অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (Amyotrophic lateral sclerosis (ALS))

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস হলো স্নায়ুতন্ত্রের রোগ যার ফলে আপনার মস্তিস্ক এবং স্পাইনাল কর্ডের নিউরন নামক নার্ভ সেল আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই নিউরন মস্তিস্ক এবং স্পাইনাল কর্ড থেকে স্বক্রিয় পেশী যেমনঃ আপনার হাত এবং পায়ে বার্তা পৌছে দেয়। প্রাথমিক পর্যায়ে অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস রোগের কারণে পেশীতে কমমাত্রায় সমস্যা দেখা দেয়।

এই রোগের কারণে ধীরে ধীরে শরীরের শক্তি কমে যায় এবং আপনার হাঁটাচলার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। বুকের পেশীর কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া কারণে আপনার শ্বাসকষ্ট হতে পারে। শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট কমানো যায় তবে অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী শ্বাসতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়ে যাওয়া কারণে মারা যায়।

সাধারনত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নে। এটি বংশগত হলেও যে কোনো ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। চিকিৎসার  মাধ্যমে এই সমস্যাটি সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা যায় না। ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এই রোগের উপসর্গ গুলোর তীব্রতা কমানো যায় এবং ঔষধ সেবনের মাধ্যমে মাঝে মাঝে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।                                                                                                                                                                                                                                                                                                

কারণ

গবেষকদের মতে কিছু কিছু সম্ভাব্য কারণে এই রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কারণগুলো নিম্নরূপঃ

  •  বিভিন্ন জেনিটিক মিউটেশনের (জেনিটিক পরিবর্তন) কারণে অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস হয়ে থাকে এবং এর সাথে বংশগত নয় এমন অ্যামাইওট্রোফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিসের মিল/সাদৃশ্য দেখা যায়।
  • এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিস্কে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গ্লুটামেট থাকে। এই গ্লুটামেট মস্তিস্কের রাসায়নিক বার্তাবাহক। এটি রোগীর স্পাইনাল ফ্লুইডের অভ্যন্তরে নার্ভ সেলের (স্নায়ু কোষ) আশেপাশে থাকে। কিছু কিছু নার্ভ সেলে অতিমাত্রায় গ্লুটামেট দেখা দিলে তা বিষ হিসাবে বিবেচিত হয়।                                                                                                                                                   
  • মাঝে মাঝে ব্যক্তির ইমিউন সিস্টেম তার শরীরের কিছু কিছু সুস্থ সেল গুলোকে আক্রমণ করে। যার ফলে নার্ভ সেল গুলো নষ্ট গুলো নষ্ট হয়ে যায়।                                                         
  • নার্ভ সেলে অতিরিক্ত প্রোটিন জমার কারণে সেলে (কোষ) এই প্রোটিন গুলো অস্বাভাবিক আকার ধারন করে। যার ফলে নার্ভ সেল গুলো নষ্ট হয়ে যায়।   

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুকিপূর্ণ বিষয়গুলো বর্ণনা করা হলোঃ

  • বংশগত কারণে ৫ থেকে ১০ ভাগ ব্যক্তির এই রোগ হয়ে থকে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্তানদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ ভাগ বেশি।
  • সাধারনত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সের ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • ৬৫ বছর বয়সের আগে মহিলাদের তুলনার পুরুষদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে ৭৫ বছর বয়সের পরে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি একই রকম থাকে।

পরিবেশগত কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমনঃ

  •  অধুমপায়ী ব্যক্তিদের তুলনায় ধুমপায়ী ব্যক্তিদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুনদীর্ঘদিন ধরে ধুমপান করার কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে ধুমপান পরিত্যাগ করার মাধ্যমে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
  • কিছু কিছু গবেষনায় প্রমানিত হয়েছে যে কর্মস্থলে সীসার সংস্পর্শে আসার কারণে এই সমস্যাটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • সম্প্রতি গবেষনায় দেখা গেছে যে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি। সেনাবাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের কি কারণে এই রোগ হয় তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি তবে নির্দিষ্ট কিছু ধাতু অথবা রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শ, ট্রমাটিক আঘাত ভাইরাস ইনফেকশন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রম করাকে এই রোগের কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।   

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ কম  

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ বর্তমানে এই রোগের কোনো চিকিৎসা নে। বিজ্ঞানীরা এই রোগ সৃষ্টিকারী জিন চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। এই রোগে আক্রান্ত মটর নিউরনগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করার জন্য সম্ভাব্য থেরাপির উপর কাজ করা হচ্ছে।                                                      

উত্তরঃ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিপুর্ন ব্যক্তিদেরকে সাধারনত সাধারন চিকিৎসক দেখে থাকেন। এরপর চিকিৎসকেরা এইধরনের রোগীদেরকে ডায়াগনোসিস এবং চিকিৎসার জন্য নিউরোলজিস্টের কাছে প্রেরন করেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা এই রোগের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং তত্বাবধায়ন করেন।                                                                                                                

হেলথ টিপস্‌

যদিও এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই তবুও কিছু বায়োমেডিকেল পদ্ধতি এবং পুষ্টি গ্রহনের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এফডিএ অনুমোদিত ঔষধ যেমনঃ রিলিউটেক এবং নিউরোনটিন অধিক জনপ্রিয়। পুষ্টিবিদদের মতে শরীরে সালফারের পরিমান বেড়ে যাওয়ার কারণে এই রোগ দেখা দেয়। সালফার কেন্দ্রিয়/প্রধান স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে। যার ফলে শরীরে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। সালফার অ্যান্টাগনিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সালফারের পরিমান কমানো যায়। যার ফলে রোগী সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তি পেতে পারেন।                                                                                                                                                                           

চিকিৎসকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উচ্চমাত্রায় গ্রহনের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। এই ভিটামিনগুলো হলো বেটা- ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই। স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি রোধে এই ভিটামিন গুলো কার্যকারী না হলে বিভিন্ন ভিটামিনের নির্দিষ্ট কিছু ককটেল ব্যবহার করা যেতে পারে।                                                                                                                                                                

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ (সবুজ)

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)