অ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস (Acute bronchitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ফুসফুসে যে ব্রঙ্কাই রয়েছে তা ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে প্রদাহের সৃষ্টি করলে ব্রঙ্কাইটিস হয়ে থাকে এবং তা বেশ কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ যাবৎ স্থায়ী থাকে। যে লক্ষণগুলো থেকে এই রোগটি চিহ্নিত করা হয় তা হলোঃ কাশি, কফ এবং আক্রান্ত শ্বাসনালীতে বাধা সৃষ্টির কারণে শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া। এই রোগটি সাধারণত ক্লিনিকাল এবং কফের জীবাণু পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় এবং লক্ষণের উপর ভিত্তি করে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগটি ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে। কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহার করার আগে, কফের জীবাণু পরীক্ষার মাধ্যমে এতে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ জানতে হবে।

কারণ

এই রোগটি সাধারণত শ্বাসযন্ত্রের উপরের অংশের ইনফেকশনের জন্য বেশি হয়ে থাকে। সাধারণ ঠান্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা উভয় থেকেই এটি হতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রে বোরডেটেলা পারটুসিস (Bordetella pertussis) নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত হুপিং কাশি হতেও এই রোগটি হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

amoxycillin amoxycillin + clavulanic acid
azithromycin beclomethasone dipropionate
budesonide doxycycline
erythromycin fluticasone
ibuprofen ipratropium bromide
levofloxacin hemihydrate paracetamol
prednisolone tetracycline
theophylline sodium glycinate

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

এক্স-রে, চেস্ট পি-এ ভিউ (X-ray, Chest P/A view)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
পালমোনারী ফাংশন টেস্ট (Pulmonary function test)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সেগুলি হল-

  • যারা ধূমপান করে এবং যারা ধূমপায়ীর সাথে বসবাস করে তাদের এ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস উভয়ই হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
  • বিভিন্ন রোগ যেগুলো এ্যাকিউট পর্যায়ে গেছে যেমন সাধারণ ঠান্ডা এবং যার জন্য শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এসব কারণে প্রাপ্তবয়স্ক, নবজাতক এবং শিশুদের ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের কারখানা এবং টেক্সটাইলে কাজ করার জন্য এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • ঘন ঘন বুক জ্বালাপোড়া গলার প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে, যার কারণে ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত  হবার ঝুঁকি বেড়ে  যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যেই এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এবং কৃষ্ণাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরপক্ষে, হিস্পানিক এবং অন্যান্যদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয় তবে প্রায় সব ধরণের ইনফেকশনের কারণেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণেও রোগী মারা যেতে পারে।

উত্তরঃ নিয়মিত হাত ধোয়া এই রোগের বিস্তার রোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। মুখের কাছে হাত দিয়ে কাশি দেয়া উচিৎ না। কাশি দেওয়ার সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে।

উত্তরঃ এ্যাকিউট ব্রঙ্কাইটিস সাধারণত ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে এবং এর চিকিৎসা রয়েছে তাই এটি খুব বেশি গুরুতর নয়। তবে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস জীবন নাশক হতে পারে। এটি দিন দিন বাড়তে থাকে এবং এটি সহজে নিরাময়যোগ্য নয়, তাই এক্ষেত্রে ধূমপান ত্যাগ করা উচিৎ।

হেলথ টিপস্‌

এই রোগের কারণে যে সমস্যা হয় তা থেকে মুক্তির জন্য নিম্নলিখিত উপায়ে নিজের খেয়াল রাখতে হবে-

  • ধূমপান পরিহার করতে হবে।
  • ঘর-বাড়ি পরিষ্কারের সময় বা যেখানে ধূলা-ময়লা আছে সেখানে গেলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
  • ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য হিটার ব্যবহার করতে হবে যা কাশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং শ্বাসনালীতে মিউকাস জমতে বাধা দেয়।
  • শীতকালে বাহিরে বের হওয়ার সময় মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে কারণ ঠাণ্ডা বাতাস কাশির প্রকোপ বাড়িয়ে দেয় এবং শ্বাসকষ্ট হয়।

ব্রঙ্কাইটিসের ঝুঁকি কমাতে নিম্নলিখিত উপায়গুলো অনুসরণ করতে হবেঃ

  • নিয়মিত ভ্যাক্সিন বা প্রতিষেধক নিতে হবে।
  • নিয়মিত হাত ধোয়া বা পরিষ্কার করার জেল (Hand Sanitizers) দিয়ে হাত ধুতে হবে।
  • যাদের ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ আছে তাদের বাইরে বা ভিড়ের মধ্যে যাওয়ার আগে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম

মেডিসিন ( Medicine), কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

এমবিবিএস(স্বাস্থ্য), এমডি(কার্ডিওলজী), এফসিপিএস(মেডিসিন)

ডাঃ জামাল উদ্দিন আহমেদ

মেডিসিন ( Medicine), ডায়াবেটোলজিষ্ট ( Diabetologist)

এমবিবিএস(ডিএমসি)- গোল্ড মেডালিস্ট, এফসিপিএস(মেডিসিন), সিসিডি(ডায়াবেটোলজী)

ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম

পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

এমবিবিএস(ঢাকা),, ডিটিসিডি(ঢাঃবি), , এফসিপিএস(আমেরিকা), , এফএ আইটি(কোরিয়া), , ডাব্লিউ এইচও ফেলো (ফ্রান্স,ইউকে)

প্রফেসর ডাঃ এ.কে.এম. মূসা

মেডিসিন ( Medicine), পালমোনোলজি ( ফুসফুস) ( Pulmonology)

এবিবিএস(ডিএমসি), এফসিপিএস(মেডিসিন), এমসিপিএস(মেডিসিন), ডিটিসিডি গোন্ড মেডালিষ্ট (এফসিপিএস)

ডাঃ মোঃ মামনুর রশীদ

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস (ঢাকা) , বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (মেডিসিন)

অধ্যাপক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস,, এফসিপিএস(মেডিসিন), , এফআরসিপি(ইউকে), , এফসিপিএস(ইউএসএ)

ডাঃ মোঃ এ, এস, আর খান

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস(ঢাকা),

ডাঃ মোঃ কবীরউজ জামান

মেডিসিন ( Medicine), গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

এমবিবিএস, , এমসিপিএস, , এফসিজিপি(ইউএসএ)