কনভারশন ডিজঅর্ডার (Conversion disorder)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

কনভার্শন ডিসঅর্ডার ফাংশনাল নিউরোলজিকাল সিম্পটম ডিসঅর্ডার নামেও পরিচিত। এই রোগের কারণে মানসিক চাপের প্রভাবে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই রোগ শুরুতে কোন অনুভূতি সংক্রান্ত বা মানসিক আঘাত বিষয়ক হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে তা শারীরিক সমস্যায় রূপান্তরিত হয় বলে এর নামকরণ এভাবে করা হয়েছে। যেমন- কনভার্সন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তির পা কোন উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে শারীরিক ভাবে আহত না হয়েও অবশ হয়ে যেতে পারে। এই রোগের ক্ষেত্রে কোন শারীরিক লক্ষণ এবং উপসর্গ প্রকাশ পায়না এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে কাজ করে।

লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো চলাফেরা অথবা ইন্দ্রিয় ক্ষমতা যেমন- হাঁটাচলা, খাবার গলধঃকরণ, দেখা অথবা কোন কিছু শোনার উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। কনভার্সন ডিসঅর্ডারের লক্ষণ এর তীব্রতার উপর নির্ভর করে এবং এই রোগ দীর্ঘদিন স্থায়ী অথবা পুনরায় ফিরে আসতে পারে। কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তরুণরা তাড়াতাড়ি সেরে উঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। 

কারণ

কোন মানসিক চাপ, মানসিক আঘাত অথবা অন্যান্য মানসিক সমস্যা যেমন হতাশা থেকে এ রোগের সৃষ্টি হয়। এ রোগের সঠিক কারণ জানা এখনো সম্ভব হয়নি। কিন্তু মস্তিষ্কের যে অংশ আমাদের মাংসপেশী এবং অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে তা এর সাথে জড়িত। এটা এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ এমন কিছুর প্রতি মস্তিষ্ক তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   মানসিক আঘাত বা চাপ।
  •   মহিলাদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
  •   মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- মন মেজাজ অথবা দুশ্চিন্তাজনিত সমস্যা এবং পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার।
  •   পরিবারের অন্য কারও এ সমস্যা থাকলে।
  •   শারীরিক অথবা যৌন হয়রানির শিকার হলে এবং শৈশবে অবহেলায় বড় হলে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম। মহিলাদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।কৃষাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ    

কনভার্সনঃ মানসিক জটিলতা থেকে শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। যেমন- কথা বলতে ভয় পাওয়া।

ডিস অ্যাসিয়েটিভঃ কোন অসহনীয় স্মৃতি বা দূর্ঘটনার কথা মনে পড়ে হঠাৎ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। 

উত্তরঃ সাইকোথেরাপি, বিভিন্ন ঔষধ এবং ফিজিকাল থেরাপি কনভার্সন ডিসঅর্ডার থেকে সেরে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসার সাহায্যে এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব, কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণরুপে সেরেও উঠতে দেখা যায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। 

হেলথ টিপস্‌

কোন ধরনের মানসিক আঘাত বা চাপের প্রতিক্রিয়া থেকে কনভার্সন ডিসঅর্ডার হয়ে থাকে। এই ধরনের চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে ধ্যান এবং যোগব্যায়াম এই রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই রোগ প্রতিরোধ করতে নিজের অদম্য প্রচেষ্টা,স্বাভাবিক জীবনযাপন, সুস্থ পারিবারিক অবস্থা, সামাজিক মেলামেশা এবং কাজের মধ্যে নিয়োজিত থাকতে হবে। আপনার অন্যান্য মানসিক সমস্যা থাকলে সঠিক চিকিৎসা নিচ্ছেন কিনা সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। কাউন্সেলিং এবং ঔষধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এম.এস.আই. মল্লিক

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)

প্রফেসর ডা: মো: ওয়াজিউল আলম চৌধুরী

সাইকিয়াট্রি ( মানসিক) ( Psychiatry)