সেন্ট্রাল অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Central atherosclerosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হৃদপিণ্ড থেকে সারা শরীরে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান সরবারহকারী রক্তনালী যখন মোটা এবং শক্ত হয়ে যায় তখন তাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলে। এর ফলে কখনো কখনো বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ এবং টিস্যুতে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। একটি স্বাভাবিক ধমনী সাধারণত নমনীয় এবং স্থিতিস্থাপক হয়ে থাকে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এর প্রাচীর শক্ত হয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকে ‘হার্ডেনিং অফ দি আর্টারীস’ বলে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসকে কোন কোন ক্ষেত্রে আর্টেরিওস্ক্লেরোসিস বলা যেতে পারে, তবে এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য দেখা যায়। ধমনীর প্রাচীর বা দেয়ালে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য কিছু উপাদান বা প্লাক জমতে দেখা গেলে তাকে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়ে থাকে, এর ফলে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এই প্লাকগুলো ফেটে গিয়ে ব্লাড ক্লট সৃষ্টি করতে পারে। যদিও এ রোগকে হার্টের সমস্যা বলে বিবেচনা করা হয়, তবে এটা শরীরের যে কোন অংশের ধমনীর উপর বিরুপ প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস সাধারণত প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এর থেকে সেরে উঠা সম্ভব।

কারণ

অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের প্রভাব অনেক ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি এটা শৈশব কাল থেকেও হতে পারে। এ রোগের সঠিক কারণ জানা না গেলেও ধমনীর অভ্যন্তরীন স্তরে কোন ক্ষত থেকে এর সূত্রপাত ঘটতে পারে। যেসব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

  • উচ্চ রক্তচাপ।
  • কোলেরস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে।
  • ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে। এটা রক্তে উপস্থিত এক ধরনের ফ্যাট বা চর্বি।
  • ধূমপান অথবা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন।
  • ডায়াবেটিস
  • আর্থ্রাইটিস, লিউপাস অথবা ইনফেকশনসহ অন্যান্য বিভিন্ন কারণে ইনফ্লামেশন হলে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  • উচ্চ রক্তচাপ।
  • কোলেরস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে।
  • ডায়াবেটিস
  • স্থুলতা
  • ধূমপান অথবা তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবন।
  • পরিবারে অন্য কারও অথবা পূর্বে হৃদপিণ্ড জনিত কোন সমস্যা থাকলে।
  • শারীরিক পরিশ্রম করা না হলে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস শুধুমাত্র তৃণভোজী প্রাণীদেরকেই আক্রান্ত করে। কুকুর, বিড়াল, বাঘ এবং সিংহ এর দ্বারা আক্রান্ত হয়না। মাংসাশী প্রানীদের ক্ষেত্রে যদি কখনো থাইরয়েড গ্ল্যান্ড অপসারণ করা হয় শুধুমাত্র তখনই এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো একটা কারণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল তৃনভোজীদের ক্ষেত্রে সমানভাবে ক্ষতিকর।

উত্তরঃ হ্যাঁ, কোলেস্টেরলসহ আরো কিছু বিষয় বংশানুক্রমে আসতে পারে। ধূমপান, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, ডায়েট, ব্যায়াম, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন ঔষধ সেবন সহ আরো কিছু বিষয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। 

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • ধূমপান বর্জন করতে হবে।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: জহুরুল আলম খান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর ব্রিগে. (রিটা.) আবদুল মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD