অ্যাবসেস অফ দি ফ্যারিংস / গলবিলের ফোঁড়া (Abscess of the pharynx)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

শরীরের নির্দিষ্ট কিছু স্থান ইনফেকশনে আক্রান্ত হবার পরে সেখানে পুঁজ অথবা মৃত সাদা রক্ত কোষে পূর্ন হওয়াকে যখন গলবিলে হয় তখন তাকে গলবিলের বলে। গলবিলে ফোড়া হওয়ার কারণে গলায় মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি হয়, গলার লিম্ফ নোডস বা লসিকা গ্রন্থি বড় হয়ে যায় ঘাড় শক্ত হয়ে যায় এবংগলবিল ফুলে যায়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়ই ঘাড় অথবা চোয়ালে ব্যথা হয়, আক্রান্ত স্থানে ব্যাথাযুক্ত পিন্ড দেখা যায়, কন্ঠস্বর চাপা হয়ে যায় এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরে। এই রোগের কারণে শ্বাস কষ্ট, মাথাব্যথা, জ্বর এবং গলায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে এই রোগের কারণে আরো অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিয়ম মেনে ব্যথা উপশমকারী ঔষধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যথা এবং ইনফেকশন নিরাময় করা সম্ভব। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের বায়ুপথ সংকীর্ণ হয়ে যায়। যার কারণে রোগীর শ্বাসকষ্ট হয়। এই ধরনের রোগীদেরকে অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়। এই রোগের কারণে রোগীর গলা ফুলে যায়। যার ফলে খাবার গিলতে সমস্যা হয়। এই সমস্যায় রোগীদেরকে ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড বা আইভি ফ্লুইড দেয়া স্যালাইন প্রদান করা হয়। সার্জারির (অপারেশন) মাধ্যমেও আক্রান্ত স্থানের পুঁজ অপসারন করা যেতে পারে। 

কারণ

বেশিভাগ সময়ই এটা ব্যাক্টেরিয়ার ইনফেকশনের কারণে হয় এবং এই ইনফেকশন টন্সিল বেশিভাগ সময়ই ব্যাক্টেরিয়ার ইনফেকশনের কারণে থাকে এবং এই ইনফেকশন টন্সিল নাক এবং লালাগ্রন্থি থেকে সূত্রপাত হয়। দাঁতের ইন ফেকশনের কারনেও এই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। উপরিভাগের শ্বাসনালীতে ট্রমা বা আঘাত লাগার কারণেও গলবিলে ফোড়া হয়। গলাতে ধারালো বস্তু এমনকি খাবার প্রবেশের ফলে গলাতে আঘাত লাগে যার কারণে আঘাত প্রাপ্ত স্থানটি পুঁজে পূর্ন হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। মাঝে মাঝে চিকিৎসা পদ্ধতির কারণেও গলবিলে ফোড়া হতে পারে যেমনঃ গলাতে খাবার খাওয়ানোর জন্য টিঊব প্রবেশ করানো, মাথা এবং ঘাড়ের সার্জারি, এন্ডোস্কপি এবং দাঁতের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি যেমনঃ দাঁত উঠানো এবং অন্যান্য কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এন্ডোস্কপি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে ইসোফেগাস এবং গলবিলের অস্বাভাবিকতা বা সমস্যার চিকিৎসার জন্যে গলার ভিতরে সরু নল ঢুকানো হয়। এই নলের সাথে একটি ক্যামেরা এবং অন্যান্য যন্ত্র যুক্ত থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, ইমিউন ডিসফাংশন এবং নিম্নমানের আর্থসামাজিক অবস্থার কারণেও গলবিলে ফোড়া হতে পারে ।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

গলবিলে ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি পূর্ন বিষয়গুলো নিম্নরূপঃ

  • গলবিলে বাহ্যিক কোনো বস্তুর প্রবেশ
  • ফ্যারিংসের পেছনের দেয়ালে আঘাত লাগা
  • দাঁতের ইনফেকশন
  • ডায়াবেটিস মেলাইটাস
  • পুরুষদের এই রোগ হবার ঝুঁকি বেশি
  • অ্যাডেনোটনসিলেকটমি

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ,হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুন বেশি।

হেলথ টিপস্‌

রেসপিরেটরী ট্র্যাক (শ্বাসনালী) এর ইনফেকশন চিকিৎসা করার মাধ্যমে গলবিলে ফোড়া রোগটি নিরাময় করা সম্ভব। খাবার সম্পূর্নভাবে চিবিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে গলার আঘাত দূর করা সম্ভব। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা এই রোগ নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে।                                                                                                               

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ নাজমুল ইসলাম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবুল হাসনাত জোয়ার্দার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: মনজুরুল আলম

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: নাসিমা আক্তার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: মো: আবু হানিফ

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: খোরশেদ মজুমদার

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)

প্রফেসর ডা: এম. আলমগীর চৌধুরী

অটোল্যারিঙ্গোলজি ( নাক, কান, গলা) ( Otolaryngology)