ফ্যারিঞ্জাইটিস (Pharyngitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

গলার পিছনের দিকে অবস্থিত ফ্যারিঙ্কস (pharynx) নামক অংশের ইনফ্লামেশনকে ফ্যারিঞ্জাইটিস বলে। ফ্যারিঞ্জাইটিসের কারণে সাধারণত ব্যথা ও ঘায়ের সৃষ্টি হয়।

অন্যান্য ইনফ্লামেশনের মতো ফ্যারিঞ্জাইটিসও ক্রনিক বা অ্যাকিউট হয়ে থাকে। ফ্যারিঞ্জাইটিসের কারণে টনসিল বড় হয়ে যেতে পারে, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির খাবার গিলতে এবং নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। ফ্যারিঞ্জাইটিসের সাথে কাশি অথবা জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষত ফ্যারিঞ্জাইটিস যদি কোনো সিস্টেমিক ইনফেকশনের (systemic infection) কারণে হয় তাহলে।

অ্যাকিউট ফ্যারিঞ্জাইটিস সাধারণত ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে (৪০-৮০%)। এছাড়া ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন, ফাঙ্গাসজনিত ইনফেকশন, দূষণ সৃষ্টিকারী বস্তু এবং রাসায়নিক পদার্থের কারণেও এই রোগ হতে পারে। ফ্যারিঞ্জাইটিসের চিকিৎসা মূলত এর লক্ষণের উপর নির্ভর করে, তবে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল ঔষধ দ্বারা যথাক্রমে ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসজনিত ফ্যারিঞ্জাইটিসের চিকিৎসা করা হয়।

কারণ

মূলত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেই ফ্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে, তবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণেও এই রোগ হতে পারে।

যেসব ব্যক্তি সর্দি ও ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকে (যেমন স্বাস্থ্যকর্মী) তাদের ফ্যারিঞ্জাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া যাদের অ্যালার্জি ও সাইনাস ইনফেকশন আছে তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণেও ফ্যারিঞ্জাইটিস হতে পারে।

ভাইরাসজনিত ইনফেকশন

সাধারণত সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মনোনিউক্লেওসিসের মতো ইনফেকশনের কারণে ফ্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এই ইনফেকশনের চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। ভাইরাসের কারণে ফ্যারিঞ্জাইটিস হলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটির লক্ষণগুলি প্রশমিত করা প্রয়োজন।

ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন

কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের কারণেও ফ্যারিঞ্জাইটিস হয়ে থাকে। এই ধরনের ইনফেকশনের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনের মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কাস এ( streptococcus A) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশন সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এছাড়া কিছু  কিছু ক্ষেত্রে গনোরিয়া (gonorrhea), ক্ল্যামাইডিয়া (chlamydia) এবং করনিব্যাকটেরিয়ামের ( corynebacterium) মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশনও হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:   

amoxycillin azithromycin
benzyl penicillin cephalexin
clindamycin hydrochloride dexamethasone
erythromycin prednisolone

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

থ্রোট কালচার (Throat culture)
থ্রোট সোয়াব গ্রাম স্টেইন (Throat swab gram stain)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ফ্যারিঞ্জাইটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে:

  • এয়ার কন্ডিশন।
  • অ্যালার্জি
  • ক্রনিক কফ (Chronic cough)
  • রুক্ষ কন্ঠস্বর
  • উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশে বসবাস করা।
  • রিফ্লাক্স ইসোফ্যাজাইটিস (Reflux esophagitis)
  • সাইনোসাইটিস
  • ধূমপান
  • পরোক্ষ ধূমপান
  • শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে এমন কোনো চিকিৎসা বা রোগ, যেমন- ডায়াবেটিস, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কেমোথেরাপি ও এইডস (AIDS) ইত্যাদি।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এই রোগের ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলি অনুসরণ করা য়েতে পারে:

· গরম লবণপানি দিয়ে গার্গল বা গড়গড়া করা।

· গরম পানীয় পান করা (যেমন ক্যাফেইন ছাড়া চা, মধু মেশানো পানি, গরম স্যুপ)।

ইনফেকশনের কারণে ফ্যারিঞ্জাইটিস হলে, পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য বেশি পরিমাণে পানীয় পান করতে হবে।

উত্তরঃ গর্ভাবস্থায় ফ্যারিঞ্জাইটিস হলে এবং ফ্যারিঞ্জাইটিসের লক্ষণগুলি তীব্র রূপ ধারন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া লবনপানি দিয়ে গার্গল করার মতো ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমেও উপকার পাওয়া যেতে পারে। রোগটির লক্ষণ ৩ দিনের বেশি স্থায়ী হলে অথবা এর সাথে জ্বর দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ  নিতে হবে।

উত্তরঃ নিম্নোক্ত লক্ষণগুলি দেখা দেওয়ার পর আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ:

  • গলায় তীব্র ঘা।
  • মুখ থেকে লালা পড়া।
  • লালা বা পানীয় গিলতে অসুবিধা হওয়া।
  • মুখ খুলতে অসুবিধা হওয়া বা খুলতে না পারা।
  • শ্বাসকষ্ট।
  • গলা ব্যথা বা গলা শক্ত অনুভূত হওয়া।
  • গলা লাল হয়ে যাওয়া বা ফুলে ওঠা।
  • গলা থেকে রক্ত আসা, বা লালায় রক্ত থাকা।
  • ১০১ ফারেনাইটের উপরে জ্বর হওয়া।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করে ফ্যারেঞ্জাইটিস প্রতিরোধ করা যেতে পারে:

  • নিয়মিত হাত ধোয়া।
  • ফ্যারিঞ্জাইটিস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না যাওয়া।
  • সর্দি-কাশি ও ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের সময়ে ভিড়ের মধ্যে না যাওয়া।
  • ধূমপান ত্যাগ করা।
  • পরোক্ষ ধূমপান থেকে সাবধান থাকা।
  • টিকা গ্রহণ করা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)