল ও লোম এবং স্থূলতা দেখা যায়। বয়ঃসন্ধিকালে অনিয়মিত মাসিক দেখা দিলে, তা এ রোগের একটি উপসর্গ হতে পারে।

এ রোগের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে প্রথম পর্যায়ে এ রোগ ধরা পড়লে এবং একই সাথে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা হলে এর কারণে সৃষ্ট অন্যান্য সমস্যা যেমন Type 2 ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

কারণ

ঠিক কি কারণে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম হয়ে থাকে, চিকিৎসকেরা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন । তবে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় এ রোগের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। যেমনঃ

  • ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ঃ ইনসুলিন এক প্রকারের হরমোন, যা প্যানক্রিয়াসে তৈরি হয়। গ্লুকোজ (শক্তির প্রধান উৎস) থেকে শক্তি উৎপাদনে ইনসুলিন দেহের কোষগুলোকে সাহায্য করে থাকে। ইনসুলিনের অভাবে এই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেয়। ইনসুলিনের এই ঘাটতি পূরণের জন্য ও কোষে পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন সরবরাহের জন্য প্যানক্রিয়াস থেকে অধিক পরিমাণে এই হরমোনের নিঃসরণ ঘটতে থাকে। অতিরিক্ত ইনসুলিনের প্রভাবে এন্ড্রোজেন উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ডিম্বাশয়ে স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় না।
  • ইনফ্লামেশন (প্রদাহ) ঃ  রক্তের শ্বেতকণিকা বিভিন্ন উপাদানের সাহায্যে প্রদাহ সৃষ্টিকারী  ইনফেকশন প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মহিলাদের দেহে শ্বেতকণিকা এই ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে পারে না এবং এই কারণে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এই প্রদাহ ডিম্বাশয়ের ক্ষতিসাধন করে থাকে ও ডিম্বাশয়ে এন্ড্রোজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

benzoyl peroxide, topical clindamycin phosphate, topical
clomiphene citrate erythromycin, topical
finasteride medroxyprogesterone acetate
metformin hydrochloride spironolactone
tretinoin, topical leuprolide

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

লিপিড প্রোফাইল (Lipid profile)
ও-জি-টি-টি (OGTT)
এফ-এস-এইচ (FSH)
এল-এইচ (LH)
টেসটোস্টেরন (Testosterone)
টি-এস-এইচ (TSH)
ইউ-এস-জি-এল/এ (USG L/A)
এইচ-বি-এ-ওয়ান-সি (HbA1c)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বংশগত কারণে এ রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। একই পরিবারের কোনো সদস্য পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হলে অন্যান্য সদস্যদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ হিস্প্যানিক ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এই রোগের স্থায়ীত্ব কম নয়। মহিলাদের যতদিন সন্তান ধারণ ক্ষমতা থাকে, ততোদিন পর্যন্ত এ রোগটি স্থায়ী হতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা, ঔষধ এবং দৈনন্দিন অভ্যাসগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

উত্তরঃ অনিয়মিত মাসিক দেখা দিলেই পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

উত্তরঃ পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত মহিলাদের ডিম্বাশয়ে সাধারণত ডিম্বাণু তৈরি হয় না। তবে আকস্মিক বা অনিয়মিতভাবে ডিম্বাণু উৎপাদনের ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ঠিক কখন ডিম্বাণু তৈরী হবে, তা সঠিকভাবে বলা যায় না। এ অবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য সেফ পিরিয়ড খুঁজে বের করা খুবই কঠিন। এক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা ভালো।

হেলথ টিপস্‌

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে-

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রিত ওজন এস্ট্রোজেন ও ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে এবং একই সাথে ডিম্বাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্থূলতা প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। এ ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনতে হবে। কম চর্বি এবং অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। তাই পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হলে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার কম খেতে হবে এবং একই সাথে আশঁযুক্ত খাবার বেশি খেতে হবে। আশঁযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে হজম হয়, তাই রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। আশঁযুক্ত যেসব খাবারে শর্করা থাকে সেগুলো হল শস্যদানা থেকে তৈরি রুটি, পাস্তা, বার্লি, ব্রাউন রাইস এবং মটরশুটি। শর্করাযুক্ত যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে সেগুলো হল সোডা, কেক, পাই, ডোনাট ও মিষ্টি বিস্কুট।
  • অলসতা ও কর্মবিমুখতা ত্যাগ করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম ও অনুশীলন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃশারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)