লাইম ডিজিজ (Lyme disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

বোরেলিয়া বাগডোরফেরি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে লাইম ডিজিজ দেখা দেয়। এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত বা সংক্রামিত পোকার (ব্লাকলেগ্ড টিকস) কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। জ্বর, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি এবং ত্বকে র‍্যাস (ফুসকুড়ি) দেখা দেওয়া হলো এই রোগের সাধারন উপসর্গ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা না করলে ইনফেকশন ব্যক্তির শরীরের সংযুক্ত স্থান, হৃৎপিন্ড এবং স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। রোগের উপসর্গ, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং আক্রান্ত পোকার বিস্তারের সম্ভাবনার উপর নির্ভর করে এই সমস্যাটিকে নির্ণয় করা হয়। অ্যান্টিবায়টিক ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগটি সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা সম্ভব। পোকা তাড়ানোর ঔষধ ব্যবহার, অবিলম্বে পোকা অপসারণ, কীটনাশক প্রয়োগ এবং পোকার বাসস্থান নষ্ট করার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। যে সমস্ত পোকার কারণে লাইম ডিজিজ দেখা দেয় সে সমস্ত পোকা অন্যান্য রোগও সৃষ্টি করতে পারে।                                                                                                                                                                                

কারণ

লাইম স্পাইরোসিট দ্বারা আক্রান্ত পোকার কারণে লাইম ডিজিজ হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ বা ছোট আকারের পোকা এই রোগ ছড়ায়। এই পোকা গুলোর আকার পোস্তদানার মত হয়ে থাকে। যার ফলে এই পোকা গুলোর কামড়ে ব্যথা অনুভূত হয় না। এই পোকা গুলো দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যক্তির শরীরে আটকে থাকে। যার ফলে লাইম ডিজিজের ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই এই পোকা গুলোর মাধ্যমে ব্যক্তির রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে।

যদি গর্ভবতী মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন তাহলে গর্ভের শিশুটিরও মাঝে মাঝে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো নিম্নরূপ।

  • যে সকল ব্যক্তি বাগানে কাজ করে, শিকার করে অথবা দূরে কোথাও ভ্রমণে যায় তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • ঘরে পশু পালন করলে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • বড় বড় ঘাসের মধ্য দিয়ে হাটলে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ কম, হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৪ গুন কম।     


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ যদিও রক্ত দানের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না তবুও কিছু কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে, যেহেতু এই রোগের ব্যাকটেরিয়া রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে সেহেতু এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ত দান করা থেকে বিরত থাকবেন। লাইম ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহন করেন তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তিটি অন্য ব্যক্তিকে রক্ত দান করতে পারবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সম্পূর্ন এই রোগের চিকিৎসা করার পরে অন্য ব্যক্তিকে রক্ত দান করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে রেডক্রিসেট সোসাইটির প্রাদানকৃত তথ্য মেনে চলতে হবে।                 

উত্তরঃ লাইম ডিজিজে আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভের ভ্রুণটির বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। মায়ের লাইম ডিজিজ থাকলে নবজাতকেরও এই রোগ দেখা দিতে পারে। তবে লাইম ডিজিজে আক্রান্ত সকল নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই রোগ মারাত্মক আকার ধারন করে না এবং অধিকাংশ শিশু কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়ায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।                                                                                     

উত্তরঃ লাইম ডিজিজ ছোঁয়াচে নয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ, চিকিৎসা করলেও এই রোগ ছড়ায় না। এই ধরনের রোগীদের সাথে যৌন সম্পর্ক থাকলেও এই রোগ ছড়ায় না।                    

হেলথ টিপস্‌

এখন পর্যন্ত এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। নিম্নলিখিত পদ্ধতি গুলো অনুসরনের মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ফুটপাত দিয়ে হাঁটা উচিত এবং বড় বড় ঘাসের ভিতর দিয়ে হাঁটা উচিত নয়।
  • পোকা আক্রান্ত এলাকায় কাজ করার সময় প্রতিরক্ষামূলক কাপড় পরিধান করতে হবে।
  • আক্রান্ত ত্বকে পোকা প্রতিরোধক ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।
  • আপনার মাথা, ঘাড় এবং ত্বকে (যেমনঃ বগল, কুঁচকি ও কোমরের বদ্ধ অংশ) যেন কোনো প্রকার পোকা আক্রমণ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • আপনার শিশুর মাথার ত্বক এবং ঘাড় পর্যাবেক্ষণ করতে হবে।
  • কাপড়ের মাধ্যমে কোনো প্রকার পোকা যেন ঘরে প্রবেশ না করে সে ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে।
  • ঘরে পোশ্য পশুর মাধ্যমে এই ধরনের পোকা না ছড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)