অটাইটিস এক্সটারনা (Otitis externa (swimmer's ear))

শেয়ার করুন

বর্ণনা

কানের পর্দার বাইরের অংশ এবং কর্ণ গহ্বর (পর্দার ভিতরের অংশ) ফুলে যাওয়াকে অটাইটিস এক্সটারনা বলে। এই সমস্যাটি এক্সটারনাল অটাইটিস অথবা সুইমার’স এয়ার নামেও পরিচিত। অটাইটিস মিডিয়া এবং এক্সটারনাল অটাইটিস সমস্যা দুটির কারণে কানে ব্যথা অনুভূত হয়। অটাইটিস এক্সটারনার প্রধান উপসর্গ হলো কানের পর্দার ভিতরের অংশে ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া) হওয়া। শুধুমাত্র ডারমাটাইটিসের (এ্যাকজিমা) ক্ষেত্রে ইনফ্লামেশন মারাত্মক আকার ধারন করে না। এই রোগটি কোনো প্রকার জীবাণুর ইনফেকশন ছাড়াই হতে পারে অথবা ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগালের ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইনফেকশনের কারণে কানের পর্দার ভিতরের অংশ ফুলে যার এবং আক্রান্ত স্থানটি হাত দিয়ে স্পর্শ করলে ব্যথা অনুভূত হয়।                                                                                                                                                                                                                                                   

কারণ

সুইমার’স এয়ার হলো এক ধরনের ইনফেকশন। এই ইনফেকশন ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া পানি এবং মাটিতে দেখা যায়। খুব কম ক্ষেত্রেই ইনফেকশন ফাংগাস অথবা ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবে নিজেকে প্রতিরক্ষা করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। যে সমস্ত কারণে আপনার কানের কার্য ক্ষমতা কমে যায় এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় সেসমস্ত কারণ গুলো নিচে বর্ননা করা হলো।

  • কানে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং সাঁতারের পরে কান দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আর্দ্র বা ভেজা থাকলে কানে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।  
  • কটন সোয়াব, চুলের কাঁটা, আঙ্গুল দিয়ে কান পারিষ্কার করার সময় অথবা হেডফোন ব্যবহারের সময় কানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। এই ক্ষত স্থান গুলোতে ব্যাকটেরিয়া দেখা দেয়।  
  • চুলে ব্যবহৃত পন্যসামগ্রি অথবা অলংকার ব্যবহারের কারণে অ্যালার্জি সহ ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা গুলোর ফলে ত্বকে ইনফেকশন হয়ে থাকে।  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নরূপ।

  • সাঁতার কাটলে
  • যে সকল স্থানের পানিতে ব্যাকটেরিয়া বেশি থাকে যেমনঃ লেক (জলাশয়)। এই সকল স্থানে সাঁতার কাটলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়
  • শিশুদের কর্ণ গহ্বর সরু হয় এজন্য কোনো কিছু এই স্থানে সহজে আটকে যায়। যার ফলে এই সমস্যাটি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়
  • কটন সোয়াব অথবা অন্যান্য বস্তুর সাহায্য দ্রুতি গতিতে কান চুলকানোর কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়
  • হেডফোন ব্যবহার করলে
  • অলংকার, চুলে স্প্রে মেশিন ব্যবহার করলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ শিশুদের মধ্য কর্ণের ইনফেকশন এবং সুইমার’স এয়ার রোগ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদি আপনি কোনো প্রকার ব্যথা অথবা অস্বস্তি ছাড়াই কানের পর্দার বাইরের অংশে ঝাঁকুনি অনুভব করেন তাহলে সেটিকে অবশ্যই সুইমার’স এয়ার বলা যাবে না।                                                                                         

উত্তরঃ এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার শুরুতেই কানে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়।

  • চিকিৎসার পরে সাধারনত ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই ব্যথা দূর হয়ে যায়।
  • চিকিৎসার ২ সপ্তাহের পরে ইনফেকশন দূর হয়ে যায়।                                                                     

হেলথ টিপস্‌

অটাইটিস এক্সটারনা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরন করতে হবে।

  • সাঁতার অথবা গোছলের পরে ভালোভাবে কান মুছতে হবে। নরম কাপড়ের সাহায্যে ধীরেধীরে কান মুছতে হবে। কর্ণ গহ্বরে পানি ঢুকে গেলে মাথা একপাশে কাত করে ঝাকাতে হবে। এর ফলে পানি কানের বাইরে বের হয়ে আসবে। যদি কানের (প্রায় ৩ মিটার) গভীরে পানি ঢুকে যায় তাহলে কানে বাতাস প্রবেশ করানোর মাধ্যমে পানি শুকাতে হবে।
  • ব্যাকটেরিয়া আকান্ত পানিতে সাঁতার কাটা যাবে না।  
  • কটন সোয়াব, চুলের কাঁটা দিয়ে কান পরিষ্কার করা উচিত নয়। এই সমস্ত উপকরন ব্যবহারের কারণে কর্ণ গহ্বরের (কানের পর্দার ভিতরের অংশ) পাতলা ত্বকে চুলকানি অথবা ক্ষত দেখা দিতে পারে।
  • চুল শুকানোর মেশিন ব্যবহারের সময় কানে তুলা দিয়ে রাখতে হবে।
  • যদি আপনার কানে ইনফেকশন দেখা দেয় অথবা কানে অপারেশন করে থাকেন তাহলে সাঁতার কাটার পূর্বে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।  

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)