ক্রনিক সাইনোসাইটিস (Chronic sinusitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

নাসিকা রন্ধ্রের চারপাশের যে গহ্বর থাকে তাকে সাইনাস বলে। সাইনাস কোনো কারণে ফুলে গেলে এবং সেখানে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হলে এবং চিকিৎসা নেওয়ার পরও তা আট সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে তখন তাকে ক্রনিক সাইনোসাইটিস বলে। এটা ক্রনিক রাইনো সাইনোসাইটিস নামেও পরিচিত। এই রোগ মিউকাস নিষ্কাশন এবং জমা হওয়ার সাথে জড়িত। ক্রনিক সাইনুসাইটিস হলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায় চোখের চারপাশ এবং মুখে ফোলা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। এছাড়াও থ্রবিং ফেসিয়াল পেইন অথবা মাথা ব্যথা হতে পারে।

কোনো ধরণের ইনফেকশন থেকে এ রোগ হতে পারে, কিন্তু নাসিকা রন্ধ্র অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে অথবা ডেভিয়েটেড নেজাল সেপ্টামের কারণেও এ রোগ হতে পারে। এই রোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ এবং মধ্য বয়স্কদের আক্রান্ত করে, তবে কখনো কখনো শিশুরাও এর দ্বারা আক্রান্ত হয়।


কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলোঃ

  •  নাকের পলিপঃ এই টিস্যু বৃদ্ধি পেয়ে সাইনাসে আবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
  •  অ্যালার্জি সমস্যা যেমন হে ফিভারঃ অ্যালার্জির সমস্যা থেকে সাইনাসে ফাংগাল ইনফেকশন হতে পারে।
  •  ডেভিয়েটেড নেজাল সেপ্টামঃ সেপ্টাম বিকৃত হয়ে গেলে তা সাইনাসে আবদ্ধতা সৃষ্টি করে।
  •  মুখে আঘাত পেলেঃ ফেসিয়াল বোন ভেঙ্গে গেলে বা ফেটে গেলে সাইনাসে আবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
  •  অন্যান্য মেডিকেল কন্ডিশনঃ সিস্টিক ফাইব্রোসিস, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, এইচ-আই-ভি অথবা ইমিউন সিস্টেম সম্পর্কিত বিভিন্ন রোগের কারণে নাসিকার রন্ধ্রে ব্লকেজ দেখা দিতে পারে।
  •  শ্বসনতন্ত্রে ইনফেকশনঃশ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন ইনফেকশন যেমন- ঠাণ্ডা লাগলে সাইনাস মেমব্রেন মোটা হয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়, মিউকাস নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং এ অবস্থার কারণে সেখানে ব্যাক্টেরিয়া জন্ম নেয়। এছাড়াও এই ইনফেকশন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া অথবা ফাঙ্গাস ঘটিত হতে পারে।
  •  অ্যালার্জিঃ অ্যালার্জির কারণে সৃষ্ট ইনফ্লামেশন থেকে সাইনাসে আবদ্ধতা হতে পারে।
  •  ইমিউন সিস্টেম সেলঃ কিছু কিছু শারীরিক অবস্থার কারণে ইমিউন সেল যেমন ইওসিনোফিল সাইনাসে ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্লিখিত বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   নাসিকা রন্ধ্রে অস্বাভাবিকতা যেমন- নেজাল সেপটাম অথবা নেজাল পলিপস হলে।
  •   অ্যাস্পিরিন সংবেদনশীলতার কারণে শ্বসনতন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয়।
  •   ইমিউন সিস্টেম ডিজ অর্ডার যেমন এইচ-আই-ভি/এইডস অথবা সিস্টিক ফাইব্রোসিস হলে।
  •   হে ফিভার অথবা অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলে।
  •   অ্যাজমা- সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত গড়ে প্রতি ৫ জনের মধ্যে থেকে ১ জনের অ্যাজমা থাকে।
  •   ধূমপান বা অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ থেকে। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ জেনারেল, পারিবারিক চিকিৎসক এবং একজন অ্যালার্জিস্ট সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হলে ঔষধের পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি ক্রনিক সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হন এবং ঔষধ সেবনের পরও অবস্থার কোন উন্নতি না হয় সেক্ষেত্রে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ অথবা অটোল্যারিংগলোজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

উত্তরঃ নাক দিয়ে পানি পড়া যদি ক্রনিক পর্যায়ে চলে যায় তখন তাকে ক্রনিক রাইনাইটিস বলে। এটা অ্যালার্জি অথবা ক্রনিক সাইনাস ইনফেকশন থেকে হতে পারে। আবার কোনো অ্যালার্জি বা সাইনাস ইনফেকশন ছাড়াও হতে পারে। ক্রনিক সাইনাস ইনফেকশন হলে সাইনাসে ক্রনিক ইনফ্লামেশন হয় যা পরবর্তীতে ক্রনিক রাইনাইটিসে পরিণত হয়।

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের উপায় হলোঃ

  •   বিশ্রামঃ পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সেরে উঠা সম্ভব।
  •   পর্যাপ্ত পানি এবং জুস পান করুনঃ পর্যাপ্ত পানি পান করার মাধ্যমে মিউকাস পাতলা হয়ে যায় এবং সহজেই বেরিয়ে আসতে পারে। ক্যাফেইন অথবা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মদ্যপান থেকে সাইনাস এবং নাকের অভ্যন্তরীন গাত্র ফুলে যেতে পারে।
  •   সাইনাস গহবরের আর্দ্রতা বজায় রাখুনঃ হালকা গরম তোয়ালে ভাপ নিন। হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এর সাহায্যে ব্যথা কমে যাবে এবং মিউকাস বেরিয়ে আসতে পারবে।
  •   নাক, গাল এবং চোখের চারিদিকে উষ্ণ গরম ভেজাকাপড়ের সাহায্যে চাপ দিয়ে রাখুন।
  •   নাসিকা পথ পরিষ্কার রাখুনঃ স্কুইজ বোতল, স্যালাইন ক্যানিস্টার অথবা নেটি পট ব্যবহার করে নাসিকা পথ পরিষ্কার করুন। এই ঘরোয়া পদ্ধতিকে নেজাল ল্যাভেজ বলে, এর সাহায্যে সাইনাস পরিষ্কার রাখাযায়।এই পদ্ধতি ব্যবহারের সময় অবশ্যই জীবাণুমুক্ত অথবা ফিল্টার করা বা ফুটিয়ে সিদ্ধ করা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহারের পর সব কিছু ভালোভাবে পরিষ্কার করে করতে হবে।
  •   মাথা উপরের দিকে রেখে ঘুমানঃ এর সাহায্যে সাইনাসে চাপ কম পড়বে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)