অ্যাটেলেকটেসিস (Atelectasis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অ্যাটেলেকটেসিসের কারণে সম্পূর্ন ফুসফুস অথবা ফুসফুসের কিছু অংশ সম্পূর্ন বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ু থলির স্ফীতি কমে যাওয়ার ফলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। সাধারনত সার্জারির পরে এই ধরনের শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা দেখা যায়। অ্যাটেলেকটেসিসের জন্য অন্যান্য রেসপিরেটরি (শ্বাসতন্ত্রের) সমস্যা যেমনঃ সিসটিক ফাইব্রোসিস, পরজীবীর প্রবেশ, ফুসফুসে টিউমার, ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হওয়া, মারাত্মক অ্যাজমা এবং বুকের আঘাত লক্ষ্য করা যায়।                                                                                                                                          

এই রোগের ফলে ফুসফুসের কত অংশ টিস্যু আক্রান্ত হবে তা এই রোগের কারণের উপর নির্ভর করে। এই রোগের লক্ষনগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়। এই রোগের কারণে শরীরে অক্সিজেনের পরিমান কমে যায়। যার ফলে এই সমস্যাটি মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। ফুসফুস বন্ধের কারণ এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।                                                                                                                                          

কারণ

ফুসফুসের বায়ু চলাচলের ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণগুলো নিম্নে দেওয়া হলো।

  • ইনফেকশন অথবা অন্যান্য রোগ যেমনঃ সিসটিক ফাইব্রোসিসের কারণে পুরু/ঘন মিউকাস স্তর সৃষ্টি হওয়া
  • বায়ু চলাচলের পথে টিউমার
  • বায়ু চলাচল পথে বাইরে অবস্থিত টিউমার অথবা ধমনী যখন চাপ সৃষ্টি করলে 
  • বায়ু চলাচলের পথে ছোট খেলনা বা চীনাবাদামের প্রবেশ করলে  
  • অ্যানেস্থেটিকের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে বুক অথবা পেটের সার্জারি
  • বুকের আঘাত অথবা পাঁজর ভেঙ্গে যাওয়া
  • লিম্ফ গ্লাণ্ডের (লসিকা গ্রন্থি) আকার বেড়ে যাওয়া               

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

  • শিশুর ফুসফুস পরিপক্ক না হলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়
  • যে কোনো সমস্যার কারণে কাশি, দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাস ফেলা
  • বৃদ্ধ ব্যক্তিরা যখন খাবার খায় তখন তার কিছু অংশ ফুসফুসে আটকে যায়। যার ফলে এই ধরনের ইনফেকশন দেখা দেয়, ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা যেমনঃ অ্যাজমা, ব্রঙ্কিয়েকটিসিস অথবা সিসটিক ফাইব্রোসিস
  • একপাশ হয়ে শুয়ে থাকা
  • পেট অথবা বুকের সার্জারি
  • অ্যানেসথেসিয়া
  • পেটে ব্যথা অথবা পাঁজর ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • মাসকিউলার ডিসট্রোফি, স্পাইনাল কোর্ড ইনজুরি অথবা অন্যান্য নিউরোমাসকিউলার সমস্যার রেসপিরেটোরি (শ্বাসতন্ত্র) পেশীতে দূর্বলতা দেখা দিলে
  • পেটে মেদ জমার কারণে ডায়াফ্রাম ফুলে যাওয়া এবং শ্বাসপ্রশ্বাস বাধাগ্রস্থ হওয়া

১ থেকে ৩ বছর বয়সের শিশুদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 


জাতিঃ শেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ কোনো উপসর্গ ছাড়াই এই রোগ হলে রোগীকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব। স্পারোমিটার ব্যবহার করে ঘনঘন শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।                                                                                                 

উত্তরঃ ব্রঙ্কিয়েকটিসিসের কারণে ফুসফুসের বায়ু চলাচলের পথের আকার প্রসারিত/বড় হয়ে যায়। অ্যাটেলেকটেসিস ফুসফুসে দেখা দেয়। এটির ফলে ফুসফুসে বায়ু চলাচলের পথের আকার/আয়তন কমে যায়। যার ফলে ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমানে বায়ু প্রবেশ করতে পারে না।

হেলথ টিপস্‌

অ্যাটেলেকটেসিসের ঝুঁকি কমানো জন্য নিন্মলিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহন করা যেতে পারে। 

  • ৩ বছরের কম বয়সের শিশুদের বাদাম খেতে দেওয়া যাবে না কারণ এই বয়সের শিশু ভালোভাবে বাদাম চিবাতে পারে না। এই বয়সের শিশুদেরকে ছোট আকারের খেলনা দেওয়া যাবে না।                                                                                 
  • ধুমপানের করণে ব্রঙ্কিয়াল টিউবে মিউকাসের উৎপাদন বেড়ে যায় এবং এর গাত্রের লোমের স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ব্রঙ্কিয়াল টিউবের গাত্রের লোমের স্তর ঢেউয়ের ন্যায় গতির মাধ্যমে মিউকাস গুলোকে বায়ু চলাচলের পথ দিয়ে বাইরে বের করে দেয়। তাই ধুমপান পরিহার করতে হবে
  • সার্জারির পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘনঘন কাশি দিতে হবে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ব্যায়াম করতে হবে। শুয়ে থাকা অবস্থায় ঘনঘন পাশ পরিবর্তন করতে হবে। যতদ্রুত সম্ভব ঘুম থেকে উঠে হাটাচলা করতে হবে।                                             

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: আহমেদ জাহিদ হোসেন

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা:মোহাম্মদ হানিফ

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: মো: সেলিমুজ্জামান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: মো: মিজানুর রহমান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

ডা: মো: শাকুর খান

পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

ডা: মো: রফিকুল আলম

পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

প্রফেসর ডা: সাইদা আনোয়ার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: আলী কাওছার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)