অড়হড় ডাল (ভাঙ্গা) এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

অড়হড় ডাল (ভাঙ্গা)

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
ডায়াবেটিস (Diabetes)

অড়হর ডালের গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (glycemic index)  মাত্রা বেশ কম। গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (glycemic index) রক্তে সুগারের মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে যেসব খাবা্রে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (glycemic index) পরিমাণে কম থাকে সেসব খাবা সুগারের মাত্রা কমায় অপরদিকে, যেসব খাবার গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (glycemic index) অধিক পরিমাণ থাকে  সেসব খাবার সুগারের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে সুতরাং, দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় অড়হর ডালের পরিমান অধিক থাকলে, সেটা রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

 

স্পাইনা বিফিডা (Spina bifida)

অড়হর ডাল ফলিক এসিড( folic acid) সমৃদ্ধ, এই ডাল নারীদের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে সেইসব নারীদের জন্য যারা গর্ভবতী হবার পরিকল্পনা করছেন ফলিক এসিড (folic acid) ভ্রুনের উন্নতিসাধন করে এবং স্পিনা বিফিডা (spina bifida) নামক নিউরাল টিউবের ত্রুটি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফ হেলথ (New York State Department of Health) এর মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমান ফলিক এসিড (folic acid) থাকলে, জন্মের সময় মস্তিস্ক ও স্পাইনাল কর্ডজনিত ত্রুটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।   

স্থূলতা (Obesity)

ফাইবার বা খাদ্য আঁশ প্রোটিন সমৃদ্ধ অড়হর ডাল ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এই খাবার অল্প পরিমানে গ্রহন করলেই অতি দ্রুত ক্ষুধা নিবারণ হয়। অড়হর ডালে ভিটামিন বি-, বি-, কে, ফলেট (folate), ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান রয়েছে, এই সবগুলোই ফ্যাটমুক্ত এবং নিরামিষ গ্রহণকারীদের জন্য এই ডাল প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস এতে ক্যালরির পরিমান অনেক কম এবং এতে এক ধরনের যৌগিক কার্বোহাইড্রে থাকে যা শরীরে শক্তি উৎপন্ন করে এই ডাল রান্না করে সালা, সুপ, এমনকি বার্গারের সাথে খাওয়া যেতে পারে

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable bowel syndrome)

অড়হর ডালে বিদ্যমান দ্রবনীয় ফাইবার ইরিটেবল বাওল সিন্ড্রোম (Irritable Bowel Syndrome) , ডাইভারটিকুলোসিস (diverticulosis) ইত্যাদি হজমজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। যারা আইবিএস (IBS) রোগে ভুগছেন, তাদের কে চিকিৎসকরা অদ্রবনীয় ফাইবারের তুলনায় অধিক পরিমানে দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহনের পরামর্শ দেন কারন, এটা মল তৈরি ও ত্যাগ করতে সাহায্য করে

হৃদরোগ

অড়হর ডাল হার্টের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজের (cardiovascular diseases) সম্ভাবনা কমাতে দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় অড়হর ডাল রাখা ভালোএতে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।অড়হর ডালে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে এবং দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এই ডাল যোগ করলে অনেক উপকারিতা পাওয়া যায়। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম রয়েছে। অড়হর ডালে বিদ্যমান পটাসিয়াম, রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অড়হর ডাল, মসূর ডাল, মটরশুঁটি, কলাইয়ের ডাল ইত্যাদি ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।অড়হর ডাল হার্টের জন্য খুব উপকারী কারণ রক্তনালীর উপরে প্লাক (plaque) গঠনে বাঁধা প্রদান করে এবং কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ (cardiovascular diseases) থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এই ডালে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।অড়হর ডালে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম থাকে যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (hypertension) এর ফলে হৃদরোগ হতে পারে। এছাড়াও এতে ট্রিপটোফেন (tryptophan) নামের এক ধরনের অ্যামাইনো এসিড (amino acid) রয়েছে যা শরীরে সেরোটনিন (serotonin) তৈরি করে প্রতিদিনের ঘুম ও মেজাজ ঠিক রাখতে সাহায্য করে

সালফাইটের প্রতি সংবেদনশীলতা কমিয়ে আনে

দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথা ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব ইত্যাদি সালফাইটের প্রতি সংবেদনশীলতা রোগের লক্ষন, এই লক্ষণগুলো সালফাইটযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। বেক (baked) করা খাবার, জ্যাম, পটেটো চিপ্স, সিরাপ, স্টার্চ, ভিনেগার, ইত্যাদি খাবার অনেকদিন ভালো রাখার জন্য সাধারনত সালফাইটকে প্রিজারভেটিভ (preservatives) হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। বিশেষ করে যারা অ্যাজমা রোগে ভুগছেন তাদের সালফাইটের প্রতি সংবেদনশীলতা রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।অড়হর ডালে, মলিবডেনাম নামের ট্রেস খনিজ লবণ (trace mineral) রয়েছে, এই উপাদান সালফাইটের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। রান্না করা অড়হর ডাল দিনে দুইবার এক কাপ পরিমাণে খেলে এই খনিজ লবণ (মোলিবডেনাম) এর ঘাটতি পূরণ হয়।

 

যার জন্য অপকারি কারণ
অ্যালার্জি (Allergy)

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ডাল নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। যদি কোন ব্যক্তির বীজ বা বীচি জাতীয় খাবারে আলার্জি থাকে তাহলে এই ডাল খাবার পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে সুরক্ষা পেতে হলে এই ডাল অধিক পরিমানে গ্রহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে

কিডনী ডিজিজ

পটাশিয়াম, ম্যাগশিয়ায়ম,ফসফরাসের পরিমান বেশি থাকে যা রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১ কাপ

ক্যালরি: ৩৩৫ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ৬২.৭৮ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১.৪৯ গ্রাম
  • ভিটামিন এ: ২৮ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)
  • প্রোটিন: ২১.৭ গ্রাম
  • পানি: ১০.৫৯ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ১৫ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.৩৩ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.৩০৭ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০২৪ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০১২ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.০১২ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.৮১৪ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.৭৭৮ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.০৩৫ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.৬৪৩ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.১৮৭ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ২.৯৬৫ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ১.২৬৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.২৮৩ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৪৫৬ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- এ,আর-এ-ই (RAE): ১ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ১৭ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ১৩৯২ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১৩০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৩৬৭ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ১৮৩ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ৫.২৩ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ২.৭৬ মিলিগ্রাম
  • সেলেনিয়াম (Se): ৮.২ মিলিগ্রাম
  • তামা (Cu): ১.০৫৭ মিলিগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ১.৭৯১ মিলিগ্রাম
  • মিথিয়োনিন: ০.২৪৩ গ্রাম
  • আইসোলিউসিন: ০.৭৮৫ গ্রাম
  • লিউসিন: ১.৫৪৯ গ্রাম
  • লাইসিন: ১.৫২১ গ্রাম
  • ফিনাইলএলানিন: ১.৮৫৮ গ্রাম
  • থ্রিয়োনিন: ০.৭৬৭ গ্রাম
  • ট্রিপটোফেন: ০.২১২ গ্রাম
  • ভেলিন: ০.৯৩৭ গ্রাম
  • হিস্টিডিন: ০.৭৭৪ গ্রাম
  • আরজিনিন: ১.২৯৯ গ্রাম
  • গ্লাইসিন: ০.৮০২ গ্রাম
  • এলানিন: ০.৯৭২ গ্রাম
  • সিরিন: ১.০২৮ গ্রাম
  • সিস্টিন: ০.২৫ গ্রাম
  • এসপারটিক এসিড: ২.১৪৬ গ্রাম
  • গ্লুটামিক এসিড: ৫.০৩১ গ্রাম
  • টাইরোসিন: ০.৫৩৮ গ্রাম
  • প্রোলিন: ০.৯৫৫ গ্রাম
  • অ্যাশ: ৩.৪৫ গ্রাম