এসেনশিয়াল ট্রেমর (Essential tremor)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এসেনশিয়াল ট্রেমর হলো এক ধরনের নিউরোলজিকালডিজঅর্ডার। এই সমস্যাটির কারণে শরীরে ঝাঁকুনি বা কাঁপুনি অনুভূত হয়। এই সমস্যাটি আপনার শরীরের যেকোনো অংশে দেখা দিতে পারে। তবে হাত এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। হাতের সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ যেমনঃগ্লাসে পানি ঢালা, জুতার ফিতা বাঁধা অথবা শেভ করার সময় এই সমস্যাটি দেখা দেয়। আপনার মাথা, কণ্ঠস্বরঅথবা পা এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

যদিওএসেনশিয়ালট্রেমর কোনো মারাত্মক রোগ নয় তবুও এই রোগটি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে।অন্য কোনো ডিজিজের কারণে এই সমস্যাটির সৃষ্টি হয় না। এসেনশিয়ালট্রেমর যেকোনো বয়সের ব্যক্তিদের হতে পারে তবে এই সমস্যাটি চল্লিশ অথবা চল্লিশের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের বেশি হয়ে থাকে।


কারণ

এসেনশিয়াল ট্রেমরের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেয়। তবে ধারনা করা হয় যে, মস্তিষ্কেরতড়িৎ ক্রিয়াতে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়।

বংশগত কারণেও এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। এই সমস্যায় আক্রান্ত বাবা-মায়ের সন্তানদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ। এই সমস্যাটি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি হয়ে থাকে এবং ব্যক্তির বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এটির উপসর্গ গুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

• বংশগত কারণে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

• চল্লিশ অথবা চল্লিশের বেশি বয়সের ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ

পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ 

শেতাঙ্গদেরমধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গমধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতিরমধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


গর্ভাবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পরে এই রোগের তীব্রতা বেড়ে যায়। যেহেতু এই রোগের নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ নবজাতকের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় সেহেতু গর্ভধারনের পূর্বে এই সমস্ত ঔষধ সেবন সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন।                

চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগটিকে সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা যায় না। তবে কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ গুলোকেনিয়ন্ত্রন করা যায়। যার ফলে ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনেরকার্যাবলীসুষ্ঠভাবেসম্পাদন করতে পারে। ঔষধসেবন এবং বিভিন্ন ধরনের সার্জারির মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সকল ধরনের চিকিৎসা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে না।তবে অধিকাংশ রোগীই এই সকল চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করে থাকেন।দৈনন্দিন জীবন যাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগের তীব্রতা কমানো সম্ভব। 

হেলথ টিপস্‌

এই রোগ প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে।

• শারীরিক এবং মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে।

• মদ্যপান পরিহার করতে হবে।

• বিটাব্লকারসেবনের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

• ক্যাফিন যুক্ত খাবার যেমনঃসোডা,কফি,চাএবংচকলেটএড়িয়ে চলতে হবে।

• অস্বস্তিকর পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে।

• হাতের সাহায্যে সামান্য ভারী বস্তু বহন করার মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

• অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা দূর্বলতার কারণে এই রোগের তীব্র বেড়ে যায়। এই কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে এবং ঘুমাতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ (সবুজ)

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)