মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple sclerosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS) হলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্নায়ুর প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনীকে (মায়ালিন) আক্রমণ করে। মায়ালিন মস্তিষ্ক এবং শরীরের মধ্যকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এক পর্যায়ে স্নায়ু এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে অবস্থার আর কোন পরিবর্তন সম্ভব হয় না।

এ রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গ ক্ষতির পরিমাণ এবং কোন স্নায়ু আক্রান্ত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে। এই রোগ তীব্র মাত্রায় পৌঁছালে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কারও সাহায্য নিয়ে হাঁটতে হয় অথবা একেবারেই হাঁটাচলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের কোন উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা নেই। তবে কিছু চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠা, রোগের তীব্রতা এবং লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


কারণ

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, এটি একটি অটোইমিউন ডিজিজ যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজ টিস্যুকে আক্রমণ করে। এই রোগ মায়ালিনকে নষ্ট করে দেয়। মায়ালিন একটি ফ্যাট জাতীয় উপাদান যা মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ডে অবস্থিত স্নায়ুতন্ত্রকে আবৃত করে রাখে এবং সুরক্ষা প্রদান করে।

বৈদ্যুতিক তারের উপর যেমন নিরোধক ব্যবহার করা হয় মায়ালিনও তেমনি স্নায়ুর নিরোধক হিসেবে কাজ করে। যখন মায়ালিন ক্ষতগ্রস্ত হয় তখন স্নায়ুর মাধ্যমে যে সব তথ্য প্রবাহিত হয় সেগুলোর গতি কমে যায় অথবা বাধাগ্রস্ত হয়।

কেন এই রোগ কিছু কিছু ব্যাক্তিকে আক্রান্ত করে কিন্তু সবাইকে নয়, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। যেমন- জীনগত বৈশিষ্ট্য এবং শৈশবে কোন ইনফেকশন থাকলে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যেসকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   বয়সঃ যে কোন বয়সেই এ রোগ হতে পারে। তবে ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যাক্তিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
  •   লিঙ্গঃ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি।
  •   পারিবারিক সূত্রঃ পরিবারের অন্য কারও এ সমস্যা থাকলে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
  •   নির্দিষ্ট কিছু ইনফেকশনঃ কিছু কিছু ভাইরাস এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সম্পর্কিত। যেমন- এপ্সটাইন-বার (Epstein-Barr) ভাইরাস, যার কারণে ইনফেকশিয়াস মনোনিউক্লিয়াস রোগ হয়ে থাকে।
  •   নির্দিষ্ট অটোইমিউন ডিজিজঃ থাইরয়েড ডিজিজ, টাইপ-১ ডায়াবেটিস অথবা ইনফ্লামেটরী বাওয়েল ডিজিজ হলে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  •   ধূমপানঃ অধূমপায়ীদের তুলনায় ধূমপায়ীদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের এবং হিস্পানিকদের এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ এবং অন্যান্য জাতিদের ২ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ সাধারণ অর্থে এটা কোন মারাত্মক রোগ নয় এবং এ রোগে আক্রান্ত অনেকেই সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করে থাকেন। খুব কম ক্ষেত্রে এটা গুরুতর আকার ধারণ করে, যদিও এর বেশীরভাগ জটিলতাই প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণত এ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তা মারাত্মক আকার ধারণ করে না, তবে যদি কখনো এমন হয় সেক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতিও হতে পারে।  

উত্তরঃ না, MS ছোঁয়াচে বা সরাসরি বংশগত নয়। গবেষণা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কিছু জীনগত এবং পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য এ রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। 

উত্তরঃ যদিও খাদ্যাভাসকে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পিছনের কোন কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়না, তবে কোন কোন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের কাছ থেকে জানা গেছে খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেকেই উপকারীতা পেয়েছেন। নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস অবসাদ দূর করা, মূত্রনালী এবং অন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা্র সমাধান, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করা এবং হাড় ক্ষয় হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এছাড়াও তা স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করা সহ মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
  • শারীরিক চর্চাঃ আপনারMS যদি মৃদু থেকে মাঝারী পর্যায়ের হয়, সেক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যায়াম শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি, মাংসপেশীর গঠন সুদৃঢ় এবং শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যদি তাপমাত্রায় সমস্যা হয় তাহলে সাঁতার কাটা সহ পানির অন্যান্য ব্যায়ামী ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া হাঁটা, স্ট্রেচ করা, অ্যারোবিক্স, সাইকেল চালানো, যোগ ব্যায়াম এবং অন্যান্য ব্যায়ামও করা যেতে পারে।
  • শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখুনঃ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় এ রোগের লক্ষণগুলো গুরুতর আকার ধারণ করে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলতে হবে এবং স্কার্ফ বা রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে এমন কাপড় পরিধান করতে হবে।
  • সুষম খাবার খানঃ কিছুগবেষণায় দেখা গেছে, কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত কিন্তু উচ্চ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন- জলপাই এবং মাছে তেল এ রোগের ক্ষেত্রে অনেক উপকারী। তবে এ বিষয়ে পুনরায় গবেষণা প্রয়োজন। আবার কিছু গবেষণায়র ভিটামিন-ডি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
  • মানসিক চাপ দূর করুনঃ মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা এ রোগের লক্ষণ এবং উপসর্গকে আরো খারাপ করে দেয়। যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, মাসাজ এবং দীর্ঘ নিঃশ্বাস নেয়া মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ (সবুজ)

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)