কর্নিয়াল অ্যাব্রেশন (Corneal abrasion)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অক্ষিগোলকের (eyeball) বেশির ভাগ অংশ অরবিটাল বোন নামক একটি পকেট সদৃশ হাড়ের মধ্যে বসানো থাকে। অরবিটাল বোন চোখের ভিতরের অংশকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারলেও বাহিরের অংশকে করতে পারেনা। এই অংশটি কর্ণিয়া নামক একটি স্বচ্ছ টিস্যু দ্বারা আবৃত থাকে। কর্ণিয়া চোখের ফোকাস এবং অন্যান্য অংশ যেমন- আইরিশ (রঙিন অংশ) এবং পিউপিল (কালো অংশ) কে যে কোন ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। কর্ণিয়াতে আঁচড় লাগলে, কেটে গেলে বা কোন ক্ষত হলে কর্ণিয়াল অ্যাব্রাশন (Corneal Abrasion) হয়ে থাকে। এ রোগ হলে একটু ব্যথা হতে পারে এবং অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তবে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই, কারণ এই রোগ দ্রুত সেরে যায় এবং এর থেকে কোন দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সম্ভাবনা নেই। খুব কম ক্ষেত্রে কর্ণিয়াল অ্যাব্রাশন সংক্রমিত হয়ে কর্ণিয়াল ক্যান্সারের মত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এই কারণে এই রোগ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 

কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলোঃ

  •   চোখে হাতের নখ, গাছের ডালপালা, মেক আপ ব্রাশ বা অন্য কিছুর খোঁচা লাগলে।
  •   ধূলাবালি, ময়লা, কাঠের মিহি গুঁড়া, ছাই অথবা অন্য কোন বাহিক বস্তু যদি চোখের ভিতরে গিয়ে চোখের পাতায় আটকে যায়।
  •   কেমিক্যাল বার্ন
  •   অতিরিক্ত জোরে চোখ ঘষাঘষি করলে।
  •   লেন্স ময়লা বা সঠিক মাপের না হলে।
  •   চোখের কিছু নির্দিষ্ট ইনফেকশন হওয়া।
  •   অপারেশনের সময় যখন জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয় তখন চোখে সঠিক সুরক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার না করলে। যদি অপারেশনের সময় চোখ বন্ধ না রাখা হয় সে ক্ষেত্রে কর্ণিয়া শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে কর্ণিয়াল অ্যাব্রাশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   কর্ণিয়া শুষ্ক অথবা দূর্বল হলে।
  •   কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে।
  •   চোখের জন্য ক্ষতিকর এমন পরিবেশে কাজ করলে যেমন- ধাতব কাজ, বা বাগান করা।
  •   এমন কোন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করলে যেখানে চোখে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
  •   বেল’স পালসি।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ কর্ণিয়ার সাথে অনেকগুলো স্নায়ুকোষ সংযুক্ত থাকে যা ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। চোখের অভ্যন্তরে কোন বাহ্যিক বস্তুর উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথে সেটা চোখের কোন ক্ষতি হওয়ার পূর্বেই এই কোষগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠিয়ে দেয়। দুর্ভাগ্যবশত এদের কারণে এই রোগের ব্যথা টের পাওয়া যায়। 

উত্তরঃ এটা এর আকারের উপর নির্ভর করে। অ্যাব্রাশন আকারে যত বড় হয় এর থেকে সেরে উঠতে ততো বেশি সময় লাগে। অ্যাব্রাশন ছোট হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু বড় হলে সেরে উঠতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। 

হেলথ টিপস্‌

এই রোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এর চিকিৎসা করা না হলে এর থেকে কর্ণিয়াল ক্যান্সারের মত অনেক গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলোঃ 

  •  পরিষ্কার পানি অথবা স্যালাইন সল্যুশনের সাহায্যে চোখ পরিষ্কার করুনঃ আই কাপের সাহায্যে চোখ পরিষ্কার করুন যাতে করে চোখের ভিতরে কোন বাহ্যিক বস্তু থাকলে তা বের হয় আসে।
  •  বারবার চোখের পলক ফেলুনঃ এর সাহায্যে চোখের ভিতরের ছোট ছোট ময়লা বাইরে বেরিয়ে আসে।
  •  চোখের উপরের পাতা নিচের পাতার দিকে টেনে ধরুনঃ এই পদ্ধতিতে চোখে পানি আসে, যা চোখের মধ্যে কোন বাহ্যিক বস্তু ঢুকলে তা বাইরে বের করে আনে এবং এর মাধ্যমে উপরের চোখের পাঁপড়ি নিচের চোখের পাঁপড়ির সংস্পর্শে আসে বলে কোন ময়লা থাকলে তা পরিষ্কার করে দেয়।

আঘাত পাওয়ার তা যেন আরো খারাপের দিকে অগ্রসর না হয় সেজন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুনঃ

  • চোখে যদি কোন বস্তু প্রবেশ করে এবং তা আটকে যায় সে ক্ষেত্রে জোর করে বের করার চেষ্টা করবেন না।
  • কোন আঘাত পাওয়ার পর চোখে ঘষাঘষি করবেন না।
  •  অক্ষিগোলক তুলার টুকরা, টুইজার অথবা অন্য কোন বস্তুর সাহায্যে স্পর্শ করবেন না।
  • এ রোগে আক্রান্ত থাকাকালীন সেরে উঠার আগ পর্যন্ত কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করবেন না।
  • বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক থেকে দুইদিনের মধ্যে এই রোগ সেরে যায়।