ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশন (Chlamydia Infection)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশন একটি যৌনবাহিত রোগ। ক্ল্যামাইডিয়া ট্র্যাকোম্যাটিস (Chlamydia trachomatis) নামক ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশন বলতে অনেক ক্ষেত্রে ক্ল্যামাইডিয়াসি  (Chlamydiaceae) শ্রেণীর যে কোনো ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ইনফেকশনকেও বোঝানো হয়। ক্ল্যামাইডিয়া ট্র্যাকোম্যাটিস শুধু মানব শরীরে দেখা যায়, এবং এর ইনফেকশনের কারণে মূলত যৌনাঙ্গ ও চোখের রোগ হয়ে থাকে। বিশ্বব্যাপী ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশন একটি অন্যতম যৌনবাহিত রোগ।

কারণ

ক্ল্যামাইডিয়া ট্র্যাকোম্যাটিস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশন হয়ে থাকে। এটি একটি যৌনবাহিত রোগ। অর্থাৎ ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশনে আক্রান্ত কারো সাথে কোনো ব্যক্তি অনিরাপদ যৌন সংসর্গে লিপ্ত হলে, তিনিও এই রোগে আক্রান্ত হবেন।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

amoxycillin ampicillin
azithromycin clindamycin phosphate
doxycycline erythromycin
gentamicin levofloxacin hemihydrate
metronidazole ofloxacin

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
প্যাপ'স স্মেয়ার ফর সাইটোলজি (Pap's smear for cytology)
নিউক্লিয়িক এসিড এমপ্লিফিকেশন টেষ্ট (Nucleic Acid Amplification Tests)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

সাধারণত নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি ক্ল্যাইমেডিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-

  • ২৪ বছরের কম বয়স।
  • বহু সংখ্যক যৌনসঙ্গী থাকা।
  • যৌন মিলনের সময় নিয়মিত কনডম ব্যবহার না করা।
  • পূর্বে যৌনবাহিত ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়া।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

জাত: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ২ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ৩ গুণ বেশি। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা করা না হলে তারা অপরিণত শিশু প্রসব করতে পারে। ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত মায়ের সন্তানদের চোখও এতে আক্রান্ত হতে পরে। ক্ল্যামাইডিয়ার কারণে নবজাতকদের নিউমোনিয়া এবং কনজাঙ্কটিভাইটিস হয়ে থাকে।

উত্তরঃ ক্ল্যামাইডিয়া নির্ণয় করার  বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্ল্যামাইডিয় নির্ণয় করা যায়। আক্রান্ত স্থান (যেমন যৌনাঙ্গ এবং সারভিক্স ) থেকে নমুনা নিয়েও কিছু পরীক্ষা করা হয়।

উত্তরঃ কিশোরী, অল্পবয়স্কা নারী এবং সমকামীদের।

হেলথ টিপস্‌

নিয়ন্ত্রিত যৌনজীবন ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে। তাই এই রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • কনডম ব্যবহার:  যৌন সংসর্গের সময় পুরুষদের ল্যাটেক্স কনডম এবং মহিলাদের পলিইউরেথেন কনডম ব্যবহার করা উচিৎ। কনডম ব্যবহারের ফলে ইনফেকশনের ঝুঁকি একবারে দূর না হলেও কমে যায়।
  • একাধিক যৌনসঙ্গী না থাকা: বহু সংখ্যক ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক থাকলে ক্ল্যামাইডিয়া ইনফেকশনসহ অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • পরীক্ষা করা: বহু সংখ্যক ব্যক্তির সাথে আপনার যৌনসম্পর্ক থাকলে আপনি ক্ল্যামাইডিয়া আক্রান্ত কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষার (টেস্ট) মাধ্যমে নিশ্চিত হোন। কতোদিন পরপর এই পরীক্ষা করানো উচিত, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • যৌনাঙ্গ অতিরিক্ত পরিষ্কার না করা: মহিলাদের যৌনাঙ্গ অতিরিক্ত পরিষ্কার করা হলে যৌনাঙ্গে অবস্থানকারী উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায়। এর ফলে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর এম ইউ কবির চৌধুরী

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

ডা: মো: আসিফুজ্জামান

ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনেরিওলজি ( চর্ম ও যৌন) ( Dermatology & Venereology)