ক্রনিক আলসার (Chronic ulcer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

আলসার এমন এক ধরনের অবস্থা যার ফলে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের উপর অবস্থিত ঝিল্লি (পাতলা পর্দা) ছিঁড়ে যায় বা সেটির উপর ফাটলের সৃষ্টি হয়্। এই ধরনের সমস্যার কারণে উক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলির স্বাভাবিক ক্রিয়াশীলতা ব্যাহত হয়। আলসারের কারণে ত্বকের উপরের অংশ এবং ত্বকের নীচে অবস্থিত চর্বির স্তরের ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত হাত-পা, পাকস্থলী ও অন্ত্রে আলসার হয়ে থাকে।  ত্বকের কোনো স্থান আলসারে আক্রান্ত হলে সেই স্থানের টিস্যুতে প্রদাহ/ জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। এই কারণে স্থানটি লালবর্ণ ধারণ করে। অতিরিক্ত ঠান্ডা-গরম বা রক্ত প্রবাহের সমস্যার কারণে ত্বকে আলসার দেখা দিতে পারে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে আলসার হতে পারে। তবে প্রধান কারণ হল রক্তসঞ্চালনের সমস্যা। বিশেষত হৃৎপিণ্ড ও হৃৎপিণ্ডের শিরা-উপশিরার সমস্যার কারণে আলসার দেখা দেয়। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসা বা বিছানায় শোয়ার কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর চাপ পড়লেও আলসার হতে পারে। এ ধরনের একটি অতি পরিচিত ও বিপজ্জনক ত্বকের আলসার হল ‘বেড সোর’। সাধারণত যেসব ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে বিছানায় শুয়ে থাকেন বা হুইল চেয়ার ব্যবহার করেন তাদের ‘বেড সোর’ হয়। এছাড়াও ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের কারণে সৃষ্ট ইনফেকশনের জন্যও ত্বকে আলসার হতে পারে। ক্যান্সার, রক্তের সমস্যা ও শরীরে গুরুতর আঘাতও ত্বকে আলসারের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

diazepam mupirocin, topical
silver sulphadiazine, topical

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ব্লাড গ্লুকোজ, র‍্যান্ডম (Blood Glucose, Random)
ক্রিয়েটিনিন, সেরাম (Creatinine, Serum)
এইচ-বি-এ-ওয়ান-সি (HbA1c)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
অ্যাপ্লিকেশন অফ স্প্লিন্ট (Application of splint)
উন্ড ম্যানেজমেন্ট (Wound care management)
অ্যালবুমিন (Albumin)
ইউরিন ফর টোটাল প্রোটিন (Urine for Total Protein)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
এইচ-বি% (হিমোগ্লোবিন) (HB% (Haemoglobin))
বায়োপসি (Biopsy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আলসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-
  • ধূমপান: এইচ পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ধূমপান করলে তাদের অন্ত্রের আলসার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ: অ্যালকোহল পাকস্থলীর গাত্রে/দেয়ালে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এছাড়া অ্যালকোহল পাকস্থলীতে উৎপন্ন হওয়া এসিডের পরিমাণও বৃদ্ধি করে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর: পাকস্থলী ও ডিওডেনামের আলসার বারবার দেখা দিতে পারে। আলসারের মূল কারণ নির্ণয় না করলে এবং সেটি নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা থেকে যায়। পাকস্থলীর আলসার অবশ্যই নিরাময় করা প্রয়োজন, কারণ ৩-৫% পরিপাকতন্ত্রের আলসার পাকস্থলীর ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

উত্তর: হ্যাঁ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যান্টিবায়োটিক ও এসিড-নাশক(এ্যান্টাসিড) ঔষধ পাকস্থলীর আলসার নিরাময় করতে পারে।

উত্তর: আলসার বিভিন্ন ধরনের। যেমন- ধমনীর আলসার, শিরার আলসার, ডায়াবেটিক আলসার, প্রেসার আলসার, সার্জিক্যাল আলসার ও ট্রম্যাটিক আলসার। বিভিন্ন ধরনের আলসারের জন্য বিভিন্ন ধরনের  চিকিৎসা-পদ্ধতি রয়েছে।

হেলথ টিপস্‌

আলসার প্রতিরোধের জন্য নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে-

  • ধূমপান ত্যাগ করুন।
  • আইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো প্রদাহ বা জ্বালাপোড়ানাশক ঔষধ গ্রহন ত্যাগ করুন।
  • ক্যাফেইনযুক্ত খাবার, বেভারেজ(কোমল পানীয়) ও অ্যালকোহল গ্রহণ করবেন না।
  • মশলাযুক্ত খাবার গ্রহণের কারণে আপনার বুক জ্বালা করলে এই ধরনের খাবার ত্যাগ করুন।
  • যেসব খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে আপনি অস্বস্তিবোধ করেন সেগুলি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন।