ক্রনিক ব্যাকপেইন (Chronic back pain)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ক্রনিক ব্যাক পেইন একটি সাধারণ রোগ। প্রায় সব ব্যক্তিই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে পায়ে বা পিঠের নীচের অংশে অন্তত একবার হলেও ব্যাথা অনুভব করে থাকেন। অনেকেই আছেন যারা এটি নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

তবে ইতিবাচক ব্যাপার হল, আপনি সচেতন হলে ক্রনিক ব্যাক পেইন প্রতিরোধ করতে পারবেন বা এর স্থায়ীত্ব কমিয়ে আনতে পারেন। এমনকি আপনি প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হলেও কিছু সাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসা ও ব্যায়ামের মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই ব্যাথা থেকে মুক্ত হতে পারবেন। ক্রনিক ব্যাকপেইন নিরাময়ের জন্য সাধারণত কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয় না।

কারণ

নিম্নলিখিত কারণসমূহের জন্য সাধারণত ক্রনিক ব্যাকপেইন হয়ে থাকে:

  • মাংসপেশী বা লিগামেন্টে টান লাগা: নিয়মিতভাবে ভারী কোনো কিছু বহন করার কারণে বা হঠাৎ করেই পিঠের মাংসপেশী বা স্পাইনাল লিগামেন্টে টান লাগতে পারে। আপনার শারীরিক অবস্থা যদি ভালো না থাকে তবে পিঠে বারবার টান লাগলে সেখানে আপনি খিঁচুনি অনুভব করতে পারেন।
  • আরথ্রাইটিস: অসটিওআরথ্রাইটিস (হাড়ের আরথ্রাইটিস) পিঠের নিম্নাংশ আক্রান্ত করতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডে আরথ্রাইটিসের কারণে স্পাইনাল কর্ডের চারপাশের ফাঁকা জায়গাটি সংকুচিত হয়ে যায়। এই অবস্থাকে স্পাইনাল স্টেনোসিস বলে।
  • হাড়ের গঠনে অসামঞ্জস্যতা: আপনার মেরুদণ্ডের হাড় অস্বাভাবিকভাবে বেঁকে গেলে ক্রনিক ব্যাক পেইন হতে পারে, একে স্কোলিওসিস বলে। স্কোলিওসিস তীব্র আকার ধারণ করার ফলে মেরুদণ্ড পাশের দিকে বেঁকে গেলেও আপনার পিঠে ব্যথা হতে পারে।   
  • অসটিওপোরোসিস: আপনার মেরুদণ্ডের হাড় ভঙ্গুর ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে গেলে সেই অবস্থাকে অসটিওপোরোসিস বলে। এই অসটিওপোরোসিসের কারণেও ক্রনিক ব্যাকপেইন হতে পারে। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

aceclofenac amitriptyline
carbamazepine cyclobenzaprine hydrochloride
diazepam diclofenac sodium
etoricoxib fentanyl
gabapentin morphine sulphate
naproxen nortriptyline
paracetamol pregabalin
tramadol hydrochloride

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এম-আর-আই) (Magnetic resonance imaging (MRI))
প্লেইন এক্স-রে (Plain x-ray)
ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ থেরাপী (Physical exercise therapy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে কোনো ব্যক্তিরই ক্রনিক ব্যাক পেইন হতে পারে, এমনকি শিশু ও কিশোরদেরও এই সমস্যা হতে পারে।  শরীরচর্চার অভাব ও ভারী বস্তু উত্তোলন করাকেই সাধারণভাবে এই সমস্যার ঝুঁকি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।  যদিও গবেষকরা এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।  এছাড়াও অবসাদগ্রস্থ ও উদ্বিগ্ন ব্যক্তিদের ক্রনিক ব্যাক পেইনে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু ঠিক কী কারণে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে তা নিশ্চিত নয়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

জাত: শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ নিয়মিত (সপ্তাহে ৩০ মিনিট করে ৩ বার) সাধারণ শরীরচর্চা যেমন হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালনা ক্রনিক ব্যাক পেইন কমাতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের মাধ্যমে পেট ও পিঠের মাংসপেশী মজবুত করার মাধ্যমেও এই ব্যাথা থেকে নিরাময় লাভ করা সম্ভব। এছাড়াও, ব্যাথাযুক্ত স্থানে বরফ প্রয়োগ ও গরম পানির সেক দিলেও আপনি উপকার পেতে পারেন।

উত্তরঃ ক্রোনিক ব্যাকপেইন থেকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্যলাভ সম্ভব নয়। তাই এই সমস্যা থেকে আপনার চিরতরে মুক্তি পাওয়ার প্রত্যাশা অযৌক্তিক। তবে ক্রনিক ব্যাক পেইন কমাতে চাইলে আপনাকে ধূমপান ত্যাগ করতে হবে, শরীরের ওজন কমাতে হবে এবং নিয়মিত শরীর চর্চার মাধ্যমে মাংসপেশী সবল রাখতে হবে।  সবসময় ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুন ও শরীরের যত্ন নিন।

হেলথ টিপস্‌

ক্রনিক ব্যাক পেইন প্রতিরোধের জন্য নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করুন-

  • ব্যায়াম: নিয়মিত সেই সব ব্যায়ামগুলি করুন যেগুলি আপনার পিঠের উপর কোনো চাপ ফেলে না। এই ব্যায়ামগুলি আপনার মাংসপেশী গুলিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: আপনার শরীরের ওজন বেড়ে গেলে আপনার পিঠের মাংসপেশীর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। তাই শরীরের ওজন কমালে আপনার ক্রনিক ব্যাক পেইনের সম্ভাবনা কমে যাবে।
  • মাংসপেশীর শক্তি ও নমনীয়তা বৃদ্ধি করুন: এমন ব্যায়াম করুন যা আপনার পেট ও পিঠের মাংসপেশীগুলিকে শক্তিশালী করে। এর ফলে এই পেশীগুলি একই সাথে কাজ করতে পারে । আপনার নিতম্ব ও পায়ের উপরের অংশের মাংসপেশীর নমনীয়তা নিতম্বের হাড়গুলিকে (পেলভিক বোন) সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।  পিঠের ব্যাথা এই বিষয়টির উপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: আর আর কৈরি

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডা: এ.এম ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: সৈয়দ শহিদুল ইসলাম

অর্থোপেডিক সার্জারী ( হাড়) ( Orthopedic Surgery)