পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (Polycystic kidney disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (PKD) একটি বংশগত ব্যাধি। এই অবস্থায় কিডনির অভ্যন্তরে প্রাথমিকভাবে গুচ্ছাকারে সিস্ট গঠিত হয়। সিস্ট তরল পূর্ণ গোলাকার থলির মত দেখতে হয় এবং এদের থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এগুলো বিভিন্ন আকারের হয়ে থাকে, অতিরিক্ত তরল জমা হলে এদের আকার বৃদ্ধি পায়।

যদিও এই রোগ অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় কিডনিকে বেশি আক্রান্ত করে, তবে পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ লিভার এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। এই রোগের কারণে বিভিন্ন গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এই রোগের জটিলতাগুলোর মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ অন্যতম। এছাড়াও এ রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির কিডনি ফেইলিওরের সমস্যাও দেখা যায়।

পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ তীব্রতার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের হয় এবং এর কিছু কিছু লক্ষণ নিরাময়যোগ্য। জীবনধারার পরিবর্তন এবং সুচিকিৎসার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের মত কিডনির বিভিন্ন জটিলতা অনেকংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।


কারণ

PKD একটি বংশগত ডিজিজ। অর্থাৎ পিতা মাতা থেকে জিনের মাধ্যমে এই রোগ সন্তানের মধ্যে প্রবেশ করে। এই রোগ ২ ধরনের হয়ে থাকে।

PKD তে আক্রান্ত ৯০ শতাংশ ব্যাক্তির অটোসোমাল ডমিন্যান্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (ADPKD) অথবা অ্যাডাল্ট PKD রয়েছে। বাকি ১০ শতাংশদের অটোসোমাল রিসেসিভ পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজ (ARPKD) হয়ে থাকে যা সাধারণত নবজাতক এবং শিশুদের হয়ে থাকে।

বাবা-মায়ের থেকে ADPKD অথবা অ্যাডাল্ট PKD এর জিন সন্তানের মধ্যে প্রবেশ করে। কারণ এই জিন ডমিন্যান্ট বা প্রভাবশালী হয়ে থাকে, এক্ষেত্রে বাবা অথবা মায়ের এই রোগ থাকলে ৫০ শতাংশ সন্তান এতে আক্রান্ত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে জিনগত কারণ ছাড়াও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রোগ হতে পারে।

PKD এর ধরনের মধ্যে ARPKD খুব কম হয়ে থাকে। বাবা-মায়ের যখন ‘সাইলেন্ট ক্যারিয়ার’ থাকে তখন এই রোগ সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ বাবা-মা এই জিন বহন করে কিন্তু তারা PKD দ্বারা প্রভাবিত নয়। শতকরা ২৫ শতাংশ সন্তান বাবা-মায়ের থেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদি বাবা অথবা মায়ের যে কোন একজনের এই জিন থাকে সেক্ষেত্রে সন্তানের এর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকেনা।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

পুরুষ এবং নারী উভয়ই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কারণ এটি একটি জেনেটিক ডিজিজ, বাবা-মায়ের এই সমস্যা থাকলে সন্তানের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিকদের এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ PKD কিডনি ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তির লিভার, অগ্ন্যাশয়, প্লীহা, ডিম্বাশয় এবং বৃহদান্ত্রে সিস্ট দেখা দিতে পারে। এগুলো সাধারণত তেমন কোন গুরুতর সমস্যা করে না, তবে কোন কোন ব্যাক্তির এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। PKD মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ডেও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এটা মস্তিষ্ককে আক্রমণ করে তাহলে অ্যানিউরিজম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অ্যানিউরিজম হলে রক্ত নালী ফুলে উঠে এবং যে কোন সময় ফেটে গিয়ে স্ট্রোক এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। PKD দ্বারা হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর হৃৎপিণ্ডের কার্যকারীতা হ্রাস পায় এবং হার্টে “মারমার” হয়ে থাকে।     

উত্তরঃ বর্তমানে এই রোগ প্রতিরোধে তেমন কোন খাদ্যাভ্যাস নেই। এই রোগে আক্রান্ত যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাদের কম লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। কম চর্বি এবং সহনীয় মাত্রার ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে আপনার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন।   

উত্তরঃ অবশ্যই। তবে কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন, যে কোন শারীরিক পরিশ্রম করার সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা না যায়।  

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • কম লবণযুক্ত খাবার খান
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করুন
  • তামাকজাতীয় দ্রব্য বর্জন করুন
  • নেফ্রোলজিস্ট বা কিডনি স্পেশালিস্টের শরণাপন্ন হউন

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এশিয়া খানম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ রফিকুল আলম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

ডাঃ পারভেজ ইফতেখার আহমেদ

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)