ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া (Oral leukoplakia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যার কারণে মুখের ভিতরে সাদা রঙ্গের দাগ দাগ দেয়। এই সমস্যাটি সম্পূর্নভাবে নির্ণয় এবং নিরাময় করা যায় না। তিনটি কারণে এই দাগ গুলো সাদা রঙ্গের হয়ে থাকে। হাইপারক্যারাটোসিস অথবা অতি মাত্রায় ক্যারেটিন উৎপন্ন হওয়া (ক্যারেটিন হলো সাদা রঙ্গের পরত বা স্তর যেটিকে নখ দিয়ে ত্বক আঁচড়ানোর কারণে দেখা যায়), সেল বা কোষের উপরিভাগের স্তরের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া এবং ডিসপ্লেসিয়া অথবা ক্যান্সারের কারণে ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া দেখা দেয়। লিচেন প্লানাস, ইস্ট ইনফেংশন এবং খাবার খাওয়ার সময় মুখে ক্ষতের কারণে মুখে সাদা দাগ দেখা দেয় কিন্তু এই সাদা দাগ গুলোকে ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি মুখের যে কোনো একটি অংশে দেখা দেয় এবং এই সমস্যাটি পুরুষদের বেশি হয়ে থাকে। এটি মুখের যে কোনো অংশে দেখা দিতে পারে। তবে সাধারনত এই সমস্যাটি জিহ্বা, মাড়ি এবং গলার ভিতরে দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, জিহ্বার নিচে এবং মুখের নরম স্থানের ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে। কিছু কিছু ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া লাল রঙ্গের, রুক্ষ এবং অসমতল/উঁচু- নীচু হয়ে থাকে। এই ধরনের ওরাল লিউকোপ্লাকিয়ার কারণেও ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়।                    

কারণ

এই রোগের কারণ গুলো নিচে দেওয়া হলো।

  • ধুমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করা
  • মুখের তালুতে চুলকানি, আলগা দাঁত এবং রুক্ষ দাঁতের কারণে জিহ্বা এবং গলার ভিতরে ঘষা বা আঁচড় লাগা।
  • দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সূর্যের সংস্পর্শে থাকা।
  • ওরাল ক্যান্সার
  • এইচআইভি/এইডস  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

ওরাল লিউকোপ্লাকিয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই তবে এই রোগের সুনির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৮০ ভাগ রোগীই তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অধুমপায়ীদের তুলনায় ধুমপায়ীদের এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৬ গুন বেশি। এই রোগের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো হলো অতিমাত্রায় মদ্যপান, দূর্বল ইমিউন সিস্টেম, দীর্ঘদিন ধরে ইমিউন সুপ্রেসিং মেডিকেশন গ্রহন, ব্যক্তির পূর্বে ক্যান্সার থাকলে, পরিবারে কারো ক্যান্সার থাকলে এবং বাদাম ও পান চিবালে।                                                                                                                                                                            

সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ওরাল লিউকোপ্লাকিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জিহ্বা এবং গলার ভিতরে সাদা দাগ দেখা দেয় এবং এই দাগ গুলোকে সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা যায় না। সাধারনত এই রোগে আক্রান্ত ৮০ ভাগ রোগীর বয়স ৪০ বছরের বেশি। ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, রুক্ষ দাঁত ইত্যাদির কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। ওরাল লিউকোপ্লাকিয়ার কারণে ব্লাড ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে যদি কোনো ব্যক্তি ১০ বছর ধরে এই রোগে আক্রান্ত থাকেন তাহলে ৩ ভাগ লিউকোপ্লাকিয়া থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হতে পারে।                                                                                                                                                        

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয় গুলো অনুসরন করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ধুমপান পরিহারের মাধ্যমে ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • মদ্যপানের কারণে লিউকোপ্লাকিয়া দেখা দেয়। মদ এবং সিগারেটের ক্ষতিকর রাষায়নিক পদার্থ মুখের টিস্যুগুলোর ভিতরে প্রবেশ করে। যার ফলে মুখের ভিতরে দাগ দেখা দেয়। এই কারণে মদ এবং ধুমপান পরিহার করা উচিত।
  • ফলমূল এবং শাকসবজিতে বেটা ক্যারোটিন থাকে যা মুখের টিস্যু গুলোর জন্য ক্ষতিকর অক্সিজেন মলিকিউল (অণু) গুলোকে নষ্ট করে দেয়। যার ফলে ওরাল লিউকোপ্লাকিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। কমলা ও কালো রঙ্গের ফল এবং শাকসবজি যেমনঃ সবুজ শাক, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, ক্যাটালোপ, পালংশাক এবং স্কোয়াশে (লাউ জাতীয় তরকারি) বেটা ক্যারোটিন থাকে।