পেরিফেরাল নার্ভ ডিজঅর্ডার (Peripheral nerve disorder)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পেরিফেরাল নার্ভ ডিসঅর্ডার পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি নামেও পরিচিত।

পেরিফেরাল নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই রোগ হয়ে থাকে, এর কারণে হাত এবং পা এ দূর্বলতা, অসাড়তা এবং ব্যথা হয়। এছাড়া এটা শরীরের অন্যান্য অঙ্গকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পেরিফেরাল নার্ভাস সিস্টেম মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ড (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে শরীরের বাকি অংশে তা প্রেরণ করে।

পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ট্রমাটিক ইঞ্জুরী, ইনফেকশন, মেটাবলিক প্রবলেম, বংশগত কারণ এবং টক্সিনের সংস্পর্শ থেকে হতে পারে। ডায়াবেটিস মেলিটাস এই রোগ হওয়ার পিছনে অন্যতম কারণ।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ব্যথার ধরন তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে। এছাড়াও প্রায়ই এর থেকে তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা হয়। যদি এ রোগের অন্তর্নিহিত কারণগুলো চিকিৎসা করা সহজ হয় সেক্ষেত্রে এর লক্ষণ উপশম করা সম্ভব হয়। ঔষধের মাধ্যমে এই রোগের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

  •   অ্যালকোহল বা মদ্যপানঃ মদ্যপানের কারণে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন আসে যার কারণে শরীরে ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে।
  •   অটোইমিউন ডিজিজঃ যেমন- সগ্রেন’স সিন্ড্রম (Sjogren's syndrome), লুপাস (lupus), রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, গুলান ব্যারি সিন্ড্রম (Guillain-Barre syndrome), ক্রনিক ইনফ্লামেটরী ডিমায়ালিনেটিং পলিনিউরোপ্যাথি এবং নেক্রোটাইজিং ভাস্কিউলাইটিস।
  •   ঔষধঃ কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপীর কারণে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  •   ইনফেকশনঃ বিভিন্ন ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়াজনিত ইনফেকশন যেমন - লাইম ডিজিজ, সিঙ্গলস্‌ (ভ্যারিসেলা জস্টার), এপ্সটাইন বার ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি,লেপ্রসি, ডিপথেরিয়া এবং এইচ-আই-ভি।
  •   বংশগত ব্যাধিঃ সারকো-ম্যারি-টুথ ডিজিজ (Charcot-Marie-Tooth) এই রোগের একটি বংশগত ধরন।
  •   নার্ভ বা স্নায়ুতে আঘাত বা চাপ পড়লেঃ মোটরযান দূর্ঘটনা, পড়ে গিয়ে বা খেলাধূলার সময় কোন আঘাত থেকে পেরিফেরাল নার্ভ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া নার্ভে চাপ সৃষ্ট হয় এমন কাজ থেকেও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  •   টিউমারঃ নার্ভে ম্যালিগ্ন্যান্ট এবং বিনাইন টিউমার সৃষ্টি হলে তা নার্ভ এবং তার আশেপাশের জায়গার উপর চাপ প্রয়োগ করে।
  •   বোন ম্যারো ডিসঅর্ডারঃ রক্তে অস্বাভাবিক প্রোটিনের উপস্থিতি (মনোক্লোনাল গ্যামোপ্যাথিস), বোন ক্যান্সার (অস্টিওস্ক্লেরোটিক মায়ালোমা), লিম্ফোমা এবং অ্যামাইলোইডসিস।
  •   অন্যান্য রোগঃ যেমন - কিডনি ডিজিজ, লিভার ডিজিজ, কানেক্টিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার এবং হাইপোথায়রয়ডিজম।  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   ডায়াবেটিস মেলাইটাস, বিশেষ করে যদি সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে না থাকে।
  •   মদ্যপান
  •   ভিটামিনের অভাব, বিশেষ করে বি ভিটামিন।
  •   ইনফেকশন যেমন- লাইম ডিজিজ, সিঙ্গলস্‌ (ভ্যারিসেলা জস্টার), এপ্সটাইন বার ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি এবং এইচ-আই-ভি।
  •   অটোইমিউন ডিজিজ যেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং লুপাস, এ অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলক্রমে সুস্থ স্বাভাবিক কোষকে আক্রমণ করে বসে।
  •   কিডনি, লিভার অথবা থাইরয়েড ডিসঅর্ডার।
  •   টক্সিনের সংস্পর্শে আসলে।
  •   কিছু কিছু পেশা যেখানে একই কাজ বারবার করতে হয়।
  •   পারিবারিক সূত্রে এই রোগ থাকলে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। হিস্পানিক, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়ার কয়েক মাস পর এই রোগ ধীরে ধীরে সারতে থাকে অথবা সম্পূর্ণভাবেও সুস্থ হয়ে উঠা যায়। কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্রে নার্ভ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদা হয়ে থাকে।   

উত্তরঃ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ বংশগত নয়। কিছু জেনেটিক নিউরোপ্যাথিস আছে যেগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় আবার অনেক তাড়াতাড়ি সেরেও উঠে। বংশগত নিউরোপ্যাথির মধ্যে সারকো-ম্যারি-টুথ ডিজিজ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও কোন কোন ব্যাক্তির কিছু জেনেটিক ডিজিজের (যেমন-মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিজিজ) কারণে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।  

উত্তরঃ পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি অনেকগুলো নার্ভকে বা মাল্টিপল নার্ভ (পলিনিউরোপ্যাথি) আক্রান্ত করতে পারে অথবা একই সাথে কেবল মাত্র একটি নার্ভ বা একটি নার্ভ গ্রুপকে (মনোনিউরোপ্যাথি) আক্রান্ত করে।

কোন আঘাত, ইঞ্জুরী, লোকাল কমপ্রেশন, দীর্ঘসময় চাপ পড়লে অথবা ইনফ্লামেশনের কারণে একটি নার্ভ বা নার্ভ গ্রুপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মনোনিউরোপ্যাথি হয়ে থাকে। যেমন-

  •   কার্পাল টানেল সিন্ড্রম (বারবার করতে হয় এমন কাজ যেমন- কম্পিউটারের কাজ থেকে হাতের কবজিতে তীব্র ব্যথা এবং হাতের ডিসঅর্ডারকে বলা হয়ে থাকে।)
  •   বেল’স পালসি (ফেসিয়াল নার্ভ ডিসঅর্ডার)

অধিকাংশ ক্ষেত্রে, পলিনিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একই সাথে বেশ কিছু স্নায়ু নষ্ট হয়ে যায়।

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
  • ধূমপান বর্জন করুন।
  • সুষম খাবার খান।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
  • কর্মক্ষেত্রে অথবা স্কুলে কোন টক্সিনের সংস্পর্শে থাকা যাবেনা।
  • খেলাধূলার সময় পায়ে যেন কোনভাবে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
  • গ্লু বা অন্যান্য টক্সিনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি