কলোরেক্টাল ক্যান্সার (Colorectal cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

কলোরেক্টাল ক্যান্সারকে সাধারণত কোলন ক্যান্সার ও বাওয়েল ক্যান্সার (Bowel Cancer) বলা হয়। মলদ্বার, কোলন (অন্ত্রের অংশ) ও অ্যাপেন্ডিক্সে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধির কারণে কলোরেক্টাল ক্যান্সার হয়ে থাকে। জেনেটিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, মলদ্বার ও কোলনের টিউমার জিনগতভাবে মূলত একই ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি করে। কলোরেক্টাল ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে সাধারণত মলদ্বারে রক্তপাত ও অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের ওজন কমে যেতে পারে এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

কারণ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কলোরেক্টাল ক্যান্সারের কোনো নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বংশগত কারণে কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আঁশযুক্ত খাবার কম ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি গ্রহণ করলে কলোরেক্টাল ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

bevacizumab capecitabine
irinotecan hydrochloride oxaliplatin
vincristine 5-Fluorouracil
cetuximab panitumumab
ramucirumab

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
কোলনোস্কপি (Colonoscopy and biopsy)
কোলোরেক্টাল রিসেকশন (Colorectal resection)
প্রোক্টস্কপি এন্ড অ্যানোরেক্টাল বায়োপসি (Proctoscopy and anorectal biopsy)
সিগময়ডোস্কপি অর কোলনস্কপি (Sigmoidoscopy or colonoscopy)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
এক্স-রে, চেস্ট পি-এ ভিউ (X-ray, Chest P/A view)
অ্যানো-রেক্টাল এক্সামিনেশন (Ano-rectal examination)
কিডনী ফাংশন টেস্ট (Kidney function test)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঠিক কোনো কারণ পাওয়া যায় না, তবে কিছু কিছু বিষয় এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যদিও সবক্ষেত্রে এই বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। একজন ব্যক্তি এই ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলি দ্বারা প্রভাবিত হলেই যে তিনি এই রোগে আক্রান্ত হবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। আবার অনেকে কোনো প্রকার ঝুঁকির মধ্যে না থাকলেও কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। তাছাড়া একজন ব্যক্তি ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও উক্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টি কলোরেক্টাল ক্যান্সার সৃষ্টির ক্ষেত্রে ঠিক কী ভূমিকা পালন করে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকিবৃদ্ধিকারী বিষয়গুলি হল- 

  • পূর্বে কলোরেক্টাল ক্যান্সারে বা বিশেষ ধরনের পলিপ্‌সে আক্রান্ত হওয়া।
  • আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রোন’স ডিজিজে আক্রান্ত হওয়া।
  • বংশগতভাবে কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা।
  • টাইপ ২ ডাইয়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে শুধু সার্জারির মাধ্যমেই ৯০% ক্ষেত্রে তা নিরাময় করা সম্ভব। পরবর্তী পর্যায়েও সার্জারি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমেও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

উত্তরঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার গ্রহণ করলে কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে যায় এবং লাল মাংস (গরু, খাসী) গ্রহণের কারণে সম্ভাবনা বাড়ে।

উত্তরঃ না, তবে ৪০ বছরের কম বয়সের ব্যক্তিদের কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

হেলথ টিপস্‌

কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে-

  • নিয়ন্ত্রিত হারে চর্বি ও লাল মাংস গ্রহণ: লাল মাংস কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি লাল মাংস গ্রহণ করবেন না।
  • বেশি পরিমাণে শাকসবজি, ফল ও আঁশজাতীয় খাবার গ্রহণ: দিনে ৫ বা ততোধিক বার ফল ও শাকসবজি গ্রহণ করুন। আপনার খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে আঁশজাতীয় খাবার রাখুন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাদ্যের আঁশজাতীয় উপাদান খাদ্য হজমের পর এর উচ্ছিষ্টাংশকে নিম্নাংশে দ্রুত প্রেরণ করতে ও কোলনে কার্সিনোজেন (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান) তরলীকরণে বা প্রশমনে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম : ব্যায়ামের জন্য আপনার জিমে যাওয়ার দরকার নেই। সপ্তাহে নিয়মিতভাবে ১ ঘন্টা হাটলে আপনার কলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা এক-তৃতীয়াংশ কমে যাবে।
  • ধূমপান ত্যাগ করা: তামাক গ্রহণের কারণে পলিপ হতে পারে। পলিপ মাংসল পিণ্ড আকারে কোলনের গায়ে/দেয়ালে সৃষ্টি হয়। এগুলির কারণে পরবর্তীতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কলোরেক্টাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এস.এম.এ ইরফান

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)

প্রফেসর ডাঃ এস.এম.এ. এরফান

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)

প্রফেসর ডা: একেএম ফজলুল হক

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)