কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস (Contact dermatitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

বাহ্যিক কোন বস্তুর সংস্পর্শের কারণে ত্বকে সৃষ্টি হওয়া লাল ও চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়িকে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বলে। এই ধরনের ফুসকুড়ি সংক্রামক বা জীবননাশক নয়, তবে এটি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ত্বকে সাবান, কসমেটিকস্‌, সুগন্ধিদ্রব্য, গহনা ও গাছপালার সংস্পর্শের কারণে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখা দিতে পারে। সঠিকভাবে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের চিকিৎসা করার জন্য এর মূল কারণ নির্ণয় করতে হবে এবং সেটি এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি যদি ফুসকুড়ি সৃষ্টিকারী বস্তুকে এড়িয়ে চলতে পারেন তাহলে ২-৪ সপ্তাহের মধ্যেই ফুসকুড়ি কমে যাবে। কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত স্থানে আরাম পাওয়ার জন্য আপনি ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে স্থানটি মোছা যেতে পারে বা চুলকানিরোধক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

কারণ

যে সব বস্তুর সংস্পর্শের জন্য ত্বকে অস্বস্তি/জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সেগুলির কারণেই কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হয়ে থাকে। কিছু কিছু বস্তু ত্বকে একই সাথে অস্বস্তি/জ্বালাপোড়া ও অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ত্বকে অস্বস্তি/জ্বালাপোড়ার কারণে সৃষ্ট কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসই বেশি দেখা যায়। কোনো বস্তুর সংস্পর্শের কারণে ত্বকের উপরিভাগের সুরক্ষাদানকারী স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হলে এই ধরনের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়। সাধারণত নিম্নে লিখিত বস্তুগুলির কারণে এই প্রকারের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসে একজন ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারেন:

  • অ্যালকোহল
  • ব্লিচ
  • সাবান, ডিওডোরেন্ট ও কসমেটিকস ।
  • কাঠ ও উলের গুঁড়া । 

যখন কোনো বস্তুর (অ্যালার্জেন) সংস্পর্শ শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তখন অ্যালার্জিজনিত কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়। ত্বকের যে স্থানে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ ঘটে সেই স্থান এ ধরনের ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত হয়। সাধারণত নিম্নে লিখিত অ্যালার্জেনের কারণে অ্যালার্জিজনিত কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হয়ে থাকে:

  • গহনা, বেল্ট-বাকল্‌স ও অন্যান্য সামগ্রীতে ব্যবহৃত নিকেল।
  • অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ও ওরাল অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো ঔষধ।
  • আঠা ও দ্রাবকে বিদ্যমান ফরমালডিহাইড।
  • ডিওডোরান্ট, হেয়ার ডাই, কসমেটিকস, নেইল পলিশ ও ত্বকে ব্যবহারের জন্য কিছু ভেষজ ঔষধ যেগুলিতে ইউক্যালিপটাস, কর্পূর ও রোজমেরি ব্যবহৃত হয়।
  • ট্যাটু ও ব্ল্যাক হেনা (কালো মেহেদী)

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

clobetasol propionate, topical doxepin hydrochloride
hydrocortisone acetate, topical hydroxyzine hydrochloride
pimecrolimus, topical prednisolone
tacrolimus, topical triamcinolone acetonide, topical

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

বায়োপসি (Biopsy)
প্যাঁচ টেষ্ট (Patch Testing)
রিপিট ওপেন এপ্লিকেশন টেষ্ট (Repeat Open Application Test)
ডাইমিথাইলগ্লক্সাইম টেষ্ট (Dimethylgloxime Test)

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই বয়সের ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস সাধারণত ৩ সপ্তাহ স্থায়ী হয়। তবে এটি সম্পূর্ণরূপে দূর হওয়ার আগে আপনার প্রচণ্ড পরিমাণে চুলকানি হতে পার, তাই সময়মতো  চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষত আপনি যদি আপনার ডার্মাটাইটিসের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তবে অবশ্যই আপনার চিকিৎসা নিতে হবে।

উত্তরঃ কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের কারণে সৃষ্ট ফুসকুড়ি তীব্র আকার ধারণ করলে এবং এই কারণে আপনার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে আপনি চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ পরেও যদি ফুসকুড়ি না কমে তবে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

হেলথ টিপস্‌

কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের কারণে ত্বকের প্রদাহ/জ্বালাপোড়া কমানোর জন্যে নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করতে পারেন:

  • ত্বকে অস্বস্তি ও অ্যালার্জির সৃষ্টিকারী বস্তু এড়িয়ে চলা: যদি কোনো গহনার সংস্পর্শের কারণে আপনার কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হয়, তাহলে গহনা এমনভাবে ব্যবহার করুন যাতে সেটি সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে না আসে। যেমন, ব্রেসলেটের নীচের অংশে টেপ লাগিয়ে বা নেইল পলিশ দিয়ে রঙ করে আপনি ব্যবহার করতে পারেন।
  • আক্রান্ত স্থানে চুলকানিনাশক ক্রিম বা ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার: চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়াও আপনি কমপক্ষে ১% হাইড্রোকর্টিসোনযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে সাময়িকভাবে চুলকানি কমাতে পারেন।
  • চুলকানিনাশক ঔষধ গ্রহণ: চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া আপনি ডাইফেনহাইড্রামাইনের মতো ওরাল অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহার করে তীব্র চুলকানি হতে আরাম পেতে পারেন।
  • ভেজা কাপড় দিয়ে মোছা: ঠাণ্ডা পানিতে একটি কাপড় ভিজিয়ে সেটি দিয়ে আক্রান্ত স্থান ১৫-৩০ মিনিট ধরে মুছুন। দিনে বেশ কয়েকবার এটি করতে পারেন।
  • চুলকানো বন্ধ করা: হাতের নখ সব সময় ছোট রাখতে হবে। যদি আক্রান্ত স্থান চুলকানো থেকে আপনি বিরত থাকতে না পারেন, তাহলে স্থানটি ব্যানডেজ দিয়ে ঢেকে রাখুন।
  • নরম সুতির কাপড় পরা: চুলকানি এড়াতে সুতির কাপড়ের পোশাক পরুন।
  • সাবান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া: ত্বকের প্রতি সহনশীল, রঙ ও সুগন্ধিমুক্ত সাবান ব্যবহা্র করুন।  আক্রান্ত স্থান ধোয়ার পর শুকিয়ে নিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে পারেন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

ডা: মো: আসিফুজ্জামান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

প্রফেসর এম.এন হুদা

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)