দারচিনি এর বর্ণনা


শেয়ার করুন

দারচিনি

উপকারিতা ও অপকারিতা

যার জন্য উপকারী কারণ
ডায়াবেটিস (Diabetes)

দারচিনি রক্তের সুগার লেভেল কমায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে।এই মশলা বীট ইন্সুলিন প্রতিরোধে সাহায্য করে শরীরে ইন্সুলিনের কার্যকলাপ স্বাভাবিক রাখে

করোনারী অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Coronary atherosclerosis) এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহয্য করে।এলডিএল(LDL) ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নামে পরচিত।এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ক্রনিক আলসার (Chronic ulcer)

এটি প্রাকৃতিকভাবেই ইনফেকশন প্রতিরোধী।কিছু গবেষনায় দেখা গেছে যে, দারচিনি এইচ.পাইলোরি(H.pylori) ব্যকটেরিয়া এবং অন্যান্য প্যাথোজেনের বিরূদ্ধে কাজ করে আলসার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis)

এটি আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করে।

নারী বন্ধ্যাত্ব (Female infertility)

এটি মাসিকের ব্যথ্যা এবং বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধের জন্য কার্যকরভাবে প্রমানিত হয়েছে।দারচিনি প্রোজেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি এবং হরমোনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।দারচিনিতে সিনামেলাডিহাইড্রেট নামক প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান আছে যা মহিলাদের টেস্টসটেরনের উৎপাদ কমায়।

অ্যালঝেইমার ডিজিজ (Alzheimer's disease)

ব্যথা বা প্রদাহরোধী উপাদানগুলো দারচিনিতে আছে যা স্নায়তন্ত্রকে ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।প্রতিদিন আমরা যে সকল মশলা ব্যবহার করি তার মধ্যে দারচিনি হলো এমন একটি মশলা যা নিউওরোডিজেনারেটিভ রোগের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে।গবেষকেরা মনে করেন যে এই উপাদান গুলো স্নায়বিক প্রদাহকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম

পারকিনসন্স ডিজিজ (Parkinson disease)

ব্যথা বা প্রদাহরোধী উপাদানগুলো দারচিনিতে আছে যা স্নায়তন্ত্রকে ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।প্রতিদিন আমরা যে সকল মশলা ব্যবহার করি তার মধ্যে দারচিনি হলো এমন একটি মশলা যা নিউওরোডিজেনারেটিভ রোগের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে।গবেষকেরা মনে করেন যে এই উপাদান গুলো স্নায়বিক প্রদাহকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম

লিম্ফোমা (Lymphoma)

দারচিনি এই রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লিউকেমিয়া/ব্লাড ক্যান্সার (Leukemia) দারচিনি এই রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
ডিসলিপিডিমিয়া

এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহয্য করে।এলডিএল(LDL) ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নামে পরচিত।এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ক্যান্সার

দারচিনিতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে,যা শরীরে উপস্থিত ফ্রি-র‍্যাডিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেহকে সুরক্ষা প্রদান করে।

ব্রেইন টিউমার

ব্যথা বা প্রদাহরোধী উপাদানগুলো দারচিনিতে আছে যা স্নায়তন্ত্রকে ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।প্রতিদিন আমরা যে সকল মশলা ব্যবহার করি তার মধ্যে দারচিনি হলো এমন একটি মশলা যা নিউওরোডিজেনারেটিভ রোগের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে।গবেষকেরা মনে করেন যে এই উপাদান গুলো স্নায়বিক প্রদাহকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম

ব্রেইন টিউমার
ব্যথা বা প্রদাহরোধী উপাদানগুলো দারচিনিতে আছে যা স্নায়তন্ত্রকে ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।প্রতিদিন আমরা যে সকল মশলা ব্যবহার করি তার মধ্যে দারচিনি হলো এমন একটি মশলা যা নিউওরোডিজেনারেটিভ রোগের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে।গবেষকেরা মনে করেন যে এই উপাদান গুলো স্নায়বিক প্রদাহকে নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম
যার জন্য অপকারি কারণ
প্রসবের পূর্বে অধিক বেদনা অনুভূত হওয়া

বদহজম পেটে ব্যথা কমানোর জন্য গর্ভবতী নারীদের দারচিনি গ্রহণ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু গর্ভাবস্থায় দারচিনি কম গ্রহণ করা উচিৎ কার এটা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে জরায়ুর সংকোচন দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এর ফলে প্রসবের পূর্বে অধিক বেদনা অনুভূত হতে পারে।

লিভার ফেইল

দারচিনিতে ভাগ কোমারিন (Coumarin) জাতীয় উপাদান রয়েছে যা অধিক পরিমাণে গ্রহণের ফলে লিভার ফেইল (liver failure) হতে পারে।

রক্ত পাতলা করে দিতে পারে

দারচিনি শরীরের রক্ত পাতলা করে দিতে পারে। এটা অনেক ক্ষেত্রে ভালো হলেও মাঝে মাঝে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার জন্য ঔষধ সেবন করছেন তাদেরকে এটা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

ত্বকে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া

দারচিনির তেল ত্বকে লাগালে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি হতে পারে। এই তেল হাতে থাকা অবস্থায় যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে মারাত্মক আকারে জ্বালাপোড়া হতে পারে।  

হৃদ-স্পন্দন

যারা হৃদপিণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে দারচিনি এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এটা অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে হৃদ-স্পন্দন বাড়িয়ে দিতে পারে। এটা শিশুদের ক্ষেত্রেও হতে পারে।

গলায় আটকে যেতে পারে

শিশু-কিশোরেরা অধিক পরিমাণে দারচিনির গুড়ো গ্রহণ করলে এটা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্য কোন খাবার বা পানির সাথে মিশ্রণ না করে শুধুমাত্র দারচিনির গুড়ো গ্রহণ করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অধিক পরিমাণে দারচিনির গুড়ো ফুসফুসে ঢুকলে মারাত্মক আকারে বুকের ইনফেকশন হতে পারে। এর ফলে ফুসফুস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

পাকস্থলীর প্রাচীরে অস্বস্তি ভাব দেখা দিতে পারে

অধিক পরিমাণে দারচিনি গ্রহণ করলে পাকস্থলীর প্রাচীরে অস্বস্তি ভাব দেখা দিতে পারে। যারা পাকস্থলীতে আলসার জনিত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগছেন তাদের ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে দারচিনি গ্রহণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মুখের ভিতরে প্রদাহ হতে পারে

অধিক পরিমাণে দারচিনি গ্রহণ করলে মুখের ভিতরে আলসার হতে পারে। দারচিনির তেল ব্যাবহারের ফলে মিউকাস মেমব্রেনে অস্বস্তিকর অবস্থা দেখা দিতে পারে।  

রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে দেয়

দারচিনি রক্তে সুগারের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এটা ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য একটি জটিল সমস্যা কারণ, তাদেরকে সুগারের দিকে সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হয়। নিম্ন রক্তচাপ থাকাকালীন সময়ে দারচিনি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।  

মাথাঘোরা অথবা শ্বাসকার্যে অসুবিধা দেখা দিতে পারে

অধিক পরিমাণে দারচিনির তেল গ্রহণ করলে অসাড়তা শ্বাসকার্যে অসুবিধা দেখা যায়।  

সারমর্ম

পুষ্টিতথ্য

  • পরিবেশন আকার: ১০০ গ্রাম
  • পরিবেষনার ধরন: ১৩ টেবিল চামচ

ক্যালরি: ২৪৭ কিলোক্যালরি

  • সুগার: ২.১৭ গ্রাম
  • শর্করা: ৮০.৫৯ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১.২৪ গ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৩.৮ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন এ: ২৯৫ I.U. (আন্তর্জাতিক একক)
  • প্রোটিন: ৩.৯৯ গ্রাম
  • পানি: ১০.৫৮ গ্রাম

খাদ্য পুষ্টি

  • গ্লুকোজ: ১.০৪ গ্রাম
  • ফ্রুক্টোজ: ১.১১ গ্রাম
  • সুক্রোজ: ০.০২ গ্রাম
  • আঁশ: ৫৩.১ গ্রাম
  • স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.৩৪৫ গ্রাম
  • ডেকানয়িক এসিড: ০.০০৩ গ্রাম
  • হেপ্টাডেকানয়িক এসিড: ০.১৩৬ গ্রাম
  • হেক্সাডেকানয়িক এসিড: ০.১০৪ গ্রাম
  • অক্টাডেকানয়িক এসিড: ০.০৮২ গ্রাম
  • টেট্রাডেকানয়িক এসিড: ০.০০৯ গ্রাম
  • মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.২৪৬ গ্রাম
  • সিস-অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.২৪৬ গ্রাম
  • হেক্সাডেসিনয়িক: ০.০০১ গ্রাম
  • অক্টাডেসিনয়িক এসিড: ০.২৪৬ গ্রাম
  • পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড: ০.০৬৮ গ্রাম
  • সিস-সিস-সিস-অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এন-৩ এসিড: ০.০১১ গ্রাম
  • অক্টাডেকাডিইনয়িক এসিড: ০.০৪৪ গ্রাম
  • অক্টাডেকাট্রিইনয়িক এসিড: ০.০১১ গ্রাম
  • ডোডেক্যানয়িক এসিড: ০.০০৬ গ্রাম
  • ভিটামিন- বি-১ (থায়ামিন): ০.০২২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-২ (রিবোফ্ল্যাভিন): ০.০৪১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৩ (নায়াসিন): ১.৩৩২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৫ (প্যান্টোথিনিক এসিড): ০.৩৫৮ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- বি-৬: ০.১৫৮ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- ই: ২.৩২ মিলিগ্রাম
  • টোকোফেরলস: ১৩.০২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন- কে: ৩১.২ মাইক্রোগ্রাম
  • কোলিন: ১১ মিলিগ্রাম
  • লাইকোপেন: ১৫ মাইক্রোগ্রাম
  • ফোলেট: ৬ মাইক্রোগ্রাম
  • ভিটামিন- এ,আর-এ-ই (RAE): ১৫ মাইক্রোগ্রাম
  • লুটিন + জিয়েজ্যানথিন: ২২২ মাইক্রোগ্রাম
  • বেটা-ক্যারোটিন: ১১২ মাইক্রোগ্রাম
  • ক্রিপটোজ্যানথিন,বেটা: ১২৯ মাইক্রোগ্রাম
  • আলফা-ক্যারোটিন: ১ মাইক্রোগ্রাম
  • বেটাইন: ৩.৯ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম: ১০ মিলিগ্রাম
  • পটাসিয়াম (K): ৪৩১ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম (Ca): ১০০২ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস (P): ৬৪ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম (Mg): ৬০ মিলিগ্রাম
  • লৌহ: ৮.৩২ মিলিগ্রাম
  • জিংক (Zn): ১.৮৩ মিলিগ্রাম
  • সেলেনিয়াম (Se): ৩.১ মাইক্রোগ্রাম
  • তামা (Cu): ০.৩৩৯ মিলিগ্রাম
  • ম্যাঙ্গানিজ (Mn): ১৭.৪৬৬ মিলিগ্রাম
  • মিথিয়োনিন: ০.০৭৮ গ্রাম
  • আইসোলিউসিন: ০.১৪৬ গ্রাম
  • লিউসিন: ০.২৫৩ গ্রাম
  • লাইসিন: ০.২৪৩ গ্রাম
  • ফিনাইলএলানিন: ০.১৪৬ গ্রাম
  • থ্রিয়োনিন: ০.১৩৬ গ্রাম
  • ট্রিপটোফেন: ০.০৪৯ গ্রাম
  • ভেলিন: ০.২২৪ গ্রাম
  • হিস্টিডিন: ০.১১৭ গ্রাম
  • আরজিনিন: ০.১৬৬ গ্রাম
  • গ্লাইসিন: ০.১৯৫ গ্রাম
  • এলানিন: ০.১৬৬ গ্রাম
  • সিরিন: ০.১৯৫ গ্রাম
  • সিস্টিন: ০.০৫৮ গ্রাম
  • এসপারটিক এসিড: ০.৪৩৮ গ্রাম
  • গ্লুটামিক এসিড: ০.৩৭ গ্রাম
  • টাইরোসিন: ০.১৩৬ গ্রাম
  • প্রোলিন: ০.৪১৯ গ্রাম
  • অ্যাশ: ৩.৬ গ্রাম
  • ফাইটোস্টেরল: ২৬ মিলিগ্রাম