ব্যাকটেরিয়া জনিত কনঞ্জাংটিভাইটিস (Conjunctivitis due to bacteria)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এটি একটি অ্যাকিউট ইনফেকশন যা এক চোখে অথবা উভয় চোখেই হতে পারে। যখন চোখের স্বচ্ছ বাহ্যিক স্তর বা কঞ্জাংটিভা স্ট্রেপটোকক্কাই অথবা স্ট্যাফাইলোকক্কাই নামক সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এই ইনফেকশন হয়ে থাকে। ব্যাক্টেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস সব বয়সী মানুষ এবং সকল ভৌগলিক অবস্থানেই দেখা যায়। এর থেকে কোন দীর্ঘকালীন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে হয়না। এ রোগের লক্ষণ দূর করা এবং দ্রুত সেরে উঠার জন্য টপিকাল অথবা ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

এই রোগ পিঙ্ক আই নামেও পরিচিত, যা প্রায়ই শিশু এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের আক্রান্ত করে থাকে। যাদের অটোইমিউন ডিসঅর্ডার রয়েছে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ব্যাক্টেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নবজাতকও এই ইনফেকশন দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে যদি তার মা ঐ সময়ে ক্ল্যামাইডিয়া অথবা গনোরিয়া ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। এ অবস্থায় চোখে লাল ভাব দেখা দেয়, চুলকানি হয়, নরম হয়ে যায় এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ে। ইনফেকশন খারাপ অবস্থায় পৌঁছালে ঘন হলুদ বর্ণের পুঁজ সৃষ্টি হয় এবং তা চোখের পাতা বেয়ে পড়তে থাকে। এই পুঁজ যখন শুকিয়ে যায় তখন তা শক্ত হয়ে চোখের সাথে লেগে থাকে। অনেক সময় এর কারণে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর চোখে খুলতে সমস্যা হয়।


কারণ

স্ট্যাফাইলোকক্কাই, স্ট্রেপ্টোকক্কাই, গনোকক্কাই এবং ক্ল্যামাইডিয়ার কারণে মূলত এই রোগ বেশি হয়ে থাকে। সি- ট্র্যাকোমিটিস অথবা নাইসেরিয়া গনোরিয়া নামক ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এই অবস্থার জটিলতা বেড়ে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস অত্যন্ত ছোঁয়াচে হয়। এ রোগে আক্রান্ত হলে সহজেই তা আশেপাশের মানুষকে সংক্রমিত করে ফেলে। যেসব শিশু কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করে তাদের ব্যাক্টেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের এ রোগের গড়পড়তার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে ১গুণ এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২গুণ কম। অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে তাকে ভাইরাস জনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস এবং ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে তাকে ব্যাকটেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস বলে। ব্যাকটেরিয়াজনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস অ্যান্টিবায়োটিকের দ্বারা চিকিৎসা করলে সেরে উঠে কিন্তু ভাইরাস জনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক কোন কাজ করেনা। ব্যাকটেরিয়া জনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিস হলে চোখ দিয়ে অতিরিক্ত ডিসচার্জ হয় অন্যদিকে ভাইরাস জনিত কঞ্জাঙ্কটিভাইটিসে আক্রান্ত হলে স্বল্প মাত্রার ডিসচার্জ হয়।  

উত্তরঃ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হলে চোখের ড্রপ ব্যবহারের মাধ্যমে এ রোগ থেকে দ্রুত নিষ্পত্তি পাওয়া সম্ভব। 

হেলথ টিপস্‌

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজার রাখা এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আক্রান্তরোগী এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে এ রোগ হলে কি কি করনীয় তা জানতে হবে। রোগীকে অবশ্যই ব্যক্তিগত সরঞ্জামাদি যেমন- তোয়ালে এবং জামাকাপড় ইত্যাদি সরিয়ে রাখতে হবে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বারবার হাত ধুতে হবে এবং সাধারন ব্যবহৃত সুইমিং পুল ব্যবহার করা যাবে না। এ রোগ হলে কয়েকদিন কর্মক্ষেত্র বা স্কুল কলেজে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃশাহ-নুর হাসান

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

Fcps,Frcs

প্রফেসর ডাঃ শরফুদ্দিন আহমেদ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

প্রফেসর ডা: এ.এইচ.এম. এনায়েত হোসেন

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

ডাঃ তারিক রেজা আলী

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

এমবিবিএস, ডিও, এমএস(চক্ষু) ফেলো (রেটিনা-ভিট্রিয়াস)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডাঃ দিপক নাগ

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)

MBBS, FCPS(OPTH), MSc(Epid,UK), MSc(CEH,UK), FRF(India)

ডাঃ ফেরদৌস আক্তার জলি

অফথ্যালমোলজি ( চক্ষু) ( Ophthalmology)