নাকের পলিপ (Nasal polyp)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

নাকের পলিপ হচ্ছে নাক বা সাইনাসের গায়ে অবস্থিত নরম ও ব্যথাহীন পিণ্ড। এই পিণ্ড কখনোই ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় না। এগুলো আঙ্গুরের দানার মত নাকের নিচের দিকে ঝুলে থাকে। এ্যাজমা, ইনফেকশন, এ্যালার্জি, ঔষধের প্রতিক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে নাকের পলিপ হয়ে থাকে। বৃহৎ আকৃতির নাকের পলিপ নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, যেমন- শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট, ঘ্রাণ শক্তি কমে যাওয়া এবং বার বার ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এই রোগ যে কোন বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে এটা প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ঔষধ গ্রহনের মাধ্যমে নাকের পলিপ নিরাময় করা সম্ভব। কিন্তু এটি ভালো করার জন্য মাঝে মাঝে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা করার পরেও এটি পুনরায় হতে পারে।

কারণ

বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত নাকের পলিপের সঠিক কারন আবিষ্কার করতে পারেন নি। নাকের এবং সাইনাসের তরল উৎপাদক আবরণের (মিউকাস মেমব্রেন) মধ্যে প্রদাহের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যাদের পলিপ থাকে তাদের মিউকাস মেমব্রেনে ভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক পদার্থ (কেমিক্যাল মার্কার) তৈরী হয়। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভিন্নভাবে কাজ করে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:    

budesonide, nasal fluticasone
montelukast sodium prednisolone

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

বায়োপসি (Biopsy)
সিটি স্ক্যান (CT scan)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয় গুলোর কারনে আপনার নাকের পলিপ হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেগুলো হলোঃ

(ক) এ্যাজমাঃ এ্যাজমার কারনে শ্বাসনালীতে প্রদাহ হয় এবং শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে যায়।

(খ) অ্যাস্পিরিনের প্রতি সংবেদনশীলতাঃ অ্যাস্পিরিনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারনে নাকের পলিপ সৃষ্টি হতে পারে।

(গ) সিসটিক ফাইব্রোসিসঃ এটা একটি বংশগত ব্যাধি। সিসটিক ফাইব্রোসিসের কারনেও নাকের পলিপ হতে পারে।

(ঘ) চার্গ-স্ট্রওস (Churg-Strauss) সিন্ড্রোমঃ চার্গ-স্ট্রওস সিন্ড্রোম খুবই বিরল এবং এর কারনে রক্ত নালীর প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ নাকের এক পাশের পলিপ খুব একটা মারাত্মক নয়। নাকের পলিপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই নাকেই হয়ে থাকে। যদি নাকের পলিপ নাকের এক পাশে হয় তাহলে এটা ভালো করা সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

রোগটি প্রতিরোধ করতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে-

  • এ্যাজমা এবং অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে নাকের পলিপ নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।
  • এমন কোন কিছু ব্যবহার করা যাবে যা নাকে যন্ত্রনা সৃষ্টি করে।
  • স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন করতে হবে।
  • বসবাসস্থল শুষ্ক রাখার মাধ্যমে নাকের পলিপ কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)