পেরিটনসিলার অ্যাবসেস (Peritonsillar abscess)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পেরিটন্সিলার অ্যাবসিস একটি ব্যাক্টেরিয়াজনিত ইনফেকশন যা সাধারণত স্ট্রেপ থ্রট বা গলার ইনফেকশন অথবা টন্সিলাইটি্সের চিকিৎসা করা না হলে হয়ে থাকে এবং পুঁজ জমা হয়। গলার ইনফেকশন এবং টন্সিলাইটিসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। এই রোগ শিশু, যাদের বয়ঃসন্ধিকাল চলছে এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটা সাধারণত শীতের শুরু অথবা শেষের দিকে হয়ে থাকে, এসময় গলার ইনফেকশন এবং টন্সিলাইটিস ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করে।              

কারণ

গলার ইনফেকশনের জন্য দ্বায়ী ব্যক্টেরিয়া এই রোগ সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে অন্য কিছু প্রকারের ব্যক্টেরিয়া এই রোগের কারণ হয়ে থাকে। টন্সিলাইটিসের জটিলতার কারণে এই সমস্যার উদ্ভব ঘটে। টন্সিলে ইনফেকশন হবার পর যদি তা এর আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে তবে এই সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমান সময়ে এই রোগ খুব একটা দেখা যায় না, কারণ এটি প্রতিরোধের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে। দাঁত এবং মাড়ির রোগ এই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

পুরুষ এবং ২০-৩০ বছর বয়সী মানুষদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে। যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  • স্ট্রেপ ফ্যারেঞ্জাইটিস অথবা টন্সিমাইটিস
  •  অন্যান্য ব্যাক্টেরিয়ার কারণে ফ্যারেঞ্জাইটিস অথবা টন্সিমাইটিস
  •  মনোনিউক্লিওসিস
  •  গলা বা দাঁতে ইনফেকশন থাকলে।
  •  পিরিওডন্টাল ডিজিজ
  •  ধূমপান

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ পেরিটন্সিলার অ্যাবসিস মৃদু সংক্রামক। এই ইনফেকশন থুথু বা সর্দির মাধ্যমে এক ব্যাক্তি থেকে অন্য ব্যাক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

উত্তরঃ অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে পাকস্থলীতে অসুবিধা, ফুসকুঁড়ি এবং অ্যালার্জি হতে পারে। কর্টিকস্টারয়েডের কারণে অনিদ্রা এবং ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি অ্যাবসিসটিকে নিডলের সাহায্যে পরিষ্কার করা হয় সেক্ষেত্রেও অল্প কিছু প্বার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে রোগী তাড়াতাড়ি সুস্থ বোধ করেন।

স্কাল্পলের সাহায্যে এর চিকিৎসা করলেও কিছু প্বার্শ প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে সাময়িক রক্তক্ষরণ হতে পারে। ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে টগল অপসারণ করার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়। ড্রেইনিং এর মাধ্যমে অ্যাবসিস অপসারণ দ্রুত ব্যথা সারিয়ে উঠতে সাহায্য করে। অন্যান্য অপারেশনের মত টন্সিলেক্টমি পদ্ধতিতেও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

  

হেলথ টিপস্‌

এই রোগ প্রতিরোধে তেমন কোন নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নেই। তবে কিছু নিয়ম মেনে চলে এর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। যেমন- ধূমপান বর্জন, দাঁতের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং দাঁতের কোন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা।   

  • যদি আপনার পেরিটন্সিলার সেলুলাইটিস হয় সেক্ষেত্রে পেরিটন্সিলার অ্যাবসিস প্রতিরোধে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে পারেন। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে কোন অ্যাবসিস সৃষ্টি হচ্ছে কিনা এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।   
  • যদি আপনার অ্যাবসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (যেমন- যদি আপনার প্রায়ই টন্সিলাইটিসের সমস্যা দেখা দেয়) সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স কমপ্লিট করতে হবে, এমনকি যদি আপনি সময়ের আগেই সুস্থ হয়ে উঠেন তারপরও।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)