নিম পাতা সবুজ এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

নিম পাতা সবুজ

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
ব্রণ (Acne)

নিম পাতাতে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং মাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করে নিম পাতা সাধারনত ত্বকের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়  কিন্তু এর অন্যান্য ব্যবহারও রয়েছে।

সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (Seborrheic dermatitis)

নিম পাতায় ফাঙ্গাস ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান থাকার জন্য শ্যাম্পু এবং মাথার ত্বক পরিষ্কারককে এটি ব্যবহৃত হয়।এটি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রা্খে এবং খুশকি দূর করে।এছাড়াও এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  থাকায় এটি চুলের ফলিকলস কে স্বাভাবিক রাখে। চুল গজানো এবং মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস বা টাক পড়া প্রতিরোধ করার জন্য  এটি ব্যবহার করা হয়।

ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য (Chronic constipation)

নিম পাতা পরিপাকনালীর জ্বালা-পোড়া বা প্রদাহ নিয়ন্ত্রনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে,এর ফলে নিম ব্যবহারের মাধ্যমে আলসার,কোষ্ঠকাঠিন্য,পেট ফাপা এবং পেট কামড়ানোর মত রোগ গুলোকে নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।এটি স্টমাক ফ্লু বা পাকস্থলীর প্রদাহ নিরাময় করতে এবং অন্ত্রে অবস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস (Diabetes)

নিম কি উপায়ে  আমাদের শরীরের জন্য উপাকারি তা জানা যায়নি কিন্তু শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।আমাদের শরীরে যে ইনসুলিন রিসেপ্টর রয়েছে নিম সেগুলো কে সক্রিয় করে তোলে এবং শরীরে ইনসুলিনের সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয়। ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগীরা নিম ব্যাবহার করে ইনসুলিনের  উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে পারেন।

ম্যালেরিয়া (Malaria)

নিমের উপর বেশ কিছু গবেষনায় দেখা গেছে যে,এটা ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষন গুলো নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে এবং রোগের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনে।কিন্তু নিমের সবচেয়ে পরিচিত গুন হচ্ছে এটা প্রাকৃতিক মশা,মাছি এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়রোধক এবং এটি কোন বিষক্রিয়া ব্যতীত মশা তাড়াতে সাহায্য করে।এজন্যই নিম ম্যালেরিয়া জীবানুবাহী মশা তাড়াতে সাহায্য করে

যৌনাঙ্গে হার্পিস (Genital herpes)

নিম হচ্ছে প্রাকৃতিক জন্মনিরোধক উপাদান। এটি পুরূষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই যেমনঃ যৌনাকাঙ্খার উপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে আনাকাঙ্খিত গর্ভধারনের ঝুঁকি কমায়।এছাড়াও নিম যৌনরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফোঁড়া

নিম পাতাতে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং মাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করে নিম পাতা সাধারনত ত্বকের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়  কিন্তু এর অন্যান্য ব্যবহারও রয়েছে।

ক্যান্সার

নিম পাতাতে আছে উচ্চ মাত্রায় পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিওক্সিডেন্ট,ভিটামিন-সি পানিতে দ্রবনীয় অ্যান্টিওক্সিডেন্ট মানব দেহ  কে ফ্রি-্যাডিকেল বা মুক্ত মুলক থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।প্রকৃতিকভাবেই এই ফ্রি-্যাডিকেলগুলো একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।অ্যান্টিওক্সিডেন্ট দ্বারা যদি এই ফ্রি-্যাডিকেলগুলো  নিয়ন্ত্রন করা যায়, এই ফ্রি ্যাডিকেল মানবদেহের কোষের উপর বিরূপ ক্রিয়া সৃষ্টি করেফলাফলস্বরূপ ক্যান্সার এবং হৃদরোগের মত মারাত্মক রোগ দেখা যায়।

যার জন্য অপকারি কারণ
পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা,ফুসফুস বা কিডনী সমস্যা

নিম পাতার কিছু খারাপ দিক রয়েছে। এটা নবজাতকদের সংস্পর্শের বাইরে রাখতে হবে। যারা নিয়মিত বা অনিয়মিত পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে অবশ্যই নিম পাতা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়াও ফুসফুস বা কিডনী সমস্যায় আক্রান্তদের নিম পাতা এড়িয়ে চলতে হবে। সর্বশেষে, যারা গর্ভবতী বা যারা সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন তাদেরকেও নিম পাতা এড়িয়ে চলতে হবে।   

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ২.৫ কাপ

ক্যালরি: ১৫৮ কিলোক্যালরি

  • শর্করা: ২১.২ গ্রাম
  • ফ্যাট: ৩ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ১০৪ মিলিগ্রাম
  • প্রোটিন: ১১.৬ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • আঁশ: ২.২ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০৬ মিলিগ্রাম
  • ক্যারোটিনয়েডস: ২৭৬০ মাইক্রোগ্রাম
  • সোডিয়াম: ৭২.২ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ২৫৪ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১৩০ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ১৯০ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ১২৭ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ২৫.৩ মিলিগ্রাম
  • তামা (Cu): ৬০০ মাইক্রোগ্রাম
  • অ্যাশ: ২.৬ গ্রাম
  • জলীয় অংশ: ৫৯.৪ গ্রাম