অ্যানাল ফিশার (Anal fissure)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পায়ুপথের চামড়া ছিড়ে গেলে বা ফেটে গেলে তাকে অ্যানাল ফিশার বলে। এর কারণে পথ দিয়ে রক্তপাত হয়ে থাকে। প্রথম প্রথম (অ্যাকিউট) এটি হলে, মলত্যাগের পর তীব্র ব্যথা হয় কিন্তু পরবর্তীতে হলে এর ব্যথা কিছুটা কম হয়। অ্যানাল ফিশার সাধারণত পায়ুপথের মুখ থেকে সৃষ্টি হয় এবং তা এর মাঝ বরাবর পেছনের দিকে অবস্থান করে। পায়ুপথের দেয়ালে রক্ত প্রবাহের অপর্যাপ্ততা এবং চাপ থাকার কারণে এই সমস্যা হয় বলে মনে করা হয়। অ্যানাল ফিশার পায়ুপথের দেয়ালের উপরিভাগে থাকতে পারে অথবা কোনো সময় তা দেয়ালের মাংসপেশী পর্যন্ত এর বিস্তৃতি থাকতে পারে।

কারণ

সাধারণত নিম্নলিখিত কারণে এই রোগ হয়ে থাকে:

  • স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত এবং বড় আকারের মলত্যাগ করা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • ক্রনিক ডায়রিয়া
  • পায়ুপথে প্রদাহ
  • বাচ্চা প্রসব করা

আরও যে সব কারণে অ্যানাল ফিশার হয়ে থাকে:

  • পায়ুপথে ক্যান্সার
  • এইচ আই ভি
  • যক্ষ্মারোগ
  • সিফিলিস
  • হারপিস

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

botulinum toxin type a ispaghula husk
methyl cellulose

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
বায়োপসি (Biopsy)
অ্যানো-রেক্টাল এক্সামিনেশন (Ano-rectal examination)
এনোসকপি (Anoscopy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়ের কারণে অ্যানাল ফিশার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • অনেক শিশুর বয়স ১ বছর হওয়ার আগেই এ্যানাল ফিশার হতে পারে, কেন হয় তা এখনও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে বলতে পারেন নি।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের পায়ুপথে রক্ত সঞ্চালন সঠিকভাবে না হলে অ্যানাল ফিশার হয়ে থাকে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হলে এটি হতে পারে।
  • অনেক মহিলাদের বাচ্চা প্রসবের পর এটি বেশি হয়ে থাকে।
  • অন্ত্রের অসুখের ফলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তা পায়ুপথের অভ্যন্তরীণ অংশকে নরম করে ফেলে, যার ফলে খুব সহজেই ছিঁড়ে যায় বা ফেটে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং নারী উভয়ের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ যতক্ষণ পর্যন্ত এর চিকিৎসা করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ভাল হয় না এবং বাড়তে থাকে।

উত্তরঃ রোগীকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে যাতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য না হয়। এছাড়া পায়ুপথ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। পায়ুপথ পরিষ্কারের জন্য পরিষ্কার, নরম প্যাড বা কাপড় এবং হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ঔষধ বা মলম ব্যবহার করা উচিৎ নয়।

উত্তরঃ এর চিকিৎসা নির্ভর করে এটি কতদিন আগে হয়েছে, এর ভয়াবহতা, এর সাথে আর কি ধরনের জটিলতা আছে তার উপর, তাই কতদিন ধরে ঔষধ খেতে হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতির লক্ষ্য করা যায়।

হেলথ টিপস্‌

কিছু কিছু বিষয় আছে তা মেনে চললে অ্যানাল ফিশারের অস্বস্তি কমে যায় এবং এটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়ঃ

  • প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে যা মলকে নরম রাখতে এবং গেজ ভাল হতে সাহায্য করে। প্রচুর আঁশযুক্ত খাবারের মধ্যে আছে ফলমূল, সবজি, বাদাম এবং প্রায় সব ধরনের শষ্য। আঁশযুক্ত খাবার অতিরিক্ত খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে এবং ফুলে যেতে পারে। তাই অল্প অল্প করে এটি খেতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
  • প্রায় প্রতিদিন ৩০ মিনিটের মত ব্যায়াম করতে হবে কারণ ব্যায়াম অন্ত্রের সক্রিয়তা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত সঞ্চালন করতে সাহায্য করে, যা অ্যানাল ফিশার ভাল হতে সাহায্য করে।
  • যদি শিশুদের এটা হয়ে থাকে তবে ঘন ঘন এদের ডায়াপার বদলে দিতে হবে, আক্রান্ত স্থান ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং এ বিষয় নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচোনা করতে হবে।
  • মলত্যাগের সময় চাপ প্রয়োগ করা উচিৎ নয়। মলত্যাগের সময় খুব বেশী চাপ প্রয়োগ করলে মলদ্বারের দেয়াল ছিড়ে যেতে পারে বা আগের ক্ষতস্থানে ছিদ্র দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ মামুন খাঁন

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(রাজঃ), পিজিটি(মেডিসিন),, সিসিডি বারডেম , সি-আল্ট্রা,, এফসিপিএস(সার্জারী),পিজি হাসপাতাল

ডাঃ নীলিমা জাহান

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী)

ডাঃ মোঃ আবু কাউছার সরকার

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এম বি বি এস, এফ সি পি এস(সার্জারী)

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সাইদুর রহমান (অবঃ)

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(সার্জারী)

মেজর জেনারেল ডাঃ এইচ. আর. হারুন

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery), ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস(ঢাকা), এফসিপিএস(বিডি), এফআরসিএস, ডি-ইউরোল

ডাঃ সেলিনা আক্তার

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এফসিপিএস, ডিএমএএস(ইন্ডিয়া), এফএমএএস(ওয়েলস)

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আশরাফ উদ্দিন

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস, এমসিপিএস(সার্জারী)

ডাঃ হরিদাস সাহা প্রতাপ

জেনারেল সার্জারী ( General Surgery)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(সার্জারী) , এমএস(জেনারেল সার্জারী)