নবজাতকের জন্ডিস (Neonatal jaundice)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রক্তে উচ্চমাত্রার বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণে নবজাতকের জন্ডিস হয়। লোহিত রক্ত কণিকা শরীর থেকে অপসারণের সময় হলুদ রংয়ের বিলিরুবিন তৈরি করে। লিভার এই বিলিরুবিনকে মলের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুর ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় এবং এর ফলে নবজাতকের জন্ডিস হয়। নবজাতকের জন্ডিস একটি ব্যাধি, বিশেষ করে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্মগ্রহণ করে তারা এতে আক্রান্ত হয় (প্রি-টারম - ৩৪ সপ্তাহের পূর্বে)। নবজাতকের লিভার অপরিপক্ক হলে তা রক্ত প্রবাহে বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

কারণ

নবজাতকের জন্ডিস হবার কারণগুলি নিচে দেওয়া হলোঃ

  • রক্তকোষের আকারের অস্বাভাবিকতা।
  • রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতি।
  • বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণ।
  • সিসটিক ফাইব্রোসিস (cystic fibrosis) এবং হেপাটাইটিস (hepatitis)।
  • হাইপক্সিয়া বা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া।
  • বংশগত বিভিন্ন ধরনের ব্যাধি।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

immunoglobulin phenobarbital sodium

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

অ্যালবুমিন (Albumin)
আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাসেস (এ-বি-জি-এস) (Arterial blood gases (ABGs))
ব্লাড গ্রুপ এন্ড আর-এইচ (Blood Group & Rh)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এইচ-বি% (হিমোগ্লোবিন) (HB% (Haemoglobin))
পি-বি-এফ (পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম) (PBF (Peripheral Blood Film))
রেটিকুলোসাইট কাউন্ট (Reticulocyte count)
থাইরয়েড ফাংশন টেষ্ট (Thyroid function test)
ইউ-এস-জি ইউ/এ (USG U/A)
ফটো থেরাপি (Photo Therapy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়গুলোর কারণে নবজাতকের জন্ডিস হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেগুলো হলো:

  • নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে শিশু জন্মগ্রহণ করলে নবজাতকের জন্ডিস হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • জন্মের সময় কালশিটে দাগ (ব্রুইজ) থাকলে নবজাতকের জন্ডিস হবার সম্ভাবনা থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃপুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ বেশি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ প্রতিটি মানুষের রক্তে বিলিরুবিন থাকে এবং এটি লিভারের মাধ্যমে শরীর থেকে অপসারিত হয় । গর্ভাবস্থায় মায়ের লিভারের মাধ্যমে শিশুর শরীর থেকে বিলিরুবিন অপসারিত হয়। নবজাতকের জন্মের পরে তাদের লিভার বিলিরুবিন অপসারণ করতে কিছু দিন সময় নেয়। এই কারণে অধিকাংশ নবজাতকের জন্মের পরে জন্ডিস হয়ে থাকে।

উত্তরঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবজাতকের জন্ডিস ক্ষতিকর হয় না। খুব কম ক্ষেত্রেই  বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। এই কারণে সদ্য নবজাতকের জন্ডিস আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং বিলিরুবিনের উচ্চ মাত্রা কমানোর জন্য চিকিৎসা করতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

মায়ের দুগ্ধ পান করানো হচ্ছে নবজাতকের জন্ডিস প্রতিরোধের সবচেয়ে উত্তম পন্থা। যেসব নবজাতক শিশু মায়ের দুগ্ধ পান করে তাদেরকে এক দিনে ৮-১০ বার দুগ্ধ পান করানো উচিত।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা:মোহাম্মদ হানিফ

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: আলী কাওছার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

ডা: আহমেদ জাহিদ হোসেন

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আব্দুল মান্নান

নিউন্যাটোলজি ( নবজাতক) ( Neonatology)

প্রফেসর ডা: মো: সেলিমুজ্জামান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: সাইদা আনোয়ার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: মো: মিজানুর রহমান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)