মাইট্রাল ভাল্ভ ডিজিজ (Mitral valve disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

মাইট্রাল ভাল্ভে কোন সমস্যা দেখা দিলে মাইট্রাল ভাল্ভ ডিজিজ হয়ে থাকে। এই ভাল্ভ হৃৎপিণ্ডের বাম প্রকোষ্ঠে অবস্থান করে এবং রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এটা বাম অলিন্দ থেকে বাম নিলয়ে রক্ত সরবরাহ করে, কিন্তু বিপরীত দিকে ফিরে আসতে বাধা প্রদান করে।

যখন মাইট্রাল ভাল্ভ সঠিকভাবে কাজ করেনা তখন অবসাদ এবং শ্বাসকষ্টের মত বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পায়। কারণ তখন ত্রুটিপূর্ণ ভাল্ভ বাম অলিন্দে বিপরীতমূখী রক্ত সরবরাহ করে থাকে। এ অবস্থায় হৃৎপিণ্ড বাম নিলয় থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত সরবরাহ করতে পারে না। যার কারণে সারা শরীরে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছাতে পারেনা। এ রোগে আক্রান্ত অনেকেরই অনেক সময় কোন লক্ষণ প্রকাশ পায়না।

এই রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। চিকিৎসা করা না হলে হার্ট ফেইলিওর অথবা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের (অ্যারিথমায়াস) মত প্রাণঘাতি সমস্যা দেখা দিতে পারে।


কারণ

জন্মের আগে টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলে এই রোগ হতে পারে। যেমন- মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর মাইট্রাল ভাল্ভের সম্মুখ অংশ পর্যাপ্ত প্রশস্ত না হলে অথবা ভাল্ভের দুটি লিফলেট অস্বাভাবিক আকৃতির হলে এবং বাম অলিন্দে রক্তে বিপরীতমূখী প্রবাহসম্পূর্ণরূপে বন্ধ না হলে।মিক্সোমেটাস ডিজেনারেশন, কঞ্জেনিটাল কানেক্টিভ টিস্যু ডিসঅর্ডার ভাল্ভের লিফলেট গুলোকে দূর্বল এবং অনুপযুক্ত করে তোলে।

ইনফেকশন থেকে ভাল্ভের গঠন বদলে যেতে পারে। যা শৈশবের স্কার্লেট ফিভারের চিকিৎসা না করা হলে রিউম্যাটিক ফিভারের মত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই রিউম্যাটিক ফিভার থেকে ভাল্ভের টিস্যুতে ক্ষত সৃষ্টি হয়।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো অজানা। যে সব ইনফেকশনের কারণে হার্ট-ভাল্ভে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয় সেগুলো নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহারকারী এবং দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। করোনারী আর্টারি ডিজিজ এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণেও ভাল্ভের গঠনে বিকৃতি দেখা দিতে পারে। যাদের মারফান’স ডিসঅর্ডারের মত হেরেডিটারী কানেক্টিভ টিস্যু ডিসঅর্ডারের সমস্যা রয়েছে তাদের এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে ২ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ এটা সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে-

  •  মাইট্রাল ভাল্ভ রিগার্জিটেশনঃ যখন মাইট্রাল ভাল্ভ শিথিল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং এর কারণে বাম অলিন্দে রক্ত ক্ষরণ হয় তখন এ সমস্যা দেখা যায়।
  • মাইট্রাল ভাল্ভ স্টেনোসিসঃ মাইট্রাল ভাল্ভের সম্মুখ অংশ সংকীর্ণ হয়ে গিয়ে যখন পাম্পিং চেম্বারে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে তখন এটা হয়ে থাকে। 

হেলথ টিপস্‌

যাদের মৃদু মাত্রায় মাইট্রাল ভাল্ভ ডিজিজ রয়েছে যেমন- মাইট্রাল ভাল্ভ প্রল্যাপ্স তাদের এ অবস্থায় কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তবে এ রোগে আক্রান্তদের দাঁতের কোন অপারেশনের পূর্বে এবং পরে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে। কারণ মুখ থেকে ব্যাক্টেরিয়া রক্তপ্রবাহে মিশে গিয়ে হৃৎপিণ্ডের মাংসপেশীতে ইনফেকশন সৃষ্টি হতে পারে, যা থেকে ভাল্ভ ডিজিজ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।মাইট্রাল ডিজিজ তীব্র মাত্রায় পৌঁছালে অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। যেমনঃ

  • বেলুন ভালভুলোপ্লাস্টি (ক্যাথেটারের অগ্রভাগে একটি বেলুন সংযুক্ত থাকে যার দ্বারা মাইট্রাল স্টেনোসিস হলেভাল্ভ ফ্ল্যাপ্স বা ভাল্ভের ঝাপটা প্রশস্ত করা হয়)
  • ভাল্ভ রিপেয়ার এবং
  • ভাল্ভ রিপ্লেসমেন্ট বা প্রতিস্থাপন সার্জারী।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

সহযোগী অধ্যাপক ডা: আবদুল মোমেন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ব্রিগে. (রিটা.) আবদুল মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: সাবিনা হাশেম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: মো: সাফিউদ্দিন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: মোহসিন হোসেইন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: সৈয়দ আলী আহসান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)