অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (Pancreatic cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অগ্ন্যাশয়ের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে পিণ্ডের সৃষ্টি করলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টি হয়। এই ক্যান্সার কোষগুলি শরীরের অন্যান্য অংশকেও আক্রান্ত করতে পারে। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। এগুলির মধ্যে প্যানক্রিয়াটিক অ্যাডেনোকারসিনোমা (pancreatic adenocarcinoma) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮৫%-ই প্যানক্রিয়াটিক অ্যাডেনোকারসিনোমায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। তাই অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার বলতে অনেক সময় প্যানক্রিয়াটিক অ্যাডেনোকারসিনোমাকেই বোঝানো হয়। অ্যাডেনোকারসিনোমা নামক টিউমারগুলি অগ্ন্যাশয়ের সেই অংশ থেকে সৃষ্টি হওয়া শুরু হয় যেখান থেকে এনজাইম নামক হজমকারী/পাচককারী উপাদান উৎপন্ন হয়। অন্যান্য ধরনের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারগুলিও [যেগুলির অধিকাংশকে নন-অ্যাডিনোকারসিনোসমাস (non-adenocarcinomas) বলা হয়] এই কোষগুলি থেকে সৃষ্টি হতে পারে। নিউরোএনডোক্রাইন টিউমার (neuroendocrine tumors) অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের আরেকটি ধরন। অগ্ন্যাশয়ের হরমোন উৎপন্নকারী কোষ থেকে এটি সৃষ্টি হয়। অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১%-২% এর নিউরোএনডোক্রাইন টিউমার হয়ে থাকে। এটি প্যানক্রিয়াটিক অ্যাডেনোকারসিনোমা থেকে সাধারনত কম ক্ষতিকারক হয়ে থাকে।

কারণ

অগ্ন্যাশয়ের কোনো কোষের ডি-এন-এ( DNA) ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোষটি অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং সেটি থেকে অস্বাভাবিকভাবে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ কোষগুলো ক্যান্সার কোষ নামে পরিচিত এবং এরা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ফলে একটি টিউমারের সৃষ্টি হয়, যা উঁচু হয়ে শরীরের স্বাভাবিক সীমারেখা থেকে বেরিয়ে আসে/শরীরে বিকৃতি সৃষ্টি করে। এরপর টিউমার থেকে ক্যান্সার কোষ রক্ত বা লিমফ্যাটিক সিস্টেমের (lymphatic system) মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে ঠিক কী প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ডি-এন-এ (DNA) থেকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়, সে ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:    

capecitabine erlotinib
gemcitabine hydrochloride paclitaxel
5-Fluorouracil

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

এস-জি-ও-টি / এ-এস-টি (SGOT/AST)
এস-জি-পি-টি/ এ-এল-টি (SGPT/ALT)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এন্ডোস্কপিক রেট্রোগ্রেড কোলানজিও-প্যানক্রিয়াটোগ্রাফি (ই-আর-সি-পি) (Endoscopic retrograde cholangio-pancreatography (ERCP))
সিটি স্ক্যান অ্যাবডোমেন (CT scan abdomen)
সি-এ-১৯.৯ (CA-19.9)
সি-ই-এ (CEA)
ইউ-এস-জি ইউ/এ (USG U/A)
এফ-এন-এ-সি (Fine needle aspiration cytology - FNAC)
সিরাম এমাইলেজ (Serum amylase)
সিরাম লাইপেজ (Serum lipase)
পজিট্রন এমিশন টোমোগ্রাফি (Positron emission tomography, PET)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকে বৃদ্ধি করে:

  •  ধূমপান: ধূমপান অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। গবেষকরা দাবি করেছেন যে, ১/৪ বা ১/৫ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ধূমপানের কারণে সৃষ্টি হয়।
  • বয়স: ৮০% অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার ৬০ থেকে ৮০ বছর বয়স্ক ব্যক্তিদের হয়ে থাকে।
  • লিঙ্গ: মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ পুরুষরা সাধরণত বেশি ধুমপান করে থাকে।
  • ক্রনিক প্যানক্রিয়াটাইটিস: অগ্ন্যাশয়ের দীর্ঘকালীন প্রদাহ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সম্পর্কযুক্ত বলে ধারণা করা হয়।
  • ডায়াবেটিস মেলিটাস (Diabetes mellitus): দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বুদ্ধি পায়।
  • স্থূলতা/শরীরের অতিরিক্ত ওজন: স্থূলতা অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সম্ভাবনা বুদ্ধি করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ৮% অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের সাথে শরীরের অতিরিক্ত ওজন সম্পর্কযুক্ত।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এই রোগ হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ  কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের  মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ৩ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া চিকিৎসার ধরনের উপর নির্ভর করে। যেমন, রেডিয়েশনের মাধ্যমে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি রেডিয়েশন থেরাপি চলাকালীন দেখা দেয়। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেমোথেরাপির ধরনের উপর নির্ভর করে। কেমোথেরাপি প্রয়োগের ফলে ক্লান্তি, ক্ষুদামন্দা, স্বাদের পরিবর্তন, চুলপড়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এছাড়া কেমোথেরাপির জন্য শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে ইনফেকশনও হতে পারে।

উত্তরঃ এই রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতি কতোটা কার্যকর, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এখনো কোনো পদ্ধতিই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি।

উত্তরঃ অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। সার্জারির মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হলেও এই ক্যান্সার পুনরায় হতে পারে এবং এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও হতে পারে। হুইপেল প্রসিডিওর ( Whipple procedure)-এর পর সাধারণত ২০% অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তি ৫ বছর বেঁচে থাকে। বাকিদের গড় আয়ু ২ বছরেরও কম। অনিরাময়যোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আয়ু আরও কম হয়। 

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে:

  • অতিরিক্ত মিষ্টি খাদ্য পরিহার করা: অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টির ক্ষেত্রে রক্তে উচ্চ মাত্রার গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের একটি ভূমিকা থাকতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যে সব ব্যক্তির রক্তে গ্লুকোজ এবং ইনসুলিসের মাত্রা বেশি তাদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা যাদের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক তাদের তুলনায় দুই গুণ বেশি।
  •  ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা: অধিক পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ না করলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্বাভাবিক ওজনের ব্যক্তিদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা ৪৫% বেশি। তাছাড়া, মহিলাদের কোমর আকারে যতো বেশি বড়/চওড়া হয়, ততো তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • কম পরিমাণ মাংস আহার করা: একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, বেশি পরিমাণে মাংস আহার করলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করা মাংস আহার করলেও এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই গ্রিল, বারবিকিউ এবং বয়েল করা মাংস কম পরিমাণে গ্রহণ উচিৎ। এছাড়া সম্প্রতি আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সসেজ, হ্যাম বা বেকনে মতো প্রক্রিয়াজাতকৃত মাংস বেশি পরিমাণে খেলে অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার  হওয়ার সম্ভাবনা ৬৮% বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর মো: আনিছুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডা: চঞ্চল কুমার ঘোষ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা:এম.এস. আরফিন

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এ.এস.এম.এ রাইহান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)